বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বিমান বহর ‘এয়ার ফোর্স ওয়ানের’ জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের কাছে একটি বোয়িং বিমান ধার চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্পের দাবি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ অক্টোবর) অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন তিনি এ তথ্য জানান। খবরটি প্রকাশ করেছে আনাদোলুর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, তিনি প্রথমে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির কাছে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান সাময়িক ব্যবহারের জন্য ধার চেয়েছিলেন। কিন্তু কাতারের আমির বিমানটি ধার দেওয়ার পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়ার প্রস্তাব করেন।
জনসভায় ট্রাম্প বলেন, “কেউ যখন আপনাকে উপহার দেয়, তখন তা গ্রহণ করাই তো স্বাভাবিক, তাই না? কেউ যখন আপনাকে একটি ৭৪৭ বিমান উপহার দেয়, তখন কেবল দুটি শব্দই বলা যায়, ‘আপনাকে ধন্যবাদ।’”
ট্রাম্প জানান, তিনি শেখ তামিমের কাছে এই অনুরোধ করেছিলেন, কারণ বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্টদের ব্যবহারের জন্য যে বিমানগুলো রয়েছে, সেগুলো বেশ পুরোনো হয়ে গেছে।
তিনি বলেন, “আমরা এটি ধার নিতে চেয়েছিলাম। কারণ আমাদের বিমানগুলোর বয়স ৩৫ বছর।”
ট্রাম্প আরও বলেন, “আমি কাতারের রাষ্ট্রপ্রধানকে ফোন করলাম—তিনি অত্যন্ত সম্মানিত একজন ব্যক্তি, দারুণ মানুষ, তরুণ, সুদর্শন... এবং তার প্রচুর টাকা আছে।”
ট্রাম্প বলেন, “আমি তাকে বললাম, তামিম, যদি সম্ভব হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও আমাদের বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে আমি কি আপনার ৭৪৭ বিমানটি কিছু দিনের জন্য ধার নিতে পারি? আমাদের নতুন বিমান না আসা পর্যন্ত এটি এয়ার ফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার করা যেত।”
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারের আমির বিমানটি ধার দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং এর পরিবর্তে সেটি যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
ট্রাম্প ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, “তিনি বললেন, না, না, না, না, না, না! আপনি আমার বন্ধু। আমি আপনাকে এটি ধার নিতে দেব না। বরং আমি চাই, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আপনি এটি গ্রহণ করুন। এটি আপনারই থাকল।”
ট্রাম্প জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সেই বিমানটি গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন বিমান বাহিনী কাতারের এই বিমানটির নাম দিয়েছে ‘ভিসি-২৫বি’। নতুন দুটি বোয়িং ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্টের বহরে যুক্ত হওয়ার কথা। এর আগ পর্যন্ত কাতারের দেওয়া বিমানটি ব্যবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে অবস্থান করে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে, সরকার এবারের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাবলয় তৈরি করার জন্য যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে সমস্ত প্রচেষ্টা প্রতিহত করা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন এবং দলের পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি গঠন করে পূজা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে।
নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, মণ্ডপ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে, পাহারার ব্যবস্থা করতে এবং তাদের ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা করতে।
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘একজন মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হলে তার শিক্ষা অর্জনের বিকল্প নেই। যদি সে ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারে, তাহলে বঞ্চনার শিকার হতে হয়, প্রতারণার শিকার হতে হয়। সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার। আর এর প্রসারের জন্য যিনি কাজ করেন, তিনি অত্যন্ত মহতী ব্যক্তি বলে আমি মনে করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই স্কুলে এসে, বিস্তৃত মাঠ দেখে আমার সেটাই মনে হয়েছে। আমি তাকে সম্মান জানাই, যারা নিজেদের পেশাগত জীবনে অবদান রেখেছেন কিন্তু নিজের এলাকাকে ভুলে যাননি। এলাকায় উন্নয়নে পাশে ছিলেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজ।’
এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, ‘এ এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাস বেশি। এখানে খন্দকার আবু আশফাক আপনাদের এমপি। এর আগে তিনি কয়েকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এখানকার হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত প্রিয় তিনি। আমি অনেকবার এ এলাকায় এসেছি। প্রতিটি মানুষ তার দ্বারা উপকৃত হয়। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন। আমি এ কারণে মনে করি, আসন্ন দুর্গাপূজা অত্যন্ত নিরাপদ ও নিরাপত্তাময় করার জন্য তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।’
রুহুল কবির রিজভী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘জীবনকে অর্থবহ করতে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। তেমনি খেলাধুলা, শরীরচর্চা শরীর গঠনে সহায়ক। সুতরাং সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে নিজেকে সুস্থ বিনোদন ধারায় সম্পৃক্ত রাখতে হবে।’
অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, ‘এ দেশটা আমাদের সবার। আমরা সবাই নিজেদের মতো বাঁচব। নিজেদের জীবনধারায় ধর্ম পালন করব। আমরা কেউ কারও ধর্মকে ছোট করে দেখব না।’
এমপি বলেন, ‘এই যন্ত্রাইল ইউনিয়নে হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস বেশি। বরাবরই, এ এলাকাটির মানুষ আমাকে বেশি ভালোবাসেন। বিগত সময়ে দুইবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে ও গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছেন। তাই আমি আপনাদের প্রতিটি উন্নয়নে পাশে থাকব। আসন্ন দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আমার দলের নেতাকর্মীরা প্রতিটি মণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন।’
বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আবু হাসান সবুজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাসুদ রানা এবং বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি তাহমিনা আদনান।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন। বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক রাধেশ্যাম বাড়ৈর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন দোহার সার্কেলের পুলিশ সুপার (এএসপি) শামীম হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবুল কালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম, আবু শফিক খন্দকার মাসুদ, নবাবগঞ্জ থানার ওসি আবু হানিফ প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের এক্সআরসি ব্র্যান্ড ক্যাপিটাল ফান্ডের একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে দীর্ঘায়ু-সংক্রান্ত ওয়েব অনুসন্ধানের সংখ্যা চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ধক্য রোধ বা ‘অ্যান্টি-এজিং’ নিয়ে প্রচলিত অনেক দাবির মধ্যে ৬টি ভুল ধারণা রয়েছে, যেগুলো ভেঙে দিতে চান বিশেষজ্ঞরা।
১. দীর্ঘায়ু গবেষণার লক্ষ্য শুধুমাত্র আয়ু বাড়ানো নয়। গবেষকেরা মূলত ‘সুস্থতার সময়কাল’ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন, অর্থাৎ মানুষ কত দিন সুস্থ থাকতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা অ্যাট বার্মিংহামের অধ্যাপক স্টিভেন অস্টাড বলেন, “তাঁরা মানুষের সুস্থ থাকার সময়কাল বাড়াতে চান, যা ‘সুস্থ জীবনকাল’ নামে পরিচিত। মানুষকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখার ফলে অতিরিক্ত কয়েক বছর জীবন পাওয়া গেলে, সেটি অবশ্যই ভালো। কিন্তু সেটি লক্ষ্য নয়।”
২. মানুষ আগের চেয়ে বেশি সুস্থ থাকছে এবং দীর্ঘজীবী হচ্ছে, এই ধারণা সঠিক নয়। ২০২৫ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আমেরিকাতে মানুষের গড় আয়ু মাত্র ছয় মাস বেড়েছিল, কিন্তু সুস্থ জীবনকালের দৈর্ঘ্য কমেছে। ২০১০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকাই ছিল একমাত্র দেশ, যেখানে সুস্থ জীবনকাল কমেছিল। দেশটিতে ক্যানসার ও হৃদরোগের চিকিৎসায় উন্নতি সত্ত্বেও তরুণ প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে স্মৃতিভ্রংশ ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের প্রকোপ বেড়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, চিকিৎসা ব্যবস্থা রোগ প্রতিরোধের চেয়ে রোগ নিরাময়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যা একটি সমস্যা।
৩. ওষুধ ও সম্পূরক খাদ্য দীর্ঘায়ু নিশ্চিত করে, এই ধারণাও ভুল। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান দিয়েগোর সহযোগী অধ্যাপক আলাদিন শাদিয়াব বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট পাওয়া যায়নি যা মানুষের আয়ু বাড়াতে পারে। ২০২৬ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বার্ধক্যেও রক্তে এনএডি+ এর মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। এছাড়া ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সুস্থ বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘হিউম্যান গ্রোথ হরমোন’ ব্যবহারের ফলে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব এবং কারপাল টানেল সিনড্রোমের মতো সমস্যা হতে পারে।
৪. পুরুষদের তুলনায় নারীরা দীর্ঘ সময় সুস্থ থাকেন, এই ধারণাও পুরোপুরি সঠিক নয়। নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে প্রায় পাঁচ বছর বেশি বাঁচেন ঠিকই, কিন্তু জীবনের শেষ পর্যায়ে তাদের দীর্ঘ সময় অসুস্থতা বা শারীরিক অক্ষমতার মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়। বাক ইনস্টিটিউটের পঙ্কজ কাপাহি বলেন, “বিশেষ করে মেনোপজের পর নারীদের স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটে।” বয়স্ক নারীদের মধ্যে অটোইমিউন রোগ, আর্থ্রাইটিস এবং আলঝেইমারের ঝুঁকি বেশি থাকে, অথচ এসব স্বাস্থ্যগত সমস্যার ওপর গবেষণার হার তুলনামূলক কম। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং-এর ভিভিয়ানা পেরেজ ম›েতস জানান, প্রাণীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় আয়ু বাড়ানোর জন্য যেসব উপাদান কার্যকর বলে দেখা গেছে, তার অধিকাংশই পুরুষ প্রাণীদের ক্ষেত্রে বেশি ভালো কাজ করে।
৫. অতিরিক্ত ওজনের মানুষের জন্য ওজন কমানো সব সময় উপকারী, এই ধারণা সঠিক নয়। ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন কমানোর বিষয়টি ৫৯ শতাংশ বেশি মৃত্যুঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত বলে ২০২১ সালের ৩০টি গবেষণার একটি মেটা-বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এর সম্ভাব্য কারণ হতে পারে যে, তারা চর্বির পরিবর্তে পেশি ও হাড়ের ভর হারিয়ে ফেলেন।
৬. নিজের যতœ নিলেই ১শ’ বছর নিশ্চিত বাঁচা যায়, এই ধারণাও ভুল। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মানুষের আয়ুর প্রায় অর্ধেক নির্ভর করে জিনতত্ত্বের ওপর, আর বাকি অর্ধেক নির্ভর করে জীবনধারা ও পরিবেশের ওপর। আলবার্ট আইনস্টাইন কলেজ অফ মেডিসিনের সোফিয়া মিলম্যানের মতে, ৯৫ বছর বা তার বেশি বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে জিনতত্ত্ব হয়তো আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দীর্ঘজীবী হন, তাদের ওজন, খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যকলাপ, মদ্যপান বা ধূমপানের হার যে অন্যদের তুলনায় সবসময়ই স্বাস্থ্যকর বা ভালো থাকে, এমনটি নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ভীতি কাটিয়ে উঠতে যে কঠিন লড়াই করতে হয়েছিল পুনিশোলবাসী হাজার হাজার মানুষের, তার পর মুসলিম নারীরা অভিযোগ করছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার ভাতার জন্য বারংবার আবেদন করার পরেও তারা কেবল সরকারি উদাসীনতাই পাচ্ছেন। একইভাবে আদিবাসী নারীরাও একই ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন; এই বিষয়ে সরব হতে গিয়ে কেউ কেউ আবার হুমকি ও ধমকের মুখোমুখি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার ওন্দা ব্লকের অন্তর্গত পুনিশোল গ্রামের প্রায় ৮,০০০ বৈধ ভোটার ভোটার তালিকার 'বিশেষ নিবিড় পুনরীক্ষণ' (এসআইআর) চলাকালীন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ছিলেন। তাঁদের নামের বিরুদ্ধে তথাকথিত "যুক্তিসঙ্গত অসঙ্গতি" থাকার অভিযোগ তুলে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল।
নোটিশ পেয়ে বাসিন্দারা চরম বিভ্রান্তিতে পড়ে যান। কারণ নিজেদের এই দেশেই জীবিত ও বৈধ নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করার ভার তাঁদের ওপরই দেওয়া হয়েছিল। কয়েকজন বাসিন্দা ব্যক্তিগতভাবে শুনানিতে উপস্থিত হলেও তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক কর্মকর্তারা তাঁদের বক্তব্য বা উদ্বেগে কোনো গুরুত্বই দেননি। গত ১৭ মার্চ, পুনিশোলের ভুক্তভোগী নারী-পুরুষ বৈধ ভোটারদের সাথে কথা বলে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে 'দ্য ওয়্যার'।
প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার পর গ্রামবাসীরা তার কপি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ওন্দা ব্লক অফিসে জমা দেন। এরপর সরকারি কর্মকর্তারা পুনিশোল পরিদর্শনে যান, নথিপত্র পরীক্ষা করেন এবং উপযুক্ত ভোটারদের নাম তালিকায় ফের যুক্ত করেন। ফলে বাসিন্দারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচনের দিন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার সময় বহু মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিডিয়া তাঁদের এই দুর্দশার কথা তুলে না ধরলে হয়তো তাঁরা ভোটই দিতে পারতেন না।
এখন রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পুনিশোল গ্রামের নারীরা নতুন করে আরও একটি ধাক্কা খেয়েছেন। এবার তাঁদের অভিযোগ রাজ্য সরকারের নারী সামাজিক কল্যাণমূলক ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র ভাতা থেকে তাঁদের বঞ্চিত রাখা নিয়ে।
‘আমরা বারবার আবেদন করেছি, কিন্তু টাকা কখনো আসেনি’
পুনিশোলের ২০টি পাড়ায় ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী প্রায় ৯,০০০ নারী বসবাস করেন। গ্রামের এক স্বাস্থ্যকর্মী গোলাম খাজা জানান, প্রায় ৮,০০০ নারী অনলাইনে ও অফলাইনে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করলেও মাত্র ৫০০ জনের মতো নারী আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
জাসিমা খাতুন নামের এক আশা কর্মী বলেন, নারীরা প্রায়ই তাঁর কাছে এসে জানতে চান কবে তারা এই ভাতার টাকা পাবেন। “আমরা প্রতিদিন স্বাস্থ্য ও অন্যান্য বিষয়ে খবরাখবর নিতে এই নারীদের বাড়ি বাড়ি যাই। অনেকেই আমাদের কাছে জানতে চান অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা কবে আসবে। কিন্তু আমাদের কাছে দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই,” বলেন তিনি।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর), 'দ্য ওয়্যার'-এর প্রতিনিধি পুনিশোলের একাধিক পাড়ায় গিয়ে স্থানীয় নারীদের সাথে কথা বলেন। তাঁরা জানান, বারবার পুনিশোল পঞ্চায়েত ও ওন্দা ব্লক অফিসে গিয়েও কোনো সদুত্তর পাননি। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, আধিকারিকরা তাঁদের কথা না শুনেই সরাসরি তাড়িয়ে দিয়েছেন।
হাঁসদাবাদ পাড়ার গৃহবধূ রোশনা বিবি মন্ডল, জারিনা বিবি মল্লিক, সোলেমা খাতুন ও লতিফুন বিবি বলেন, “সরকার যখনই ফরম জমা দিতে বলেছে, আমরা জমা দিয়েছি। পরে বলা হলো অনলাইনে আবেদন করতে, আমরা সেটাও করেছি। অথচ আজ পর্যন্ত আমরা একটা টাকাও পাইনি।”
তারা জানান, আবেদন কেন আটকে আছে তা জানতে ব্লক অফিসে গেলে তাঁদের কোনো পাত্তাই দেওয়া হয়নি।
বারবার চক্কর কাটার পর কয়েকজন কর্মকর্তা নাকি তাঁদের স্পষ্ট বলে দেন যে, হিন্দু আবেদনকারীরা আগে টাকা পাবেন, তার পর পাবেন মুসলিমরা। “এটা কী ধরনের বিচার?” প্রশ্ন তোলেন ফাতেমা বিবি খান ও আখরুন খাতুন।
এলাকার নারীরা জানান, ইতিপূর্বে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সময় চালু থাকা ‘লক্ষ্মী ভান্ডার’ প্রকল্পে তারা ১৫০০ রূপি পেতেন। কিন্তু বর্তমান ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকার ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে ৩,০০০ রুপি করার পর কেন সেই টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেল—তা তারা বুঝতে পারছেন না। “আমাদের আবেদনে কি কোনো ভুল ছিল? কেউ তো কিছুই বলছে না। আমরা মুসলিম বলেই কি টাকা পাব না?” প্রশ্ন তোলেন তারা।
আখরুন খাতুন বলেন, “হিন্দু-মুসলিম সবাই এক হয়ে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করেছি। তাহলে এখানে আমাদের সাথে কেন এই বৈষম্য? আগে তো কখনো এমন ঘটেনি।”
জারিনা বিবি জানান, বারবার ধর্না দিয়েও হাঁসদাবাদ পাড়ার একজন নারীও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি। “ওরা খালি নথিপত্র জমা নেয় আর বলে যাচাই করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না,” বলেন তিনি। অপমানিত হওয়ার ভয়ে অনেক নারী এখন আর ব্লক অফিসে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। গৃহবধূ জোৎস্না খাতুন ও হাবিবা বিবি মন্ডল বলেন, “আমরা এখন ব্লক অফিসে যেতে ভয় পাই। যদি আবার আমাদের অপমান করে তাড়িয়ে দেয়?”
ফিরোজা খাতুনসহ অন্য নারীরা প্রশ্ন তোলেন, “ভোটের সময় আমাদের নাম কেটে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল। তখনও আমাদের হেনস্থা করা হয়েছে। যখন আমরা ব্লক অফিসে গিয়ে ‘দ্য ওয়্যার’-এর রিপোর্ট দেখালাম, তখন গিয়ে হয়রানি থামল আর ভোট দিতে পারলাম। এখন আমরা কার দরজায় গিয়ে দাঁড়াব?”
‘পরিবার চালানোর জন্য এই টাকাটা আমাদের খুব দরকার ছিল’
দরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে এই অনুদানের মূল্য অনেক। নারীরা জানান, এই টাকাটা সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলাতে খুব সাহায্য করত। লতিফুন বিবি মন্ডল বলেন, “আমাদের বাড়ির পুরুষরা প্রতিদিন ভোরে সাইকেল নিয়ে বাঁকুড়া, তালড্যাংরা, ওন্দাসহ নানা এলাকায় কাজে বেরিয়ে যান। তাঁরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো বস্তা, বই-খাতা, পেপার, লোহালক্কড় ও ভাঙাচোরা কম দামে কিনে সামান্য লাভে বিক্রি করেন। লক্ষ্মী ভান্ডারের যে টাকাটা পেতাম, তা দিয়ে সংসারটা কোনোমতে টেনেটুনে চলত। এখন সেই টাকাটাও বন্ধ হয়ে গেছে।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জোৎস্না বেগম ও হাবিবা বিবি মন্ডল। তাঁরা জানান, প্রয়োজন হলে তাঁরা আবারও ওন্দা ব্লক অফিসে যাবেন এবং সেখানে ধর্না দেবেন। নারীদের স্পষ্ট কথা—তারা সরকারি নিয়ম মেনেই আবেদন করেছেন, সুতরাং কেন টাকা দেওয়া হচ্ছে না তার স্পষ্ট জবাব সরকারকে দিতেই হবে।
কারিগরি সমস্যার অজুহাত বিজেপি বিধায়কের; মানতে নারাজ নারীরা
পুনিশোলের এত বিপুল সংখ্যক নারী কেন ভাতা পাচ্ছেন না জানতে চাওয়া হলে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা জানান, কিছু আবেদনকারীর হয়তো দুই বা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে কিংবা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে আধার কার্ডের লিঙ্ক নেই, যার কারণে টাকা প্রক্রিয়াজাত করা যাচ্ছে না।
তবে বিধায়কের এই ব্যাখ্যা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নারীরা। হাঁসদাবাদের বাসিন্দা নাসুদা বিবি খান ও জারিনা বিবি মল্লিক বলেন, “আমরা রাত জেগে বাঁকুড়া হেড পোস্ট অফিসে গিয়ে মোবাইল নম্বরের সাথে আধার কার্ড লিঙ্ক করিয়েছি। আমাদের মধ্যে কার দুটো-তিনটে অ্যাকাউন্ট আছে?” নারীদের এই ক্ষোভ একটি বড় প্রশ্ন তুলে দেয়—যেখানে নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও সাহায্য মিলছে না, সেখানে এত বিলম্বের সঠিক কারণ কেন তাঁদের স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে না?
অন্নপূর্ণা ভাতার দাবিতে প্রতিবাদ করায় হুমকির মুখে আদিবাসী নারীরা
শুধু পুনিশোলের মুসলিম নারীরাই নন, পশ্চিমবঙ্গের জঙ্গলমহল অধ্যুষিত বাঁকুড়া জেলার তপশিলি উপজাতি (এসটি) সম্প্রদায়ের নারীরাও একই অন্নপূর্ণা যোজনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। বাঁকুড়া জঙ্গলমহল এলাকার অংশ, যেখানে বিশাল সংখ্যক আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস। রানিবাঁধ, রাউতোড়া ও বারিকুল এলাকার জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি সাঁওতাল, শবর, মাহালি, ভূমিজ, মুণ্ডা ও কোড়া সম্প্রদায়ের মানুষ।
এই সম্প্রদায়ের নারীরাও জানিয়েছেন যে, পঞ্চায়েত ও ব্লক অফিসে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি।
রাজাকাত এলাকার বিরোতি গ্রামের সরস্বতী সরদার ও ভানুমতী সরদার এবং জিলিমিলির নমিতা টুডু ও কল্পনা সোরেন বলেন, “আমরা পঞ্চায়েত আর ব্লক অফিসে অন্নপূর্ণার টাকার জন্য বহুবার গিয়েছি, কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনে না। আমরা এখন পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অবস্থান ধর্মঘটে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ভানুমতী সরদার অভিযোগ করেন, গত ৭ অক্টোবর তারা যখন রাজাকাত এলাকায় ডেপুটেশন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন বিজেপি কর্মীরা তাঁদের ভয়ভীতি দেখান। “তারা আমাদের হুমকি দিয়েছিল যে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ খুললে ফল ভালো হবে না। কিন্তু আমরা তাঁদের হুমকিতে মাথা নত করিনি। হামলা হলে প্রতিহত করার প্রস্তুতি নিয়েই আমরা ডেপুটেশন দিতে গিয়েছিলাম,” বলেন ভানুমতী। শেষ পর্যন্ত তারা ডেপুটেশন জমা দিতে সক্ষম হন।
একইভাবে বড়জোড়া এলাকার শীতলা গ্রামের সর্পবেদা পরিবারের বহু আদিবাসী নারী এই ভাতা পাননি। মালা সর্পবেদা নামে এক স্থানীয় নারী জানান, তিনি সরকারি নিয়ম মেনে ফরম পূরণ করে জমা দিলেও আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা পাননি।
রাজ্যজুড়ে ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন ‘যাচাইকরণে’ আটকে
পশ্চিমবঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার প্রায় ৩০ লাখেরও বেশি নারীর আবেদন এখনো যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার অধীনে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের নারী ও শিশু বিকাশ বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অনলাইনে ও অফলাইনে মোট প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৬ লাখ নারীকে ৩,০০০ রুপি করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন পোর্টালটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে নতুন করে আবেদন জমা দেওয়ার কোনো সুযোগ নারীদের কাছে নেই। গত ২ থেকে ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত "সেবা সেতু অভিযান" শিবিরে প্রথমে অন্নপূর্ণা যোজনাকে তালিকার বাইরে রাখা হয়েছিল। তবে ভাতা না পাওয়া নারীদের তুমুল ক্ষোভের মুখে পড়ে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন শিবিরে অন্নপূর্ণা যোজনা সংক্রান্ত অভিযোগ বা ক্ষোভ গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা করতে বাধ্য হয় প্রশাসন। প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও কেন এত বিপুল পরিমাণ আবেদন যাচাইকরণের নামে আটকে রাখা হয়েছে—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন নারীরা।
ক্ষুব্ধ নারীদের দেখা করার আহ্বান বিজেপি বিধায়কদের
আন্দোলন ও অসন্তোষ বাড়তে থাকায় ক্ষমতাসীন বিজেপি বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটি স্থানে বিজেপি বিধায়কেরা যাদের আবেদন আটকে রয়েছে, তাঁদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার কথা বলেছেন। তবে এই ধরণের বৈঠকগুলো নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া শহরের কেথারডাঙ্গা এলাকার মুসলিম নারীরা বাঁকুড়ার বিধায়ক নীলাদ্রি শেখর দানার সাথে দেখা করতে গেলে তিনি তাঁদের চরম অপমান করেন এবং সেখানে ধর্মীয় বিভাজনের উসকানি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা জানান, অন্নপূর্ণা যোজনার পাওয়ার জন্য সরকার প্রথমে কিছু লিখিত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তবে পরবর্তীতে মৌখিক ও অলিখিত নির্দেশনার কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল হয়ে পড়েছে।
তিনি জানান, তেমনই একটি অলিখিত নির্দেশ ছিল—যেসব পরিবারের মাসিক আয় ১০,০০০ টাকার বেশি, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না। এই পরিবর্তনশীল ও অলিখিত নিয়মাবলীর কারণে আবেদন যাচাইয়ের কাজে চরম গোলযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি কর্মচারীরা যাচাই সম্পন্ন করার পরও বহু আবেদন ঝুলন্ত অবস্থায় থেকে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকগুলোতেও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিভিন্ন জনসভাতেও বিষয়টি উঠেছে, তবুও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের তথ্য ও দর্শক পরিমাপকারী প্রতিষ্ঠান নিলসেন তাদের কার্যক্রমকে বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মী সংখ্যা পাঁচ হাজারের বেশি, যা তাদের বৈশ্বিক কর্মী সংখ্যা প্রায় অর্ধেক। বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত কেন্দ্রটি নিলসেনের সবচেয়ে বড় কর্মকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
নিলসেনের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অনিল গোয়েল মানিকন্ট্রোলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক উদ্ভাবন কার্যক্রমের প্রায় ৭৫ শতাংশই ভারত থেকে পরিচালিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপনের তথ্য বিশ্লেষণ স্বয়ংক্রিয় করা, খেলাধুলায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা পর্যবেক্ষণ এবং বিচ্ছিন্ন ও বহুমাধ্যমনির্ভর পরিবেশে দর্শক পরিমাপের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করা হচ্ছে।
গোয়েল বলেন, ‘আমরা ভারতে আমাদের কার্যক্রমকে কখনোই শুধু বৈশ্বিক সক্ষমতা কেন্দ্র (জিসিসি) হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করিনি। শুরু থেকেই এটিকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য ছিল।’
ভারতে প্রচলিত জিসিসিতে কর্মীরা সাধারণত বিদেশে অবস্থিত সহকর্মীদের অধীনে কাজ করেন। কিন্তু নিলসেনের ভারতে থাকা দলগুলো নিজেদের পণ্য উন্নয়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বৈশ্বিক গ্রাহকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করে। রাজস্বের দিক থেকে ভারত এখনও নিলসেনের ছোট বাজার হলেও এটি দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাময় শীর্ষ ১০টি বাজারের মধ্যে ভারত একটি।
বিজ্ঞাপন যাচাই ও ব্র্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ডাবলভেরিফাই যুক্ত হওয়ার পর ভারতে নিলসেনের কার্যক্রম আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। গোয়েলের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর কর্মীবাহিনী দেশে উদ্ভাবন সম্প্রসারণের আরও সুযোগ তৈরি করছে।
বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণে এআইয়ের প্রভাব
নিলসেনের বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। প্রতিষ্ঠানটি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের ৩০ থেকে ৪০টি বড় বাজারে টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র, সাময়িকী এবং আউটডোর মিডিয়ার বিজ্ঞাপনের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে।
আগে তথ্য প্রক্রিয়াকরণে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির পাশাপাশি কর্মীদের হাতে কাজ করতে হতো। প্রযুক্তি যেসব সমস্যা সমাধান করতে পারত না, সেগুলো সামলাতে এক হাজারের বেশি কর্মী নিয়োজিত ছিলেন।
গোয়েলের ভাষ্য অনুযায়ী, এআই ও বৃহৎ ভাষা মডেল ব্যবহারের ফলে যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন কাজের হার ৮০-৯০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৭-৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এখন হাতে কাজ করার জন্য কয়েক শ কর্মীই যথেষ্ট।
এ পরিবর্তনের ফলে ছোট বিজ্ঞাপনদাতা ও অপেক্ষাকৃত কম প্রচারমাধ্যমকেও নিলসেনের পরিমাপের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। গোয়েল বলেন, ‘আমার ব্যবস্থাগুলো যদি আরও বেশি কাজ সামলাতে পারে, তাহলে আমি ছোট ও কম প্রচলিত প্রচারমাধ্যমগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারব।’
খেলাধুলার অনুষ্ঠানেও ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা শনাক্ত করতে এআই ব্যবহার করছে প্রতিষ্ঠানটি। বেঙ্গালুরুতে নিলসেনের উদ্ভাবন দিবসে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের জার্সিতে কোনো ব্র্যান্ডের উপস্থিতি শনাক্ত করতে আগে ভিডিওর প্রতিটি ফ্রেম ধরে পরীক্ষা করতে হতো। এআইয়ের সাহায্যে সেই কাজ এখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে করা সম্ভব হচ্ছে। বিজ্ঞাপনদাতারা যাতে খেলা চলাকালেই নিজেদের ব্র্যান্ডের দৃশ্যমানতা বুঝতে পারেন, সে জন্য ব্যবস্থাটিকে তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণব্যবস্থায় রূপ দেওয়ার কাজ চলছে।
বিভিন্ন মাধ্যমে একই দর্শক শনাক্ত
নিলসেনের মূল ব্যবসা দর্শক পরিমাপেও এআইয়ের ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। দর্শকেরা এখন প্রচলিত টেলিভিশন, ইন্টারনেট-সংযুক্ত টিভি, স্ট্রিমিং সেবা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গেমিং ও মোবাইলের মধ্যে নিয়মিত যাতায়াত করেন। ফলে একই ব্যক্তিকে একাধিক মাধ্যমে গণনা করা হচ্ছে কি না, তা নির্ধারণ করা বিজ্ঞাপনদাতাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সমস্যা সমাধানে নিলসেন নিজস্ব পরিচয় শনাক্তকরণ কাঠামো তৈরি করছে। গোয়েল জানান, এতে মেশিন লার্নিং মডেলের পাশাপাশি ডিভাইস আইডি, আইপি ঠিকানা ও ইমেইল ঠিকানার মতো বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে একই ব্যক্তি কনটেন্ট দেখছেন কি না, তা শনাক্ত করা হয়।
গোয়েলের তথ্য অনুযায়ী, নিলসেনের টেলিভিশন দর্শক পরিমাপ প্যানেলে এক লাখের বেশি পরিবার রয়েছে। কম্পিউটার ও মোবাইল পরিমাপের জন্য রয়েছে ১০ লাখের বেশি প্যানেল। পাশাপাশি নিজস্ব ও তৃতীয় পক্ষের সূত্র থেকে ৭ কোটির বেশি পরিবারের তথ্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
এ ছাড়া মানুষ এআই প্ল্যাটফর্মে কত সময় ব্যয় করছেন এবং এসব প্রযুক্তি তাদের ভোক্তা-সিদ্ধান্তে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও গবেষণা করছে নিলসেন। চ্যাটজিপিটি, জেমিনি ও ক্লডের মতো প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি এআই এজেন্ট মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে শুরু করায় গণমাধ্যম ব্যবহারের প্রচলিত পরিমাপপদ্ধতিও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
গোয়েল বলেন, এআইয়ের তৈরি উত্তরে কোন ব্র্যান্ডের সুপারিশ কীভাবে আসছে, তা প্রভাবিত করার পরিবর্তে এসব প্ল্যাটফর্মে মানুষের সময় ব্যয় ও মনোযোগের অংশ পরিমাপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে নিলসেন। বিষয়টি এখনো বিকাশের পর্যায়ে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ