সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০১ পি.এম
সৌদি আরবের রপ্তানিযোগ্য তেলের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং যদি আগামী ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে তাদের প্রধান ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি পুনরায় চালু করা না হয়, তবে দেশটির তেল রপ্তানি সম্পূর্ণরূপে স্থবির হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি ইরাক থেকে ছোড়া একাধিক ড্রোনের মাধ্যমে সৌদি আরবের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। এই হামলার ফলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে পাইপলাইনটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
রয়টার্সকে দেওয়া শিল্প খাতের সূত্রগুলো মেরামতের সময়সীমা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লাগতে পারে, অন্যদিকে অন্য একজন ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে পাইপলাইনটি আরো দ্রুত মেরামত করা হতে পারে এবং মেরামত চলাকালীন আংশিক তেল উত্তোলন কার্যক্রম পুনরুদ্ধার করা যেতে পারে।
বর্তমানে সৌদি আরব সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর বা জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ছয় মাসে, আরব উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি সামরিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব প্রশমিত করতে সৌদি আরবকে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করেছে, যা এই অঞ্চলের অনেক দেশের তেল রপ্তানি ব্যাহত করেছিল।
সৌদি আরব এই পথ ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পাঠায়, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশের সমান।
সৌদি আরবের তেল পরিবহন ব্যবস্থার ওপর চাপ আরো বেড়েছে যখন ইয়েমেনের হুথি বাহিনী, যারা এর আগে দেশটির তেল পরিবহনের জন্য হুমকি দিয়েছিল, শুক্রবার লোহিত সাগরের প্রবেশপথে একটি দ্বীপ দখল করে নেয়।
সংঘাত শুরু হওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে প্রতিদিন প্রায় ২.২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। শিল্প সূত্রের মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত তেলের পরিমাণ কমে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
সৌদি আরব ওপেককে আরো জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ফেব্রুয়ারিতে তাদের তেল উৎপাদন দৈনিক ১০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল থাকলেও, আগস্টে তা কমে দৈনিক ৬.২ মিলিয়ন ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার এসেছে। এই পরিমাণ দেশীয় মুদ্রায় ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি ১০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরিফ হোসেন জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী আয় হিসেবে দুই হাজার ৩৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেশে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উল্লেখ করেছেন যে, ডেঙ্গুর মতো জাতীয় সংকট সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এটি কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং আমাদের সকলের জন্য একটি মানবিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আজ সোমবার গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার আলোকে প্রচার কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করা প্রয়োজন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, তথ্য কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদেরকে সম্পৃক্ত ও উদ্ধুদ্ধ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম বক্তব্য রাখেন। এ সময় ৬৮টি তথ্য অফিসের দপ্তর প্রধানগণ এবং সদর দপ্তরের কর্মকর্তাগণ সংযুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ও কনসার্ট বন্ধের দাবি উঠেছিল কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির কারণে। তবে, শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান দুটি সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কলেজের মূল ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এছাড়া, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. ওবায়দুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ভিপি জহিরুল হক খোকন এবং সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৩টায় কলেজের দক্ষিণ ভবনের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে ব্যান্ড হাইওয়ে ছাড়াও স্থানীয় সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। কনসার্ট উপভোগ করতে হাজারো শ্রোতা ও দর্শনার্থী উপস্থিত হন।
কনসার্টে উপস্থিত দর্শনার্থী তৌফিকুল ইসলাম রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নবীনবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানারকম কথা শোনা গেলেও অনুষ্ঠানে সেরকম কিছুই হয়নি। বরং অনেক সুন্দর আয়োজনে এবং সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। কনসার্টেও কোনোরকম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম. ওবায়দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন একটা মিটিংয়ে আছি। শেষ করে কথা বলছি।’
এর আগে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হয়।
সমঝোতার পর ‘অশ্লীলতা হবে না’—এই শর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের ভেতরের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হয় নবীনবরণ ও কনসার্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন প্রায় ২০ শতক সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পৌরসভার কলেজগেট থেকে ইছাপুর ফয়জিয়া বাজার, সত্তারঘাট এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের মেডিকেল গেট থেকে নাজিরহাটের হাটহাজারী সীমানা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে সরকারি সম্পদ দখলের অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, পশ্চিম ধলইয়ের মনিয়া পুকুরপাড় সংলগ্ন এলাকায় হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন বিএস খতিয়ান-৬-এর বিএস ২০৮৫৬ দাগের প্রায় ২০ শতক জমিতে অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ করা জায়গাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। অভিযানের মাধ্যমে সরকারি ওই সম্পদ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান বলেন, ‘সরকারি জায়গা কেউ দখল করে রাখতে পারবেন না। সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ