বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৩৯ পি.এম
ভারত জাতিসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন ও আশ্রয় দেওয়ার জন্য আবারও তীব্র সমালোচনা করেছে। দিল্লি বিশ্ব সম্প্রদায়কে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কোনো অখ্যাত সীমান্ত এলাকায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের বসতিতে অবস্থান করে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পারভাথানেনি ৯/১১ হামলার সাথে জড়িত আল-কায়দা নেতাদের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওসামা বিন লাদেন, খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও রামজি বিনালশিবদের মতো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীরা কোনো দুর্গম পাহাড়ে নয়, বরং পাকিস্তানের জনবহুল শহরাঞ্চলে অবস্থান করছিল। তিনি ২০১১ সালে অ্যাবোটাবাদে মার্কিন অভিযানে ওসামা বিন লাদেন নিহত হওয়ার ঘটনাটি উল্লেখ করে বলেন, সন্ত্রাসবাদের এই মূল হোতারা দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষায় লোকালয়ে আশ্রয় পেয়েছিল।
হরিশ পারভাথানেনি সতর্ক করে বলেন, অতীতে আল-কায়দাকে প্রশ্রয় দেওয়া সেই একই পরিবেশ বর্তমানে লস্কর-ই-তৈবা এবং জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো গোষ্ঠীগুলোকেও আশ্রয় ও দায়মুক্তি দিয়ে চলেছে। তিনি জানান, এই গোষ্ঠীগুলো নাম বদলে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর চেষ্টা করছে। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর আওতায় ভারতীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে এসব সংগঠনের প্রশিক্ষণ শিবির ও অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছিল।
ভারতীয় প্রতিনিধি জাতিসংঘে জোর দিয়ে বলেন, যাতে কোনো দেশ বা সাধারণ মানুষ নতুন করে সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হয়, সেজন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সব ধরনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিরতরে বন্ধ করে দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইডেনের সংসদ নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থী বিরোধী জোট, ক্ষমতাসীন ডানপন্থী জোটকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেছে। বুধবার দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসভিটি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে এই ফলাফল সামনে এসেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত দুই দলের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ২৬ হাজার ১৬৯টি। এখনও ১ শতাংশেরও কম নির্বাচনী এলাকার ভোট গণনা বাকি রয়েছে। তবে বিরোধী দলীয় নেতা এবং সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নেতা ম্যাগদালেনা আন্দেরসনের নেতৃত্বাধীন দলগুলো ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে ১৭৫টি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে দেশটির সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এসভিটি জানিয়েছে, ‘এই পর্যায়ে ফল পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা এতটাই কম যে আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, এই নির্বাচনে বিরোধীরাই সবচেয়ে বেশি আসন পাবে।’ অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনের নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী ক্ষমতাসীন জোট ১৭৪টি আসন পাওয়ার আশা করছে। এই জোটে কট্টর ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সুইডেনের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য থেকে এই তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে আসা দেরিতে আসা ব্যালটগুলো গণনা করছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্ত ভোট গণনা সম্পন্ন হতে আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরায়েল ও মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দুই দেশে দূতাবাস প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বুধবার, ইসরায়েল সরকারের আরবি ভাষার সরকারি অ্যাকাউন্ট থেকে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আরো পড়ুন
সুইডেনের নির্বাচনে বামপন্থীদের জয়
রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ গ্রহণকারী চারটি আরব দেশের মধ্যে মরক্কো ছিল একটি। অন্যান্য তিনটি দেশ হলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সুদান। মিসর এবং জর্দানের সঙ্গে ইসরায়েলের আলাদা শান্তিচুক্তি বিদ্যমান। এই চুক্তিগুলোর পর ফিলিস্তিনিদের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি আরব অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। ওই অবস্থানে উল্লেখ করা হয়েছিল, ইসরায়েলকে দখলকৃত ভূখণ্ড থেকে সরে যেতে হবে এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এর বিনিময়ে আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছিল।
আরো পড়ুন
পাকিস্তান ও ভারতীয় নৌযানের সংঘর্ষ, পাক রাষ্ট্রদূতকে তলব করল নয়াদিল্লি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্কে তিন পক্ষের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদেওন সার, মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ। বিবৃতিতে জানানো হয়, ইসরায়েল ও মরক্কোর সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য কর্মকর্তারা একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের কূটনৈতিক মিশনের মর্যাদা দূতাবাস পর্যায়ে উন্নীত করা এবং রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা।
এছাড়া, ইসরায়েল ও মরক্কোর মধ্যে বিমান চলাচল বৃদ্ধি করার বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন। পারস্পরিক বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ককে সহজতর করার জন্য প্রয়োজনীয় চুক্তিগুলো চূড়ান্ত করার কাজও তারা করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সিগারেটের নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই ধরনের সিগারেট এখন থেকে মধ্যম মূল্যস্তরের নিচে বাজারে সরবরাহ করা যাবে না।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিভাগ ১৫ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এই প্রজ্ঞাপনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সিগারেটের প্যাকেটের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, সিগারেটের সংখ্যা এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট তথ্য সুস্পষ্ট, লক্ষণীয় ও অনপনীয়ভাবে মুদ্রিত থাকতে হবে।
এছাড়া, ফ্লেভারিং ক্যাপসুল সংবলিত সিগারেটের নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহের ফলে ধূমপায়ীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এই বিবেচনায় এ ধরনের সিগারেট মধ্যম মূল্যস্তরের নিচে সরবরাহ না করার শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।
গেজেটে সিগারেটের মূল্যস্তরও নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে নিম্ন মূল্যস্তরে প্রতি ১০ শলাকার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৬৫ টাকা ও তদূর্ধ্ব, মধ্যম মূল্যস্তরে ৯২ টাকা ও তদূর্ধ্ব, উচ্চ মূল্যস্তরে ১৬০ টাকা ও তদূর্ধ্ব এবং অতি উচ্চ মূল্যস্তরে ২১০ টাকা ও তদূর্ধ্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধানের ফলে ফ্লেভারিং ক্যাপসুলযুক্ত সিগারেট ৬৫ টাকা থেকে শুরু হওয়া নিম্ন মূল্যস্তরে সরবরাহ করা যাবে না। এসব সিগারেটের ক্ষেত্রে অন্তত মধ্যম মূল্যস্তরের অর্থাৎ প্রতি ১০ শলাকার ৯২ টাকা বা তার বেশি সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রযোজ্য হবে।
এনবিআর জানিয়েছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ১৩৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এবং একই আইনের ৫৮ ধারার উপধারা (২)-এর সঙ্গে পঠিতব্য বিধান অনুযায়ী ৮ জুন ২০২৬ জারি করা সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনটি অধিকতর সংশোধন করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির সম্মানহানির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে ইউএস কনস্টিটিউশন ডে সেলিব্রেশন অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে এই আইন খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের জন্য সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ যে ধরনের আইন চায়, সে ধরনের আইনই আনবে সরকার।’ আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে আইনটির বিষয়ে।’
তিনি জানান, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে এটি নিশ্চিত করা হবে যে, অনলাইনে কেউ সাংবাদিকতার নামে অপতথ্য ছড়াতে না পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ