ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথার কারণ কী হতে পারে?


খাবার খাওয়ার পর পেটব্যথার কারণ কী হতে পারে?

খাওয়ার পর পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা সমস্যাটি অনেকের জন্য পরিচিত একটি সমস্যা। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই অস্বস্তি তলপেটের জ্বালাপোড়া দিয়ে শুরু হয় এবং তা বুক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আবার কিছু মানুষের পেটে মোচড়, ফাঁপাভাব বা নির্দিষ্ট স্থানে তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঝে মাঝে এমন সমস্যা স্বাভাবিক হলেও, খাবারের পর নিয়মিত ব্যথা অনুভব করলে সেটিকে শুধুমাত্র বদহজম ভেবে এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়।

খাবার গ্রহণের পরপরই পরিপাকতন্ত্রের কর্মকাণ্ড সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই সময় পাকস্থলীতে অ্যাসিডের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, পেশিগুলো সংকুচিত হয় এবং পিত্তথলি ও অন্ত্র হজমের কাজে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। এই সমগ্র প্রক্রিয়ায় যদি কোনো অংশে সমস্যা দেখা দেয়, তবে খাবার খাওয়ার পরই ব্যথা বা অস্বস্তি অনুভূত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার ধরন, অবস্থান, কতোক্ষণ পর শুরু হচ্ছে এবং কোন ধরনের খাবারের পর ব্যথা বাড়ছে—এসব তথ্য রোগের কারণ নির্ণয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যেমন, তলপেটের উপরের অংশে জ্বালাপোড়া ধরনের ব্যথা পাকস্থলীর প্রদাহ (গ্যাস্ট্রাইটিস) বা আলসারের ইঙ্গিত দিতে পারে। অন্যদিকে, চর্বিযুক্ত খাবারের পর পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে তীব্র মোচড়ানো ব্যথা দেখা দিলে, সেটি পিত্তথলির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। আবার নাভির চারপাশে খিঁচুনি বা ব্যথা ক্ষুদ্রান্ত্রের সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

আরও পড়ুন: শীতের ছুটিতে ঘুরে আসুন বাংলাদেশের ৮ দর্শনীয় স্থান

যদি খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুকের নিচে জ্বালাপোড়া বা ব্যথা শুরু হয়, তবে এর পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা পাকস্থলীর আলসার দায়ী থাকতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD)-এ পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে এসে বুকজ্বালা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে। একইভাবে, গ্যাস্ট্রাইটিস বা আলসারের রোগীদের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ানোর ফলে প্রদাহ আরও তীব্র হয়ে যেতে পারে এবং ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

তবে খাবার-পরবর্তী পেটব্যথার উৎস সর্বদা পাকস্থলী হয় না। বিশেষ করে তেল-চর্বিযুক্ত খাবারের পর যদি পেটের ডান দিকের ওপরের অংশে হঠাৎ তীব্র ব্যথা শুরু হয় এবং তা কয়েক ঘণ্টা স্থায়ী হয়, তাহলে পিত্তপাথরের কারণে পিত্তথলির প্রদাহের সম্ভাবনা থাকে। কারণ চর্বিযুক্ত খাবার হজমের সময় পিত্তথলি সংকুচিত হয় এবং পাথর যদি পিত্তরসের পথ আটকে দেয়, তাহলে ব্যথা শুরু হয়।

অন্যদিকে, ইনফ্ল্যামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (IBD) বা ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS) থাকলে স্বাভাবিক হজম প্রক্রিয়ার সময় অন্ত্রের সংকোচনও ব্যথার কারণ হতে পারে। আবার ল্যাকটোজ ইনটলারেন্সের মতো খাদ্য অসহিষ্ণুতায় দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার পর পেট ফাঁপা, অতিরিক্ত ঢেকুর এবং অস্বস্তি দেখা দেওয়াও স্বাভাবিক।

তলপেটের ব্যথাও অনেক সময় কোলনের সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। খাবার অন্ত্রে পৌঁছানোর পর কোলন নতুন খাবারের জন্য জায়গা তৈরি করতে সংকুচিত হয়। এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গ্যাস আটকে গেলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কোলাইটিস বা ডাইভার্টিকুলার ডিজিজে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে। আবার কিছু মানুষের ক্ষেত্রে খাবার খাওয়ার পর অতিমাত্রায় গ্যাস্ট্রোকোলিক রিফ্লেক্স সক্রিয় হয়ে হঠাৎ পেটে ক্র্যাম্প এবং দ্রুত শৌচাগারে যাওয়ার তীব্র তাগিদ তৈরি করতেও পারে।

আরও পড়ুন: মেঘমুক্ত আকাশে পঞ্চগড় থেকে দৃশ্যমান কাঞ্চনজঙ্ঘা, উচ্ছ্বসিত প্রকৃতিপ্রেমীরা

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে, যদি খাবারের পর নিয়মিত পেটব্যথা, তীব্র জ্বালাপোড়া, দীর্ঘস্থায়ী অস্বস্তি অথবা অন্য কোনো উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। কারণ দ্রুত কারণ চিহ্নিত করতে পারলে জটিলতা এড়ানো এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়ে যায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৮ এম


বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

বাংলাদেশ এবং মালদ্বীপের মধ্যে বর্তমানে বন্দি বিনিময়ের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যদি এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হয়, তবে মালদ্বীপের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিরা মানবিক বিবেচনায় নিজেদের দেশে ফিরে বাকি সাজা ভোগ করার সুবিধা পাবেন।

এই তথ্যটি শুক্রবার বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

হাইকমিশন জানিয়েছে, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি শিগগিরই স্বাক্ষরিত হয়ে কার্যকর হবে। এর ফলে দুই দেশের আইনি এবং মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যা বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও সামাজিক পুনর্বাসনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার এবং মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সে দেশের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করেছে।

এ পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দল কারাগারে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন।

হাইকমিশন জানায়, বর্তমানে মাফুশি কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডিত, এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলেছেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পোশাক, আবাসন এবং সামগ্রিক কারা পরিবেশের খোঁজখবর নেন।

পরে, মালদ্বীপের কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠকে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা এবং অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরে দ্রুত তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমূহ নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। তিনি বলেন, প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।

তিনি আরও বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিরা তাদের নিজ দেশের মধ্যে সাজা ভোগ করতে পারবেন, যা প্রবাসে আটক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তীব্র জ্বর হলে যেভাবে বুঝবেন আপনার ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪২ এম


তীব্র জ্বর হলে যেভাবে বুঝবেন আপনার ভাইরাল ফ্লু নাকি ডেঙ্গু হয়েছে

বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই জ্বর, সর্দি-কাশি সহ নানা ধরনের ভাইরাল সংক্রমণের প্রকোপ বেড়ে যায়। একই সময়ে, যখন বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা স্থানে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়, তখন ডেঙ্গুর ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। ফলে, যখন হঠাৎ জ্বর আসে, তখন অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান—এটি কি সাধারণ ভাইরাল জ্বর, নাকি ডেঙ্গু?

সমস্যা হলো, ডেঙ্গু ও সাধারণ ভাইরাল জ্বরের শুরুর দিকের উপসর্গগুলো প্রায় একই রকম। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, বর্ষাকালে জ্বরকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

চিকিৎসকরা বলেন, সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ এবং ডেঙ্গুকে একসূত্রে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। কারণ, ডেঙ্গু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই শুরু থেকেই লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

ডেঙ্গু ও ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ অন্যান্য ভাইরাল সংক্রমণের শুরুতে যে সব সাধারণ উপসর্গ দেখা যায় তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত—

• হঠাৎ জ্বর

• শরীরে দুর্বলতা ও অবসাদ

• শরীরব্যথা

• অতিরিক্ত ক্লান্তি

তবে, এসব উপসর্গ থাকলেই যে ডেঙ্গু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে বলা যায় না। আবার এগুলোকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলাও করা উচিত নয়।

যেসব উপসর্গ ডেঙ্গুর আশঙ্কা বাড়ায়, সেগুলি হলো—

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণ ভাইরাল জ্বরের তুলনায় ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত বেশি তীব্র হয়। বিশেষ করে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন—

• তীব্র জ্বর

• প্রচণ্ড মাথাব্যথা

• চোখের পেছনে ব্যথা

• পেশি ও জয়েন্টে তীব্র ব্যথা

• বমি বমি ভাব বা বমি

• শরীরে লালচে র‍্যাশ বা দাগ

চিকিৎসকরা জানান, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মাড়ি বা নাক থেকে রক্তপাত হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে বা কালো দাগ দেখা দিতে পারে, এবং তীব্র পেটব্যথাও হতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে।

কখন ডেঙ্গু পরীক্ষা করানো উচিত? চিকিৎসকদের মতে, বর্ষাকালে জ্বর হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। জ্বরের প্রথম দিকেই ডেঙ্গু শনাক্তে এনএস১ (NS1) অ্যান্টিজেন পরীক্ষা কার্যকর। প্রয়োজন অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে পিসিআর (PCR) পরীক্ষাও করা হয়।

অন্যদিকে, যদি জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হয় বা বৃদ্ধি পায়, তাহলে চিকিৎসক ডেঙ্গু অ্যান্টিবডি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। রোগীর উপসর্গ, শারীরিক অবস্থা ও জ্বরের সময়কাল বিবেচনা করে কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন চিকিৎসক।

বর্ষার সময়ে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল সংক্রমণ ভেবে অবহেলা না করে শুরু থেকেই সতর্ক থাকুন। সময়মতো পরীক্ষা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসাই ডেঙ্গুর জটিলতা এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বৃষ্টির পানিতে ঘামাচি কমে, কতটা সত্য?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ এম


বৃষ্টির পানিতে ঘামাচি কমে, কতটা সত্য?

বর্ষাকালে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের হয়ে থাকে। কর্মস্থলে যাওয়া-আসা কিংবা ব্যবসায়িক প্রয়োজনে বাইরে থাকা মানুষেরা যেমন অনিচ্ছাকৃতভাবে বৃষ্টিতে ভিজে পড়েন, তেমনই গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজে নিয়োজিত অনেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই কাজ চালিয়ে যান।

আবার অনেক তরুণ-তরুণী শখের বশে বা আনন্দের জন্য ইচ্ছা করে বৃষ্টিতে ভিজে থাকেন। এরপর বেশির ভাগ মানুষ পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করেন, কারণ প্রচলিত বিশ্বাস—এতে নাকি ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি কমে। তবে চিকিৎসকদের মতে, এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা বলেন, বৃষ্টিতে ভেজার পর গোসল করার অভ্যাস অবশ্যই ভালো। তবে এর উদ্দেশ্য ঠান্ডা-সর্দি প্রতিরোধ নয়। তিনি জানান, গোসল করলে ঠান্ডা লাগবে না—এমন ধারণা কেবল একটি প্রচলিত ভুল বিশ্বাস।

এদিকে, বর্তমানে শহরের বাতাসে ধুলাবালি, দূষিত কণা, বিভিন্ন রাসায়নিক ও অম্লীয় উপাদান মিশে থাকে। বৃষ্টির ফোঁটা নিচে নামার সময় এসব ক্ষতিকর উপাদান সঙ্গে নিয়ে আসে। ফলে বৃষ্টির পানি দীর্ঘ সময় ত্বকে লেগে থাকলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, র‌্যাশ বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বৃষ্টিতে ভেজার পর যত দ্রুত সম্ভব পরিষ্কার পানি দিয়ে গোসল করে শরীর পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

বৃষ্টির পানিতে ভিজলে ঘামাচি কমে যায়—এমন ধারণা সঠিক নয়। বৃষ্টির পানির কোনও বিশেষ গুণের কারণে নয়, বরং শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে সাময়িকভাবে ঘামাচি বা হিট র‌্যাশের উপসর্গ কমে আসে। একই ফল সাধারণ ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলেও পাওয়া যায়। অর্থাৎ ঘামাচি কমার সঙ্গে বৃষ্টির পানির সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই; মূল বিষয় হলো শরীরকে ঠান্ডা রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোর্তোয়ার চোটেই কি কপাল পুড়ল বেলজিয়ামের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ এম


কোর্তোয়ার চোটেই কি কপাল পুড়ল বেলজিয়ামের

ঊরুর চোটের কারণে থিবো কোর্তোয়া পুরো ম্যাচ খেলতে পারেননি স্পেনের বিপক্ষে। ছবি: ফিফা

টাইম মেশিনে চেপে ৮ বছর আগের জুলাইয়ে ফিরে যাওয়া যাক। ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ঘটনাটি।

বেলজিয়ামের বিপক্ষে তখন ২-১ গোলে পিছিয়ে ছিল ব্রাজিল।

কাজানের ম্যাচের শেষ দিকটিতে নেইমার জুনিয়র একটি বাঁকানো শট নেন। বলটা ডান দিকের কোণ দিয়ে বেলজিয়ামের জালে প্রবেশ করতে একটা বৈপ্লবিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য দক্ষতায় সুপারম্যানের মতো লাফিয়ে উঠে তা ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়।

ব্যস, ব্রাজিলের সমতা ফেরার যে সম্ভাবনা ছিল, তা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা তৈরি করে নেয় বেলজিয়াম।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে এভাবেই নেইমারকে গোলবঞ্চিত করেছিলেন কোর্তোয়া। ছবি: ফিফা

৮ বছর পর, আরেক জুলাইয়ে, বেলজিয়াম হয়তো আবারো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠতে পারত। লস অ্যাঞ্জেলেসে এবারের ম্যাচে সম্ভবত কোর্তোয়া ‘সুপার হিরো’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন স্পেনের বিপক্ষে।

লামিনে ইয়ামালকে একাধিকবার হতাশ করার পর, প্রায় ‘পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জ’- থেকে নেওয়া মিকেল ওইয়ারজাবালের শট রুখে দিতে প্রস্তুত ছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা গোলকিপার কোর্তোয়া।

কিন্তু হঠাৎ করে ঊরুর চোটে পড়ে মাঠে লুটিয়ে পড়লেন কোর্তোয়া। কিছুক্ষণ চিকিৎসা নেওয়ার পর উঠে দাঁড়ালে আশা করা হচ্ছিল, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন।

কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।

৭২ মিনিটে কষ্টের সঙ্গে মাঠ ছাড়েন কোর্তোয়া। ৮ বছর আগে যিনি নেইমারের ব্রাজিলকে কাঁদিয়েছিলেন, আজ তিনিই চোখের জলে মাঠ ছাড়লেন। জার্সি তুলে দুহাত দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার চেষ্টা করেও সে কান্না আড়াল করতে পারলেন না!

কোর্তোয়া মনে হয় তখনই বুঝে গিয়েছেন, ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের ১৮ মিনিট বাকি থাকতে মাঠ ছাড়ার পর তাদের বিশ্বকাপের স্বপ্নও শেষ হয়ে যেতে হবে।

এমনি হলো। থিবো কোর্তোয়ার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে যিনি ধরা হচ্ছিলেন, সেই সেনে লামেন্স কোর্তোয়ার বদলি নেমেও তার রেখে যাওয়া কাজটুকু সম্পন্ন করতে পারেননি। বরং একটি বড় ভুল করে বসেন।

পাউ কুবারসির নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকালেও বলটিকে হাতে রাখতে পারেননি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের গোলকিপার লামেন্স। তখনই ধেয়ে এসে স্পেনের ‘সুপার সাব’ মিকেল মেরিনো বলটিকে জালে পাঠিয়ে দেন। লামেন্সের ভুলের জন্য বিদায় নিতে হলো বেলজিয়ামকে। অথবা আমরা বলতে পার, কোর্তোয়ার চোটের জন্য বেলজিয়ামের কপাল পুড়ল।

থিবো কোর্তোয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন সেনে লামেন্স। ছবি: ফিফা

দ্য অ্যাথলেটিকও একই কথা বলছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, থিবো কোর্তোয়ার চোট স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের হারে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রিয়াল মাদ্রিদের অভিজ্ঞ গোলকিপার একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে বেলজিয়ামকে ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন।

ঊরুর চোটের জন্য কোর্তোয়া শুধু গোলকিক নিতে পারছিলেন না। বাকি কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে করতে পারছিলেন। তাই তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন।

কিন্তু বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া কোর্তোয়াকে আর খেলাতে চাননি। ম্যাচ শেষে তিনি বলেছিলেন, ‘এটাই শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবল। এমন ম্যাচে ভালো খেলতে হলে পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে হয় এবং শতভাগ ফিট থাকতে হয়। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, ১০০ শতাংশ ফিট নয়—এমন কোনো খেলোয়াড়কে মাঠে রাখব না। আজ কোর্তোয়ার ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে।’

গার্সিয়া সাক্ষাৎকারে আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপজুড়ে কোর্তোয়া দুর্দান্ত খেলেছে। কিন্তু আমরা চাইনি তার চোট আরো গুরুতর হয়ে উঠুক। তাই তাকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে।’

কোচের যুক্তি কিছুটা সঠিক হলেও পুরোপুরি সঠিক নয়। দেশের প্রতি নিবেদন দেখিয়ে যে মানুষটা খেলা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, তাকেও যদি ১৮ মিনিট কিংবা পুরো ম্যাচ খেলতে দেওয়া হতো, তাহলে কী এমন ক্ষতি হতো!

চোটে পড়ার পর কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়লেন কোর্তোয়া। ছবি: ফিফা

এবারের বিশ্বকাপে কোর্তোয়া ১০টি সেভ করেছেন। এটি ছিল তার বিশ্বকাপের ২১তম ম্যাচ। গোলকিপারদের মধ্যে বিশ্বকাপে তার চেয়ে বেশি ম্যাচে খেলেছেন কেবল একজন—জার্মানির মানুয়েল নয়্যার; তিনি ২৩ ম্যাচ খেলেছেন।

কোর্তোয়ার বয়স ৩৪ পেরিয়েছে। ২০৩০ সালে, বিশ্বকাপের সময় তার বয়স হবে ৩৮ বছর। ৪০ বছর বয়সেও কেপ ভার্ডের ভোজিনিয়া যে ইতিহাস সৃষ্টি করে গেছেন, তা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কোর্তোয়া পরের বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেন। নয়্যারকে ছাড়িয়ে তিনিই হতে পারেন বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা গোলকিপার।

তবে তার আগে ভেঙে পড়া কোর্তোয়ার মনটা যে আবারো জোড়া লাগাতে হবে সেটা তো নিশ্চিত!

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%