মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২৭ পি.এম
আগামী ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন, যা নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি এবং বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। ইউএস সিনেট, কংগ্রেস এবং স্টেট গভর্নর পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নিউইয়র্কে এই নির্বাচনের জন্য আগাম ভোট শুরু হয়েছে ২৪ অক্টোবর শনিবার থেকে, যা চলবে ১ নভেম্বর রোববার পর্যন্ত। বর্ধিষ্ণু কমিউনিটি হিসেবে নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেটে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির গুরুত্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, ৩ নভেম্বর মঙ্গলবারের নির্বাচনে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভোট চেয়েছেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নী জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। গত ২১ অক্টোবর, বুধবার সন্ধ্যায় কুইন্সের জ্যামাইকার একটি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ভোটের জন্য আহ্বান জানান। ‘বাংলাদেশি কমিউনিটি মিট এন্ড গ্রীট’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে একমাত্র বক্তা ছিলেন লেটিশিয়া জেমস। অনুষ্ঠানে কমিউনিটির নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাটর্নী জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বক্তব্য রাখার পর অনুষ্ঠানের মডারেটর নবীর কয়েকটি প্রশ্নের খোলামেলা উত্তর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি তার প্রশাসনের প্রধান কাজ ও লক্ষ্য। তিনি বলেন, "আমরা নিউইয়র্ক সিটিসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে নানা অন্যায়-অবিচার দেখছি। অনেকের স্ন্যাপ, মেডিকেড কেড়ে নেয়া হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে এইসব প্রতিরোধ করতে হবে।" ভোট কেন্দ্রে আসা এবং ভোট দেওয়ার গুরুত্বের ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বাংলাদেশি-আমেরিকান সকল ভোটারদের এবং তাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, "এক একটি ভোট সকলের ভয়েস এবং পাওয়ার।"
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি ‘গ্রোয়িংআপ কমিউনটি’। ভোটের মাধ্যমে সিটি এবং স্টেট পলিসি পরিবর্তনে এই কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। লেটিশিয়া জেমস জানান, "আমরা নিউইয়র্ক সিটির স্কুলে ফ্রি ফুড-এর ব্যবস্থা করেছি। আগামীতে স্টেট ওয়াইজ স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ফুড বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।" এছাড়াও, বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে সিটিতে ফ্রি ফুড বিতরণ কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। তিনি হাউজিং সমস্যা এবং আইস-এর হয়রানিসহ যেকোন সমস্যায় তার অফিসে যোগাযোগ করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান। নির্বাচনের সময় আইস বা কোন ন্যাশনাল গার্ড কোন সমস্যা করবে না, প্রয়োজনে তিনি তার অফিসের প্রটেকশন হটলাইন-এ যোগাযোগ করারও আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সালেহ আহমেদ, শেকিল চৌধুরী, রেজাউল করীম চৌধুরী, খন্দকার তারিকুল ইসলাম, শাহারিয়ার রহমান, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, জে মোল্লা সানী, বিলাল আহমেদ চৌধুরী, ফিরোজ কবীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বাসের নিচে চাপা পড়ে সুজাত নামের এক যুবক প্রাণ হারিয়েছেন। দুর্ঘটনার পর চালক বাস নিয়ে পালিয়ে যান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে সকাল ১০টায়, উপজেলার পাটুরিয়া ঘাট এলাকায়।
নিহত সুজাত শেখ দাসকান্দি গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের পুত্র। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি পূর্বে সেলফি পরিবহনের হেলপার হিসেবে কাজ করতেন এবং বর্তমানে অটোরিকশা চালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া লঞ্চঘাটের নীলাচল বাস টার্মিনালের কড়ইতলা এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি বাসে উঠতে গিয়ে সুজাত শেখ (৩৪) পা পিছলে বাসের পেছনের চাকার নিচে পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার ইবনে সিনা হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ এই বিষয়ে বলেন, "ঘটনাটি ঘটার সময় আমাদের জানানো হয়নি। যখন ঢাকা হাসপাতালে মারা গেছে তখন খবর পেয়েছি আমরা। বাসটি নিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ড্রাইভার। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘ সংঘাতের মধ্যে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওলেশস্কি (Oleshky) শহরে একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে এই বিরতি কে মধ্যস্থতা করে অর্জন করেছেন—তা নিয়ে হোয়াইট হাউস ও ভ্যাটিকানের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র কূটনৈতিক বিতর্ক। একদিকে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের টিম এর কৃতিত্ব দাবি করছে, অন্যদিকে ভ্যাটিকান বলছে পোপের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মানবিক বিরতি সম্ভব হয়েছে।
ওলেশস্কি শহরটি রুশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সেখানে গত তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তীব্র খাদ্য সংকট, ওষুধের অভাব এবং মারাত্মক মানবিক বিপর্যয় চলছে। ২৩ অক্টোবর উভয় পক্ষের সম্মতিতে সেখানে একটি সীমিত সময়ের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যার উদ্দেশ্য ১ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।
মেলানিয়া ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের দাবি: মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত শুক্রবার এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়ে জানান, ওলেশস্কির পরিস্থিতি চরম বিপর্যয়ের মুখে ছিল। হোয়াইট হাউসের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, মেলানিয়া এবং তাঁর প্রতিনিধি দল রাশিয়া ও ইউক্রেনের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে এই যুদ্ধবিরতির শর্ত চূড়ান্ত করেছেন। ইউক্রেনীয় মানবাধিকার কর্মকর্তা দিমিত্রো লুবিনেটসও এই আলোচনার সমন্বয়ে সহায়তা করার জন্য মার্কিন ফার্স্ট লেডি ও তাঁর দলকে প্রকাশ্যে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ভ্যাটিকানের পাল্টা দাবি: এর ঠিক পরের দিনই ভ্যাটিকানের অফিশিয়াল পত্রিকা ‘ল’ওসের্ভাতোরে রোমানো’-র প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পোপের সরাসরি হস্তক্ষেপে এই যুদ্ধবিরতি অর্জিত হয়েছে। ভ্যাটিকান জানায়, অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সময় পোপ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপে ওলেশস্কির শোচনীয় মানবিক পরিস্থিতি তুলে ধরে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানান। এ ছাড়া পোপের বিশেষ দূত কার্ডিনাল মাতেও জুপ্পি সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মস্কো সফরকালেও এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় ক্যাথলিক ভোটারদের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতির দিকে থাকায় এই কৃতিত্বের দাবি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য নাকিবুর রহমান সিনিয়র সিটিজেন বা বয়স্ক যাত্রীদের প্রতি মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের বাবার মৃত্যুর খবর জানিয়ে এই বার্তা দেন একটি ফেসবুক পোস্টে।
ফেসবুক পোস্টে নাকিবুর উল্লেখ করেন, আব্বু ২৪ অক্টোবর, দুপুরে মেট্রোরেলে শাহবাগ থেকে উত্তরা ফেরার পথে শেওরাপাড়া স্টেশনের কাছাকাছি স্ট্রোক করে মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর পূর্বে তিনি অসুস্থতা অনুভব করে আশপাশের যাত্রীদের কাছে বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নাকিবুরের অভিযোগ, কেউ তাকে বসতে দেয়নি।
তিনি আরও লিখেছেন, আমার বাবা দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করে নিচে পড়ে যান। আল্লাহ তার মৃত্যুকে সহজ করে নিয়েছেন। তবে, সন্তান হিসেবে এই বিষয়টি মেনে নেয়া আমার জন্য কষ্টকর।
এনসিপির এই নেতা পোস্টে রাগ অভিমান না থাকার কথা জানিয়ে বলেন, আমি শুধু এটুকুই বলবো, চলতে ফিরতে বয়স্ক বা সিনিয়র সিটিজেন যখন যেখানে যে অবস্থাতেই পাবেন, তাদের সঙ্গে বন্ধু সুলভ আচরণ করুন। আপনি আজকে যাকে ইগনোর করলেন, সে আপনার বাবা না হলেও, অন্যকারো বাবা।
পোস্টের শেষে তিনি তার বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এছাড়া, উল্লেখ্য যে, নাকিবুর রহমানের বাবার নাম ড. মুহা. নজীবুর রহমান। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। গত ২৪ অক্টোবর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে মেট্রোরেলে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই মাসের গণহত্যার বিচারসহ একাধিক দাবির প্রেক্ষিতে আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ১১ দলীয় ঐক্যের বহুপ্রত্যাশিত ‘ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া’ ঐতিহাসিক লংমার্চ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে রূপ দেওয়ার জন্য ঝিনাইদহ জুড়ে চলছে সর্বাত্মক প্রস্তুতি এবং ব্যাপক তৎপরতা।
লংমার্চের প্রস্তুতি পর্যালোচনা ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ঝিনাইদহে পৌঁছান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মো. মোবারক হোসাইন। পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণ করেন এবং চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও লংমার্চের লক্ষ্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
জামায়াত নেতৃবৃন্দ জোর দিয়ে বলেন, "ছাত্র-জনতার ওপর চালানো জুলাই গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করাই এই লংমার্চের প্রধানতম লক্ষ্য। গণদাবি আদায়ে রাজপথের এ লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মো. আবুবকর, জেলা নায়েবে আমির ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী আব্দুল আলীম, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল, সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই, মাওলানা তাজুল ইসলাম, ছগির আহম্মেদসহ জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
পরিদর্শনের পর নেতৃবৃন্দ জানান, ৩১ অক্টোবরের লংমার্চকে কেন্দ্র করে ঝিনাইদহের প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ চালানো হচ্ছে। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর রাজপথে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও অভূতপূর্ব সমাগম ঘটবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ