মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৫০ পি.এম
রাজধানীর আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযানে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আদাবর থানার পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানের সময় আসামিরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলার চেষ্টা করলে আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত আড়াইটার দিকে আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজার সংলগ্ন মেলার মাঠের পেছনে খালপাড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া চারজন হলেন রাজিব হাওলাদার (৩০), সাগর ওরফে ছোট বিগার (২৪), শাকিব (২৩) ও রাশেদ (২৪)। তাদের মধ্যে রাজিব ও সাগরের পায়ে গুলি লেগেছে। আহত দুজনকে চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদাবর থানার ২৭ সেপ্টেম্বরের একটি মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছিল। ওই মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ১৪৮, ১৪৯, ৪৪৭, ৩৮৫, ৪২৭, ৫০৬ ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা জানান, মঙ্গলবার রাত ২টা ৫ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন, মামলার কয়েকজন আসামি নবোদয় হাউজিং কাঁচাবাজারের পেছনে খালপাড় এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে সেখানে অভিযান চালালে ৭-৮ জনকে দেখতে পায় পুলিশ।
পুলিশের দাবি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে কয়েকজন ধারালো চাপাতি নিয়ে পুলিশের দিকে এগিয়ে এসে হামলার চেষ্টা করে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মোশরেকুল ইসলামের শটগান দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে দুজন আহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়, বাকিরা পালিয়ে যায়। অভিযানকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে স্টিলের ধারালো চাপাতি, সামুরাই ও কিরিস উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার সাগর ওরফে ছোট বিগারের বিরুদ্ধে আদাবর ও মোহাম্মদপুর থানায় মোট আটটি মামলা রয়েছে। রাজিব হাওলাদার মোহাম্মদপুরের আলোচিত বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি বলেও পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার শাকিব ও রাশেদের বিরুদ্ধেও পাঁচটি করে মামলা রয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মামলায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর ওই এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের শয়নকক্ষের বারান্দায় ঘুমাতে হতো, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের তেজগাঁও জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আদালতে জানিয়েছেন যে, প্রথমে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন গাজী নজরুল।
মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় দুই দফায় ৮ দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গাজী নজরুলকে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ওই আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মরিয়ম মাঝে মাঝে বারান্দায় ঘুমাতেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত গাজী নজরুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গাজী নজরুল ইসলাম রিমান্ডে বলেছেন যে, মামলার বাদী (মরিয়মের বাবা) তার আত্মীয় এবং সম্পর্কের দিক থেকে ভাগনে। মরিয়ম আসামির নাতনি। নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলেই বাদীর বাসায় রাত্রিযাপন করতেন এবং সংসদের কাজকর্ম পরিচালনা করতেন। এই সম্পর্কের সুবাদে মরিয়মের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে এবং নজরুল ইসলাম মরিয়মকে বিয়ে করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ১৭ জুন নজরুল ইসলাম ধর্মীয় নিয়মে মরিয়মকে বিয়ে করেন। পরে নিজ এলাকায় কাবিন রেজিস্ট্রি করা হয়। আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম এবং মামলার ২ নম্বর আসামি মোছা. মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনে গাজী নজরুল বসবাস করতেন। মোছা. মাকছুদা ইসলাম তার প্রথম স্ত্রী।
‘প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে নিয়ে ন্যাম ভবনে বসবাসের সময় মরিয়ম মাঝে মাঝে নজরুলের শয়নকক্ষের পাশে ব্যালকনিতে ঘুমাতেন,’ এ কথা উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে নজরুল ইসলামের কাছ থেকে মামলার ঘটনার বিষয়ে "আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য" পাওয়া গেছে।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের (৭৫) দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গাজী নজরুল, মাকছুদা ইসলাম এবং নিহত মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনে গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন ও মাকছুদা বেগমের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সেদিন রাতেই মামলার তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রিমান্ড শেষে মাকছুদা বেগমকে ২২ সেপ্টেম্বর কারাগারে পাঠানো হয়। গত বুধবার এ মামলার তৃতীয় আসামি ভুক্তভোগীর মামা ওবায়দুর রহমানকে ঢাকার বাইরে থেকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি–২। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় জানিয়েছেন, গোপনে নাশকতাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
মঙ্গলবার সকালে, জিয়া পরিষদের ৩৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শেরেবাংলানগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় উল্লেখ করেন, ‘যারা গোপনে বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার মানে হচ্ছে রাস্তায় মারামারি করা নয়।’
তিনি আরও বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সম্পূর্ণ আইনগতভাবে মোকাবেলা করা হবে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সংগ্রাম ও আন্দোলনের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা হয়েছে এবং জনগণের তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেছেন। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জাফরপাড়া গ্রামে সকাল ১০টায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবা এবং অন্যান্য স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের খোঁজখবর নেন এবং শহীদ পরিবারের প্রতি বিএনপি সরকারের সমর্থনের কথা জানান।
কবর জিয়ারত শেষে, শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবাকে পাশে বসিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রংপুর হচ্ছে বীর সন্তানের জেলা। এ জেলা নিয়ে পুরো দেশ গর্ব করে। শহীদ আবু সাঈদ শুধু ইতিহাস নন, তিনি অনুপ্রেরণার নাম। আবু সাঈদ জাতীয় সম্পদ এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা পতনের সূতিকাগার।’
তিনি আরও বলেন, “শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তাকে শুধু গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে রংপুর জেলা স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়াম’ করা হবে। আবু সাঈদ আমাদের প্রেরণা, আবু সাঈদ আমাদের শক্তির উৎস।”
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, ‘দীর্ঘদিন অবহেলিত উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কাজ করছে। রংপুরসহ পুরো উত্তরাঞ্চলকে বদলে দেওয়া হবে।’
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড সম্পর্কে তিনি জানান, ‘দেশের সব পরিবার ফ্যামিলি কার্ড এবং সব কৃষক কৃষক কার্ড পাবে। এ নিয়ে কোনো তদবির বা টাউট-বাটপারের খপ্পরে না পড়তে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
১১ দলের লং মার্চ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, ‘তেল-গ্যাস সংকটের কথা বলে লং মার্চে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পোড়ানো হয়েছে।’ সংসদের বাইরে বিরোধী দলের বিভিন্ন কর্মসূচি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সারের সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধী দলের নির্বাচিত কিছু এলাকায় কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করে জনগণের সরকারকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ সময় আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম, সংরক্ষিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সী, রংপুর সিটি প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আলোচনা এখনও ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সফরের জন্য তাড়াহুড়ার প্রয়োজন নেই। উভয় দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার। চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, "হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ব্যক্তিগত পর্যায়ে গড়ে উঠেছে।" তিনি জানান, বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়নি এবং বৈঠক নিয়ে তিনি ইতিবাচক অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই যথাযথ সময় দিতে হবে। ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমন্ত্রণ এখনও উন্মুক্ত রয়েছে। যখনই দুই প্রধানমন্ত্রী মনে করবেন, তখনই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ