০৮:২৮ এম
মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার একটি প্রস্তাব সরকার পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই তথ্য জানান।
বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, ভ্যাটের আওতা প্রসারিত করার লক্ষ্য নিয়ে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে মূসক নিবন্ধন গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার জন্য আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের আরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক কর ব্যবস্থার আওতায় আসবে এবং রাজস্ব আহরণ বাড়বে।
আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ, বিশেষজ্ঞ দল আসছে
এছাড়াও, রাজস্ব বাড়ানোর জন্য ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইনে সংশোধনের প্রস্তাব দেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর ব্যবস্থার কার্যকারিতা উন্নয়নের উদ্দেশ্যে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ভিন্ন ভিন্ন তফসিতে সংশোধন করা হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের মধ্যে উৎপাদিত অ্যালকোহলের প্রতি লিটার উৎপাদন পর্যায়ে ৫০০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানির জন্য ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। এ ছাড়াও, বৃক্ষ, বৃক্ষের অংশ এবং সুগন্ধি বৃক্ষের নির্যাস আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিজেপি এমপি নিশিকান্ত দুবে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম-সিলেট দখলের উসকানি দিলেন
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা দাঁড়াবে, যা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এবং ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে নির্বাহ করার প্রস্তাব রয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্বাহ হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন