০৮:২০ এম
বিদ্যুতের নতুন মূল্যহার নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও, মধ্যবিত্তদের জন্য চাপ আরও বাড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। নতুন দামের প্রভাবে অনেক পরিবার মাসিক খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ফলে উৎপাদন ব্যয়ও বৃদ্ধি পাবে, যা মূল্যস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
রাজধানীর পল্লবীর বাসিন্দা তানিয়া বেগম দুই কক্ষের একটি ফ্ল্যাটে লাইট, ফ্যান ও ফ্রিজ ব্যবহার করেন। গত মাসে তার বিদ্যুৎ বিল ছিল প্রায় আড়াই হাজার টাকা। নতুন দাম অনুযায়ী একই পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে তাকে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ টাকা গুনতে হবে।
তানিয়া বেগম বলেন, "আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ৫০০ টাকা অনেক। কাঁচাবাজার, মাছ, সবকিছুর দাম বেড়েছে। গ্যাসের দামও বেড়েছে। এখন যদি বিদ্যুতের বিলও বাড়ে, তাহলে আমরা কীভাবে চলব?"
আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে
বিদ্যুতের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সবচেয়ে বেশি চাপ মধ্যবিত্তদের ওপর পড়বে। ব্যবহারভেদে তাদের মাসিক ব্যয় ১০০ টাকা থেকে প্রায় দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ জোগাড় করাই এখন অনেক পরিবারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মত হচ্ছে, ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি অনেক বেশি। মানুষের আয় তো বেড়েনি। হঠাৎ এক মাসের ব্যবধানে এত টাকা বেড়ে গেলে সেটি বড় ধরনের চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শুধু গৃহস্থালি গ্রাহকরাই নন, উদ্বেগে আছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারাও। রাজধানীর মিরপুরের একটি বেকারির হিসাবে দেখা গেছে, গত তিন মাসে এলপি গ্যাসের খরচ মাসে ১৬ থেকে ১৭ হাজার টাকার মধ্যে বেড়েছে। এখন বিদ্যুতের জন্যও অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। অন্য ব্যবসায়ীরাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি।
তারা উদ্বেগের সঙ্গে বলছেন, ময়দা, তেল, চিনি; সবকিছুর দাম বাড়বে। বর্তমানে যে রুটি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটি হয়তো ৫০ টাকায় বিক্রি করতে হবে। কিন্তু হঠাৎ দাম বাড়ালে ক্রেতারা তা গ্রহণ করতে চাইবেন না। এলপি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতেই ব্যবসা চালিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে, এখন বিদ্যুতের দাম বাড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন রফতানিমুখী শিল্প উদ্যোক্তারাও। বিজিএমইএর পরিচালক রশিদ আহমেদ হোসাইনী বলেন, "আমরা এখনো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তার ওপর আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। এটি মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো। বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, গ্যাসও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে তৈরি পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।"
আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা
এরই মধ্যে এলপি গ্যাসের অস্থির বাজার, দুই দফা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং এখন বিদ্যুতের বড় ধরনের দাম বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পণ্যের ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি গ্রাহকদের ওপর পড়ছে, তেমনি পরোক্ষভাবেও এর চাপ ভোক্তাদের ওপর বাড়বে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ার ফলে সেই অতিরিক্ত ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেছেন, "এত দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় হবে না এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসইও নয়। এতে অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হবে। একদিকে সরাসরি বিদ্যুতের বিল বাড়ছে, অন্যদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় পণ্যের দামও বাড়ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে, যা পরে কমিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন