বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:৪৯ পি.এম
ভারতের রাজধানী দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকা বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রবল বর্ষণের কারণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। উপড়ে পড়েছে বড় বড় গাছ, একাধিক জায়গায় সড়ক নদীতে রূপান্তরিত হয়েছে, যার ফলে যান চলাচলে ব্যাহত ঘটে, এবং ভবন ধসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ভবন ধসে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন। সবমিলিয়ে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষের জনজীবন।
এদিকে, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর (আইএমডি) বৃহস্পতিবার সারাদিন ব্যাপী আরও বৃষ্টিপাতের সাথে বজ্রপাত ও ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অবিরাম বৃষ্টির কারণে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি এলাকার সড়কে নদীর পানির মতো স্রোত বইছে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে রোহিনীতে; সেখানে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একটি নির্মাণাধীন চারতলা ভবন ধসে পড়ে তিনজন মারা যান।
আইএমডি’র তথ্য অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লির প্রধান আবহাওয়া কেন্দ্র সফদরজং-এ ৭২.৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে লোদি রোডে ৮০.২ মিলিমিটার, রিজ-এ ৭৭.৮ মিলিমিটার, পালামে ৬৩ মিলিমিটার এবং আয়ানগরে ৫৭.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দিল্লি শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সদর বাজার, গ্রেটার কৈলাশ, বদরপুর, নাসিরপুর, তেলিবাড়া, মহাবীর বাজার, স্বরূপ নগর, কুশক রোড, মুনিরকা, দ্বারকা, বিকাশ মার্গ, পূর্ব দিল্লি এবং নয়াদিল্লি রেলওয়ে স্টেশন এলাকা। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়া এবং রাস্তায় পানি জমে থাকার ফলে সকালের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
অবিরাম বর্ষণের ফলে দিল্লির বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ার ঘটনাও ঘটে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তোলে। সকাল থেকেই সড়কে জলাবদ্ধতা, গাছ উপড়ে পড়া, বিদ্যুৎ বিভ্রাট সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে দিল্লির বিভিন্ন পৌর সংস্থার কাছে। অভিযোগ পেয়ে এছাড়াও পৌরসভা সড়ক পরিষ্কার ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য জরুরি পরিষেবা দলগুলোকে মোতায়েন করেছে। ভারী বর্ষণের প্রভাব কেবল দিল্লিতেই নয়, বরং গুজরাট, কেরালা, মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেও বিস্তৃত হয়েছে।
কেরালার ওয়েনাড এলাকায় ধস ও বর্ষণজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবারই একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। রাজ্যটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী এ পি অনিল কুমার বলেছেন, আজ সকালেই জোন-১ এলাকায় একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এবং উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের রাজধানী মুম্বাই ও পুনে শহরেও একটানা বর্ষণ চলছে, যা স্বাভাবিক জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বুধবার পুনেতে একটি ভবন ধসে পড়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে।
সাম্প্রতিক কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গুজরাটের সুরাটেও ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিচু এলাকায় বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষকে অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বণ্টনের কাজও চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ ফরিদা খানম শিক্ষার্থীদের পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট সচেতনতামূলক উদ্যোগই একটি পরিচ্ছন্ন সমাজ গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর কেরানীগঞ্জ গার্লস স্কুলে আয়োজিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিচ্ছন্নতা একটি অভ্যাস, আর এই অভ্যাস গড়ে তুলতে বিদ্যালয়ই সবচেয়ে উপযুক্ত স্থান।
তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করা সম্ভব। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই বিদ্যালয় থেকেই পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ফরিদা খানম যোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার উদ্যোগ বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে যে কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরো বলেন, সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
সভা শেষে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণে বর্জ্য পৃথক করার গুরুত্ব উঠে আসে এবং লাল, নীল ও কালো রঙের বিনে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য আলাদাভাবে সংরক্ষণের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য আলাদা করা এবং বিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার বিভিন্ন কৌশলও শিক্ষার্থীদের শেখানো হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক স্কুলের ‘ক্লিন স্কুল টিম’-এর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি টিমের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে গঠিত ক্লিন স্কুল টিম নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ, টয়লেট, বারান্দা, খেলার মাঠ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা তদারকি করবে। পাশাপাশি কোথাও পানি জমে থাকলে তা অপসারণ, ডেঙ্গুর লার্ভা বিস্তার রোধে সচেতনতা সৃষ্টি, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা নিশ্চিত করা এবং পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে কাজ করবে।
তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পরিবার ও সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্লিন স্কুল টিম সক্রিয়ভাবে কাজ করলে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, পুরো এলাকাই পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই সময় কেরানীগঞ্জ উপজেলার সব সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানে ক্লিন স্কুল টিমের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি, বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থা চালু এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরো কার্যকর করার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টানা ৩০ বছর ধরে ২২০ কোটি ইউয়ানের (যা প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ হাজার ৯৯৯ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি) ঘুষ নেওয়ার অপরাধে পূর্ব চীনের একটি আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে সাবেক এক নগর কর্মকর্তাকে।
দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার দিক থেকে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় একটি ঘটনা। ঘুষ নিয়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ব্যক্তির নাম ইয়াং ইউলিন। তিনি ১৯৯৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নানজিং শহরের বিভিন্ন সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। নিয়োগকালে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। দেশটিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দুর্নীতির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বর্তমানে তার বয়স ৬৯ বছর।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে যে, ইয়াং ইউলিন নিজের পদমর্যাদার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৌশল প্রকল্পের চুক্তি, জমি হস্তান্তর ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণ করতেন। প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের দুর্নীতিবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। বর্তমানে চীনে সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও একই রকম দুর্নীতিবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) চাংঝৌ শহরের আদালত রায়ে জানিয়েছে, ইয়াং কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় নানজিংয়ের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নসংক্রান্ত কাজে কাটিয়েছেন। সেই সময়ের তার অপরাধের কারণে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে বিরাট ও অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।
শি চিন পিং চীনের ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান শুরু করেছেন। তবে সমালোচকরা অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিতে এসব অভিযান ব্যবহৃত হচ্ছে। চীনে সাধারণত আর্থিক বা কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগে কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেওয়া খুবই বিরল। তবুও, কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যদি দুর্নীতির পরিমাণ ১০০ কোটি ইউয়ান অতিক্রম করে, শাস্তি দেওয়া হয়। এর পূর্বে চীনের অর্থবিষয়ক সাবেক প্রধান কর্মকর্তা লাই শিয়াওমিনকে ১০ বছর ধরে ১৮০ কোটি ইউয়ান ঘুষ নেওয়ার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়। এছাড়া ৩০০ কোটি ইউয়ানের বেশি অর্থ আত্মসাৎ ও ঘুষ নেওয়ার অপরাধে ২০২৪ সালে ইনার মঙ্গোলিয়ার সাবেক কর্মকর্তা লি জিয়ানপিংয়ের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
অন্যান্য অনেক ক্ষেত্রে, দেশটির আদালত আসামিদের কারাদণ্ড বা স্থগিত মৃত্যুদণ্ড দিয়ে থাকেন, যা নির্দিষ্ট সময় পর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়। কখনো কখনো দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা অন্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করলে আদালত তাঁদের সাজা কমিয়ে দেন। ইয়াংও এই ধরনের তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু তার অপরাধের গুরুত্ব এতটাই বেশি ছিল যে ওই সহযোগিতা তার শাস্তি কমাতে পারেনি বলে চাঙঝৌ আদালত জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত খবরে বলা হয়েছে, ইয়াং আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এবং চূড়ান্ত বক্তব্যে গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় চলমান দুর্যোগপূর্ণ বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট যেকোনো স্বাস্থ্যগত সংকট মোকাবেলায় পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে।
এছাড়া, পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নভিত্তিক মেডিকেল টিম গঠন করে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমকে অধিকতর জোরদার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল টিমের টিম লিডারদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব এসব তথ্য তুলে ধরেন। একই দিন, চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন অফিসের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সৌনম বড়ুয়া হাসপাতাল ও ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা, পানিবাহিত রোগ, সাপের কামড়, ডায়রিয়া, জ্বর-সর্দি, চর্মরোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
এসব পরিস্থিতি মাথায় রেখে, পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ রাখা হয়েছে।
এছাড়া, দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোকে প্রয়োজনে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে বলে স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়। দুর্যোগ পরিস্থিতির মোকাবেলায় উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত সাড়া দিতে একটি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও সক্রিয় রাখা হয়েছে। পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কন্ট্রোল রুমের নম্বর: ০১৭৩০-৩২৪৪৫১। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বা তথ্যের প্রয়োজন হলে, সংশ্লিষ্টদের এ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সহায়তা, রোগ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা—এই তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। বিশেষ করে, আশ্রয়কেন্দ্র ও প্লাবিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিতে মেডিকেল টিমগুলোকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব বলেন, ‘চলমান বৈরী আবহাওয়ায় পটিয়া উপজেলার কোথাও যেন স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। কন্ট্রোল রুম চালু রেখে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। জরুরি ওষুধ, খাওয়ার স্যালাইন, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘দুর্যোগের সময় সাধারণত ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, জ্বর, চর্মরোগ ও সাপের কামড়ের ঘটনা বাড়ে। তাই আমরা মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের সতর্ক অবস্থানে রেখেছি। কোথাও স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা তৈরি হলে, দ্রুত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুন্দরবনের বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য, যারা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছেন। এই আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়েছে।
এছাড়া, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে 'অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন' এবং 'অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড' নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ জুলাই) বিকেল ৫টার সময় বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায়, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারীরা হলেন— বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। কোস্ট গার্ড জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
আত্মসমর্পণের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি, তাদের জিম্মায় থাকা এক জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এই সময়ে ৪২ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জনকে জীবিত উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্যও অস্ত্রসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী তিন সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাহিনীটি আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনের সক্রিয় বনদস্যুদের অস্ত্র সমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যারা আত্মসমর্পণ করবেন, তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ