নাজমুল হাসান নিরব, ফরিদপুর প্রতিনিধি
সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২০ পি.এম
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে পৈতৃক জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে অবসরপ্রাপ্ত এক সেনা সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে ওই সেনা সদস্যের একটি পা ভেঙে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা। আহত দুজনকে প্রথমে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি উপজেলার সদর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের। এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মো. আব্দুর রহমান (৪৮)।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত আজাহার শেখের ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই মো. মিজানুর শেখ ও আমিনুর শেখসহ পরিবারের কয়েকজনের পৈতৃক জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে মিজানুর শেখ (৪০), ইয়াসিন শেখ (২২), আমিনুর শেখ (৩৮) ও ওমর শেখ (১৮)সহ আরও ৩-৪ জন আব্দুর রহমানের মালিকানাধীন জমিতে গিয়ে একটি বড় নিমগাছ কাটতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় আব্দুর রহমান বাধা দিলে তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তিনি ওইদিনই বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেন। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর সকালে কেটে রাখা নিমগাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ খবর পেয়ে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, গাছের গুঁড়ি থানা হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই দিন বিকেলে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়।
এ সময় তাঁর চিৎকার শুনে স্ত্রী সেলিনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। হামলায় লাঠি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আব্দুর রহমানের একটি পা ভেঙে যায় বলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরে প্রতিবেশীরা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জমিতে থাকা গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর বাড়াবাড়ি করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে আমিনুর শেখের বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার এসআই মো. ফয়সাল আহমেদ বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরদিন গাছ সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে খবর পেয়ে গাছের গুঁড়িগুলো উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা (দক্ষিণ), ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলার আদর্শ সদর উপজেলায় আজ ভালো মরিচের সঙ্গে নষ্ট মরিচ মেশানো, নিষিদ্ধ সিঁদুর রং ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার অভিযোগে ‘আরমান মসলার মিল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে একলাখ টাকা জরিমানা আরোপ করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুরের বারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ‘আরমান মসলার মিল’-এ অভিযান চলাকালীন ভালো মরিচের সঙ্গে নষ্ট মরিচ মেশানো, নিষিদ্ধ সিঁদুর রং ব্যবহার এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হলুদ ও মরিচের গুঁড়া সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী একলাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে, রং মেশানো মরিচের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে এবং নষ্ট ও পোকায় খাওয়া মরিচ ডোবায় ফেলে ধ্বংস করা হয়। এছাড়া, মার্কেট কমিটিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব প্রদান করা হয়।
এ সময় দুর্গাপুর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সারাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি এক লাফে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে বাসের ভাড়াও বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য বৈঠকে বসতে যাচ্ছে, যা জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সংস্থাটির বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকে বাস মালিক, শ্রমিক এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন।
বৈঠকে মূলত আলোচনা হবে জ্বালানি তেলের নতুন দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাসের ভাড়া কতটা বাড়ানো হবে। জানা গেছে, পরিবহন মালিক সমিতি কিলোমিটার প্রতি ২০ পয়সা করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব দেবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এস এম আহমেদ খোকন এসব তথ্য জানিয়েছেন। বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে কতটা বাড়বে, তা বৈঠকের সুপারিশের পর চূড়ান্ত ভাড়া নির্ধারণের পরবর্তী প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ এস এম আহমেদ খোকন বলেন, "জ্বালানির দাম কত শতাংশ বাড়লে ভাড়া কেমন বৃদ্ধি করা যাবে এমন প্রস্তাবনা আগে থেকেই আছে। সেইসঙ্গে আমাদের কিছু চাওয়া পাওয়া আজকের বৈঠকে আমরা তুলে ধরবো। দেখা যাক, সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।"
এর আগে, রোববার রাতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা দেয় সরকার। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৫ টাকা, কেরোসিনের দাম ১৫৫ টাকা, অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম রোববার মধ্যরাত থেকেই কার্যকর হয়েছে।
এদিকে, বাসসহ অধিকাংশ গণপরিবহনে ব্যবহৃত ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক লিটার ডিজেলে খরচ সরাসরি ২০ টাকা বেড়েছে।
বিআরটিএ সূত্রে জানা গেছে, নতুন পরিস্থিতিতে বাসের পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানি খরচ হিসাব করে ভাড়া সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। দূরপাল্লা, মহানগর ও অন্যান্য শ্রেণির বাসের ক্ষেত্রে পৃথক হিসাবও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া কত বাড়বে, তা বৈঠকের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রস্তাবের পর নির্ধারণ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আঞ্চলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পারস্পরিক বিশ্বাস গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি। তিনি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের মারাত্মক প্রভাবকে একটি ‘ভূমিকম্প’ (Earthquake) হিসেবে উল্লেখ করে সংঘাতের এই চক্র বন্ধ করার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি প্রদান করেছেন।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত 'কাতারি ইকোনমিক ফোরাম'-এর বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, “স্থায়ী নিরাপত্তা কখনো কোনো রাষ্ট্রকে অরক্ষিত রেখে অর্জিত হতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে এমন একটি রূপরেখা (framework) প্রয়োজন, যেখানে প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো দেশ অন্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না।”
কাতারের প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি সরবরাহ এবং নৌপথ চলাচলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে স্থিতিশীলতার ধারণাকেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাতারের অর্থনীতির সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে শেখ মোহাম্মদ আগামী পাঁচ বছরে অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো খাতে ৩৮ বিলিয়ন (৩,৮০০ কোটি) ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার ঘোষণা দেন। চলমান সংঘাতের প্রভাব সত্ত্বেও তিনি বলেন, কাতার তার অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ভিত্তির ওপর অটল থেকে পুনরুদ্ধার করেছে।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পুনরায় আলোচনা শুরু করা এবং যুদ্ধ বিরতির জন্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অধিবেশন চলাকালে এ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দেওয়া উপসাগরীয় অঞ্চলের নেতারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়টি আলোচনা কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বেলজানী-খরসূতী এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বেহাল অবস্থায় পড়েছে। খরসূতী সরকারি কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত ইটের সলিং করা সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির ইট উঠে গিয়ে কোথাও কোথাও মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ভাঙা ইট ও গর্তের কারণে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রায়ই হোঁচট খেয়ে আহত হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
খরসূতী সরকারি কলেজ থেকে খরসূতী ঈদগাহ পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় আধা কিলোমিটারের কিছু বেশি। ছোট এই সড়কটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
সড়কের পূর্ব পাশে রয়েছে খরসূতী ঈদগাহ ময়দান। দুই ঈদের সময় ময়না, ঘোষপুর, সাতৈর ও গুনবহাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি এই ঈদগাহে নামাজ আদায় করতে আসেন।
এ ছাড়া এ এলাকায় রয়েছে বেলজানী-খরসূতী কাশেমুল উলুম মাদরাসা, একটি মহিলা মাদরাসা ও বর্ণী বাজার। অন্যদিকে সড়কের পশ্চিম পাশে রয়েছে খরসূতী সরকারি কলেজ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দ্রকিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ডাকঘর ও খরসূতী বাজার।
স্থানীয়দের পাশাপাশি মহম্মদপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষও এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বানিয়াড়ী, হাটখোলা, রানীদৌলা-কুঠি ও ইচাখালীসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষেরও সড়কটির ওপর নির্ভরতা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দৈনিক পুনরুত্থানের সহযোগী ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মিজান উর রহমান জানান, ১৯৯১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য প্রয়াত আব্দুর রউফ মিয়ার উদ্যোগে ফরিদপুর চিনিকলের বরাদ্দের মাধ্যমে সড়কটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর প্রায় সাড়ে তিন দশক পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বলে তাঁর দাবি।
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের ইট উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির পাশাপাশি ভাঙা ইটের কারণে পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
স্থানীয়রা বলছেন, সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছে শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময় তাদের ভাঙা ইট ও খানাখন্দ পেরিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয়দের দাবি, চলাচলের অনুপযোগী সড়কের কারণে ছোট শিক্ষার্থীদের হোঁচট খেয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটি দ্রুত পুনর্র্নিমাণ ও পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি ফরিদপুর-১ (মধুখালী-বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ড. ইলিয়াস মোল্লার কাছে সড়কটি পুনর্র্নিমাণের দাবি জানানো হলে তিনি দ্রুত পাকাকরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান।
ময়না ইউনিয়নের জামায়াত আমির মো. আবু জাফর সিদ্দিকী বলেন, সড়কটি পাকাকরণের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে। পরবর্তী বাজেটে বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের নিরাপদ ও স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ