সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:০২ পি.এম
সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স হিসেবে ১৪২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার এসেছে। এই পরিমাণ দেশীয় মুদ্রায় ১৭ হাজার ৫৫২ কোটি ১০ হাজার টাকা, যা প্রতি ডলার ১২৩ টাকার হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
আরিফ হোসেন জানান, রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রবাসী আয় হিসেবে দুই হাজার ৩৭৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা দেশে এসেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের (১ জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে ৭২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৬২০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ফলে চলতি বছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় ১৬ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা উল্লেখ করেছেন যে, ডেঙ্গুর মতো জাতীয় সংকট সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। এটি কেবল স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, বরং আমাদের সকলের জন্য একটি মানবিক ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
আজ সোমবার গণযোগাযোগ অধিদপ্তরে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ উপলক্ষে তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে তথ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রোভার স্কাউট, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্টসহ স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে তিন মাসব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার জন্য যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তার আলোকে প্রচার কর্ম-পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধ করা প্রয়োজন।
মাহবুবা ফারজানা বলেন, তথ্য কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদেরকে সম্পৃক্ত ও উদ্ধুদ্ধ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমের সফলতা নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এস এম আব্দুর রহমান স্বাগত বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম বক্তব্য রাখেন। এ সময় ৬৮টি তথ্য অফিসের দপ্তর প্রধানগণ এবং সদর দপ্তরের কর্মকর্তাগণ সংযুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ অনুষ্ঠান ও কনসার্ট বন্ধের দাবি উঠেছিল কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির কারণে। তবে, শেষ পর্যন্ত একটি সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান দুটি সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কলেজের মূল ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল।
এছাড়া, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ.কে.এম. ওবায়দুল হক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ভিপি জহিরুল হক খোকন এবং সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে বিকেল ৩টায় কলেজের দক্ষিণ ভবনের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এতে ব্যান্ড হাইওয়ে ছাড়াও স্থানীয় সংগীতশিল্পীরা গান পরিবেশন করেন। কনসার্ট উপভোগ করতে হাজারো শ্রোতা ও দর্শনার্থী উপস্থিত হন।
কনসার্টে উপস্থিত দর্শনার্থী তৌফিকুল ইসলাম রানা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নবীনবরণ অনুষ্ঠান নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে নানারকম কথা শোনা গেলেও অনুষ্ঠানে সেরকম কিছুই হয়নি। বরং অনেক সুন্দর আয়োজনে এবং সুষ্ঠুভাবেই অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। কনসার্টেও কোনোরকম বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।’
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম. ওবায়দুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন একটা মিটিংয়ে আছি। শেষ করে কথা বলছি।’
এর আগে নবীনবরণ উপলক্ষে কনসার্ট আয়োজনের বিরোধিতা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেয় কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। পরে সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা হয়।
সমঝোতার পর ‘অশ্লীলতা হবে না’—এই শর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের ভেতরের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে একমত হন কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। শেষ পর্যন্ত সেই সমঝোতার ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হয় নবীনবরণ ও কনসার্ট।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের হাটহাজারী এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে উপজেলা প্রশাসন প্রায় ২০ শতক সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে পৌরসভার কলেজগেট থেকে ইছাপুর ফয়জিয়া বাজার, সত্তারঘাট এবং চট্টগ্রাম-নাজিরহাট সড়কের মেডিকেল গেট থেকে নাজিরহাটের হাটহাজারী সীমানা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের উভয় পাশে সরকারি সম্পদ দখলের অভিযোগ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে, পশ্চিম ধলইয়ের মনিয়া পুকুরপাড় সংলগ্ন এলাকায় হাটহাজারী-নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ বিভাগের মালিকানাধীন বিএস খতিয়ান-৬-এর বিএস ২০৮৫৬ দাগের প্রায় ২০ শতক জমিতে অনুমোদন ছাড়াই স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছিল। বিষয়টি জানার পর উপজেলা প্রশাসন সেখানে অভিযান চালিয়ে নির্মাণাধীন অবৈধ স্থাপনা ভেঙে দেয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, উচ্ছেদ করা জায়গাটির আনুমানিক মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। অভিযানের মাধ্যমে সরকারি ওই সম্পদ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
অভিযানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহেদ আরমান বলেন, ‘সরকারি জায়গা কেউ দখল করে রাখতে পারবেন না। সরকারি সম্পদ রক্ষায় অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় কিছু ছবি যুক্ত ও সরানোর ঘটনাকে ইতিহাস বিকৃতির প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। সংগঠনটি এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সালমান সিদ্দিকী এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ একযোগে বলেন, ‘ডাকসুতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি যুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বাঙালিদের ওপর উর্দু ভাষা চাপিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে তিনি ঘোষণা করেছিলেন, শুধু উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অকুতোভয় ছাত্রসমাজ জিন্নাহর সেই চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সংঘটিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন। যা পরবর্তীতে ঊনসত্তরের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ভিত্তি গড়ে দেয়। ঐতিহাসিকভাবে ডাকসু ভাষা আন্দোলনসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের গোটা কালপর্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।’
ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের পর সমালোচনার মুখে ডাকসু নেতারা দাবি করেছেন যে, ভাষা আন্দোলনের বিরুদ্ধে জিন্নাহ যে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেটি দেখানোর উদ্দেশ্যে এই ছবি যুক্ত করা হয়েছে। ছাত্রশিবির সমর্থিত ডাকসু এবং স্বয়ং ছাত্র শিবিরের জিন্নাহ্ নিয়ে সাম্প্রতিক অবস্থান ও বক্তব্য, ‘৪৭ পরবর্তী ‘৭১ পর্যন্ত এদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ভিন্নভাবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা’— এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করে না।
বাস্তবতা হলো, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার সংগ্রামে ডাকসুর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা এবং ছাত্রসমাজের লড়াইয়ের ইতিহাসের বিরুদ্ধে সংগ্রহশালাকে নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
ছাত্রফ্রন্ট স্বাধীনতা সংগ্রামে ও পরবর্তীতে শেখ মুজিবের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মূল্যায়ন হতে পারে, কিন্তু পুরো আন্দোলন থেকে তাঁকে গায়েব করে দিলে ইতিহাসকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে সংগঠনটি জানাচ্ছে, সংগ্রহশালায় ইসলামী ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি যুক্ত করার কোনো ঐতিহাসিক কারণ নেই বলে তারা মনে করেন।
নেতারা ইতিহাস বিকৃতি, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের ভূমিকা মুছে ফেলা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধকে কালিমালিপ্ত করার অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে ছাত্র সমাজকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ