ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুয়ার টাকা জোগাতে ১৪ জন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করেছেন এক নারী


জুয়ার টাকা জোগাতে ১৪ জন পুরুষের সঙ্গে বিয়ে করেছেন এক নারী

জুয়ার নেশার জন্য অর্থ জোগানোর উদ্দেশ্যে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে, প্রসিকিউশনের সাথে সমঝোতার কারণে তাকে কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

খবরটি সিরাকিউস থেকে প্রাপ্ত।

৩৩ বছর বয়সী অভিযুক্ত জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ‘ভিকি লিয়াং’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন।

আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য

প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের সামনে দাবি করতেন যে, চীনে তার অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার প্রয়োজন। এ অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করতে সক্ষম হন। কিন্তু, তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই অর্থ তিনি আত্মীয়দের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের পরিবর্তে, লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার জন্য ব্যয় করেছেন।

পুলিশের তথ্যমতে, চেন গত এক বছরে জুয়ার খেলায় তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।

গত ৯ জুলাই, বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অপরাধে আদালতে দোষ স্বীকার করেন তিনি। এর পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হন প্রসিকিউশন। পাশাপাশি, আদালতে তার জন্য প্রবেশন সুপারিশ করার কথা সময় দেওয়া হয়েছে।

আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইন অনুযায়ী, বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তাকে অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স

তদন্তে আরও দেখা গেছে, চেন পরিচয়ের কিছু মাসের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করতেন। এরপর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার ডলার নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চান না।

জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বাধিক ২০ হাজার ডলার আয় করতে পারতেন। এছাড়া, লাস ভেগাসে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ার ফলে তিনি সেই শহরটিকে তার প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাডেমিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: হাইকমিশনার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ পি.এম


একাডেমিক সহযোগিতায় বাংলাদেশ-মালদ্বীপ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে: হাইকমিশনার

 

একাডেমিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন মালদ্বীপে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম।

 মালদ্বীপের নাগরিকদের প্রতি বাংলাদেশের সহযোগিতার মাধ্যমেই শিক্ষা, কূটনীতি, জ্ঞান বিনিময় এবং যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে এমনটি আশা করেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী হাইকমিশনার।

হাইকমিশনার আরও বলেন, ‘প্রথাগত কূটনীতির বাইরে দুই দেশের মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক বন্ধনই দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বের মূল ভিত্তি।’

মালদ্বীপের প্রাচীন ও শীর্ষস্থানীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (এমএনইউ)-তে হাইকমিশনারের লেখা ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং অ্যান্ড নন-ওয়েস্টার্ন সফট পাওয়ার স্ট্র্যাটেজি’ শীর্ষক বইয়ের কপি উপহার দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

আজ মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এমএনইউ’র উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদমের কাছে বইগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে, দেশটির বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার বইয়ের মূল প্রতিপাদ্য ‘পাওয়ার অফ বন্ডিং’ বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ‘এটি মূলত পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা ও অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধের ওপর গঠিত একটি শক্তিশালী সফট পাওয়ার। মালদ্বীপে বৃহৎ বাংলাদেশি প্রবাসী জনগণের অবদান এবং দুই দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও জলবায়ু খাতে ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা এই বন্ধন শক্তির এক বাস্তব প্রতিফলন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে মেধা ও মনন বিকাশের কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বইটি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের জন্য একটি দারুণ সহায়ক হবে।

হাইকমিশনার আরও বলেন, দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি, সেমিনার ও বৃত্তির মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বে অশেষ সম্ভাবনা বিদ্যমান।

বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন, নীল অর্থনীতি, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বই উপহারের এই উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ হাইকমিশন ও হাইকমিশনারের প্রতি মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. আয়েশা শেহেনাজ আদম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘উপহার পেয়ে পাওয়া বইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির জন্য অত্যন্ত মূল্যবান সংযোজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও কূটনীতি নিয়ে গবেষণায় এটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমৃদ্ধ করবে।’

উপাচার্য বাংলাদেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক সহযোগিতা বাড়াতে মালদ্বীপ ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির গভীর আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, এই ধরনের একাডেমিক বিনিময় দুই বন্ধুদেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান লাইব্রেরিয়ান হুসাইন হালিমের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য, অনুষদ সদস্য, গবেষকগণ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাগণ এবং মালদ্বীপে বসবাসরত বাংলাদেশি সুধীজনেরা এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসীদের জন্য সুখবর, আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


প্রবাসীদের জন্য সুখবর, আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা

নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা চালু করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

চলতি মাস থেকেই দেশ দুটির প্রবাসীরা এই সেবার আওতায় আসবেন। তবে, কনস্যুলার সেবা সুইডেনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় তাদের এনআইডি কার্যক্রমও সুইডেন থেকেই সম্পন্ন হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, সিঙ্গাপুর ও বাহরাইনে ভোটার নিবন্ধন এবং এনআইডি কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশনের তিন কমিশনার পৃথকভাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সফর করবেন।

তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আগামী ৩০ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সুইডেনে অবস্থান করবেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ২৯ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সিঙ্গাপুর সফর করবেন। সফরটি সম্পন্ন করার জন্য ব্যয় বহন করা হবে ইসির স্মার্টকার্ড (আইডিইএ-২) প্রকল্প থেকে।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১৪টি দেশের ২৪টি মিশনে ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ইসি জানিয়েছে, এসব দেশ থেকে এখন পর্যন্ত এক লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসীর হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে এনআইডির আবেদন গ্রহণ করা হয়। পরে দেশে যাচাই-বাছাই শেষ করে পরিচয়পত্র মুদ্রণ করে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনকারীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


সংবিধান সংশোধন ইস্যুতে রাজনৈতিক সংকটের শঙ্কা

সংবিধান সংশোধন নিয়ে জটিলতা বাড়ছে। সরকারী দল বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, তবে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেও রাজপথে সক্রিয় থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এই অবস্থান কি রাজনীতিতে নতুন উত্তাপের ইঙ্গিত দেয়? বিশ্লেষকরা বলেছেন, পরিমিত বিরোধিতার মধ্যে থাকার সম্ভবনা বেশি। তবে, সরকারি দল নিজ থেকে নতুন কোনো সংকট ডেকে আনে কি না এই প্রশ্নও উঠেছে।

সংবিধান সংশোধনের জন্য সংসদে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে ১২ জনের নাম বিএনপি ঘোষণা করেছে, কিন্তু জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিরোধী জোট এই কমিটিতে নিজেদের বিরত রেখেছে।

বিশেষ কমিটির নাম ঘোষণার পর বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে রাজপথে আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, যেসব বিরোধী দল এতদিন সরকারের সহযোগী ছিল, তারা কি এবার কঠোর ভাবে বিরোধীতা করবেন? এবং, যদি তেমন হয়, তাহলে নতুন রাজনৈতিক সংকট কি আসন্ন হতে পারে?

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আল মাসুদ হাসানুজ্জামান বলেন, 'বিরোধী দল তাদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরবে এবং রাজনীতি মেরুকরণের সম্ভাবনা রয়েছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে যে কমিটি গঠন করা হয়েছে, যদি সেটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মতামত প্রতিষ্ঠার জন্য একটি মাধ্যম হয়, তাহলে এটা রাজনৈতিক সংঘাত বৃদ্ধি করবে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মামুন মোস্তফা বলেন, 'এখন পর্যন্ত সরকারি দল এবং বিরোধী দলের মধ্যে পরিমিতিবোধ দেখা যাচ্ছে, যা থেকে মনে হচ্ছে তাদের মধ্যে সম্পর্ক পরিমিত বিরোধিতার মধ্যেই থাকবে। নতুন কোনো সংকট সৃষ্টি করবে না।'

বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দল হিসেবে দাবি আদায়ে জামায়াত রাজপথে যাবে এইটা যেমন স্বাভাবিক, ঠিক তেমনি সরকারও সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজে থেকে সংকট ডেকে আনবে কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

অধ্যাপক হাসানুজ্জামান বলেন, 'রাজনৈতিক সংকট তৈরির বিষয়টি নির্ভর করছে সরকারি দল কতটুকু ছাড় দেয় এবং বিরোধী দল কতটুকু জনমত সৃষ্টি করে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে তার ওপরে।'

ড. মামুন মোস্তফা বলেন, 'রাষ্ট্র সংস্কার কিংবা সংবিধান সংশোধনের মধ্যে অনেক বিষয় রয়েছে যা পরীক্ষিত নয়। তাই, নতুন নতুন সংশোধন নিয়ে এসে সরকার নতুন কোনো সংকট ডেকে আনবেন কি না সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।'

তাদের মত, সংসদের কেবল দুটি অধিবেশন হয়েছে, নতুন সরকার ও বিরোধী দলের বয়সও অল্প। দেশের সাথে বিদেশের বিভিন্ন চাপ রয়েছে। ফলে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে আরো কিছু সময় প্রয়োজন, তাদের মতামত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে উদ্যোগী আইসিসি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ পি.এম


আফগান নারীদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরাতে উদ্যোগী আইসিসি

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে তালেবানদের শাসন চলছে। দেশের সরকার নারীদের চলাচলের উপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। বাইরের কাজকর্মে নিযুক্ত হওয়াও নারীদের জন্য নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আফগানিস্তানের নারী ক্রিকেট থমকে গেছে। আফগান নারী ক্রিকেটারদের অনেকেই এখন বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছেন।

এখন আইসিসি আফগান নারী ক্রিকেটারদের খেলায় ফেরানোর জন্য জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। সম্প্রতি স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গে অনুষ্ঠিত আইসিসির বার্ষিক সম্মেলনে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য পরিচালিত ডেভেলপমেন্ট পাথওয়ে প্রোগ্রাম অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দ্বারা অনুমোদিত।

ইতিমধ্যে আইসিসি একটি স্পেশাল টাস্কফোর্স পুনর্গঠন করেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে এই দলের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আইসিসির বাছাইপর্বের (কোয়ালিফিকেশন) টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের জন্য তৈরি করা হবে।

আইসিসি বোর্ড তাদের স্বাধীন পরিচালক ড. রোজ রিভাজ এবং আইসিসির প্রধান নির্বাহী কমিটির সদস্য সারা কিনকে স্পেশাল টাস্কফোর্সে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমোদন দিয়েছে। তারা আগের সদস্যদের (বিসিসিআই, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিদের) সঙ্গে মিলিত হয়ে এই কর্মসূচির তদারকি করবেন।

এখন তাদের লক্ষ্য হচ্ছে, নারী ক্রিকেটারদের জন্য আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রতিনিধিত্ব এবং প্রতিযোগিতামূলক মান উন্নয়নের মাঝে ভারসাম্য নিশ্চিত করা। আইসিসির পক্ষ থেকে ড. রিভাজ বলেছেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে আইসিসির স্পেশাল টাস্কফোর্সে যোগ দিতে পেরে আমি সম্মানিত। টাস্কফোর্সকে এমন একটি সুস্পষ্ট ও টেকসই রোডম্যাপ তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা কাঠামোবদ্ধ কোচিং, অর্থবহ প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ এবং উচ্চমানের পারফরম্যান্স উন্নয়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের বিকাশে সহায়তা করবে।’

তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘এই কর্মসূচি ক্রিকেটের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে আইসিসির অঙ্গীকারের প্রতিফলন। আমি টাস্কফোর্সের সহকর্মী, সদস্য বোর্ড ও বাস্তবায়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে নিশ্চিত করতে চাই, যাতে এটি উদ্দেশ্যপূর্ণ, সৎ ও দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয়।’

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের একজন, নাহিদা সাপান বলছেন, ‘এই কর্মসূচি আমাদের কেবল ক্রিকেট চালিয়ে যেতে সাহায্য করেনি, বরং দল হিসেবে একত্রিত হয়ে খেলতে সুযোগ করে দিয়েছে। আইসিসি ও টাস্কফোর্স আমাদের উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে - এটা জেনে আমরা আশ্বস্ত। অন্য দেশের ক্রিকেটারদের মতো আমাদেরও সমান অধিকার ও সুযোগ রয়েছে - এই স্বীকৃতির জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটার ফিরোজা আফগান জানান, ‘গত এক বছরে দল হিসেবে একত্রিত হওয়া এবং ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের সুযোগ আমাদের জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি। মানসম্পন্ন কোচদের অধীনে প্রশিক্ষণের সুযোগ আমাদের উন্নতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশ নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য আমাদের সামনে একটি পরিষ্কার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সেই পথচলায় প্রতিটি সুযোগকে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও বর্তমান ধারাভাষ্যকার মেল জোন্স এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই অসাধারণ নারীদের প্রতি ধারাবাহিক সমর্থন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বে অংশগ্রহণের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ তাদের ভবিষ্যতের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।’

এটি শক্তিশালী একটি বার্তা দেয় যে প্রতিভা ও দৃঢ়সংকল্প সুযোগ পাওয়ার যোগ্য। এই ক্রিকেটাররা বিশ্বের নারী ও কন্যাশিশুদের জন্য অনুপ্রেরণা। তাদের বিশেষ যাত্রাপথকে স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়ন ও অর্থবহ প্রতিযোগিতার মধ্যে ভারসাম্য রেখে দীর্ঘমেয়াদি একটি পথচলা দেখতে পারা সত্যিই আনন্দের।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘গত এক বছরে তারা যে অগ্রগতি করেছে, তা অসাধারণ। ২০৩০ সালের মধ্যে এই দল কী অর্জন করে, তা দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি।’

আফগান শরণার্থী নারী ক্রিকেটারদের জন্য এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে ক্রিকেট কোচ, স্ট্রেন্থ এন্ড কন্ডিশনিং কোচ এবং ফিজিওথেরাপিস্টের সেবা পেয়ে যাবেন। এছাড়াও ধাপে ধাপে তাদের ম্যাচ খেলার সুযোগ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও কানাডাভিত্তিক এই ক্রিকেটাররা স্থানীয় ক্রিকেট কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন এবং সেখানে নিয়মিত অনুশীলন ও ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে।

এছাড়াও গত ১২ মাসে ভারত ও ইংল্যান্ড সফরের মতো ভবিষ্যতেও দল হিসেবে একসঙ্গে অনুশীলন ও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। এসব যৌথ প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে এবং এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আয়োজন করা হবে, যা ২০৩০ সালের মধ্যে আইসিসির বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে তাদের প্রস্তুতি ও উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%