০৯:২১ পি.এম
জুয়ার নেশার জন্য অর্থ জোগানোর উদ্দেশ্যে একসঙ্গে ১৪ জন পুরুষকে বিয়ে করতে গিয়ে প্রতারণার অভিযোগে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসের এক নারী আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। তবে, প্রসিকিউশনের সাথে সমঝোতার কারণে তাকে কারাদণ্ডের পরিবর্তে প্রবেশন (পর্যবেক্ষণাধীন মুক্তি) পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খবরটি সিরাকিউস থেকে প্রাপ্ত।
৩৩ বছর বয়সী অভিযুক্ত জিয়াইং চেন ২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন। তদন্তের মাধ্যমে জানা যায়, ২০১৯ সালের মার্চ মাস থেকে নেভাদা অঙ্গরাজ্যের ক্লার্ক কাউন্টিতে তিনি মোট ১৪টি বিয়ের সনদ সংগ্রহ করেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ‘ভিকি লিয়াং’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পুরুষকে প্রেম ও বিয়ের ফাঁদে ফেলতেন।
আরও পড়ুন: ঋণ গ্রহণের ব্যয় বৃদ্ধিতে সীমিত পরিসরের বাজেটের পথে যুক্তরাজ্য
প্রকাশিত অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর চেন তার স্বামীদের সামনে দাবি করতেন যে, চীনে তার অসুস্থ স্বজনদের চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার প্রয়োজন। এ অজুহাতে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সম্মিলিতভাবে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ আদায় করতে সক্ষম হন। কিন্তু, তদন্তে উঠে এসেছে যে, ওই অর্থ তিনি আত্মীয়দের চিকিৎসার জন্য ব্যবহারের পরিবর্তে, লাস ভেগাস স্ট্রিপের বিলাসবহুল উইন ক্যাসিনোতে জুয়া খেলার জন্য ব্যয় করেছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, চেন গত এক বছরে জুয়ার খেলায় তিন লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ হারিয়েছেন।
গত ৯ জুলাই, বহুবিবাহ এবং প্রতারণার মাধ্যমে এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়ার চেষ্টার অপরাধে আদালতে দোষ স্বীকার করেন তিনি। এর পরিবর্তে তার বিরুদ্ধে আনা আরও কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ প্রত্যাহার করতে রাজি হন প্রসিকিউশন। পাশাপাশি, আদালতে তার জন্য প্রবেশন সুপারিশ করার কথা সময় দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২০ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করা হবে। আইন অনুযায়ী, বহুবিবাহের অপরাধে এক থেকে চার বছর এবং প্রতারণার অভিযোগে এক থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, প্রসিকিউশনের সুপারিশের কারণে তাকে অল্প সময়ের কারাভোগ অথবা কারাদণ্ড ছাড়াই মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ঘোষণা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু করতে পারল না সৌদি এয়ারলাইন্স
তদন্তে আরও দেখা গেছে, চেন পরিচয়ের কিছু মাসের মধ্যেই বিয়ের প্রস্তাব প্রদান করতেন। এরপর বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতেন। একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তিনি অসুস্থ আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য ৪০ হাজার ডলার নিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জানিয়ে দেন যে, তিনি আর বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষা করতে চান না।
জিজ্ঞাসাবাদে চেন পুলিশকে জানান, একটি ভুয়া বিয়ে থেকে তিনি সর্বাধিক ২০ হাজার ডলার আয় করতে পারতেন। এছাড়া, লাস ভেগাসে বিয়ের প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হওয়ার ফলে তিনি সেই শহরটিকে তার প্রতারণার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন