মো: রাসেল সরকার ( স্টাফ রিপোর্টার)
০৪:৫৫ পি.এম
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত প্রাথমিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র 'জামিরতা ভিশন সেন্টার' এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের জামিরতা বাজার চত্বরে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ডক্টর এম এ মুহিত এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা শারমিন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিনী স্থপতি ফাহমিদা মুহিত এবং অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডাঃ মুনির আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাঃ ইসরাইল হোসেন। এ সময় মন্ত্রী জানান, সারা বাংলাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে আধুনিক চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়ার যে মহত্তর স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, জামিরতার এই ভিশন সেন্টার সেই স্বপ্নের একটি মাইলফলক। তিনি আরো জানান, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষ ঘরে বসেই যেমন একটি সুবিধা পাবে, তেমনই তারা ঢাকা বা নিউ ইয়র্কের মতো শহরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে সরাসরি চোখের পরামর্শ ও চিকিৎসা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভকারীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ‘চাক দে ইন্ডিয়া’ গান গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করছেন বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরে মানুষের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি পূরণ হয়েছে। ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করলেও শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা চাওয়াসহ বাকি দাবিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
দলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের পদত্যাগ-পরবর্তী উদযাপনের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছে, ‘গণতন্ত্রের জয় হয়েছে।’
এর আগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রতিক্রিয়ায় সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। এটি প্রমাণ করে, আপনি যদি ভয় না পান, এই সরকারের সামনে মাথা নত না করেন, তাহলে যে কারও পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব। গণতন্ত্রে ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।’
‘ভারতের তরুণদের বিজয়’ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপাল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ভারতের তরুণদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তরুণদের শক্তিই অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্ত ও দায়ী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। এটি জনগণের জয় এবং জবাবদিহির দাবিতে লড়াই করা সবার বিজয়।’
বেনুগোপাল বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই কংগ্রেস, বিশেষ করে রাহুল গান্ধী, তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিরোধীদলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের বাকি দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সংঘটিত নিপীড়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমা প্রার্থনা।
‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’ ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শরদ পাওয়ারও ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘তরুণদের শক্তির বড় বিজয়’ বলে মন্তব্য করেছেন।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২৮ দিন ধরে তরুণদের যে সংগ্রাম ও দৃঢ়তা দেখা গেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের দৃঢ় দাবির মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী অবশেষে পদত্যাগ করেছেন। ভয়কে উপেক্ষা করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই লড়াই সরকারকে নৈতিক দায় স্বীকারে বাধ্য করেছে। এটি গণতন্ত্রের শক্তির প্রতীক এবং দেশের তরুণদের ঐক্যের বড় বিজয়।’
এদিকে, আন্দোলন দমন করলে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে আম আদমি পার্টি। কেন্দ্রীয় সরকারকে শিক্ষার্থী ও তরুণ আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ না করার আহ্বান জানিয়েছে আম আদমি পার্টি (এএপি)।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতা গোপাল রাই দাবি করেন, নিট পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বিহারের পাটনা ও গুজরাটে গ্রেপ্তার হওয়া সকল ছাত্রনেতাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেছেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার পুলিশ ব্যবহার করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। একদিকে তারা আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে গুজরাটে আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।’
গোপাল রাই বলেন, ‘আপনারা যদি এভাবে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেন, তাহলে এটি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে। সরকারের এসব পদক্ষেপ প্রমাণ করে, তারা আন্দোলনকারীদের কণ্ঠরোধ করে আন্দোলন দমন করতে চাইছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সিলেটের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ চলমান রয়েছে। সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভীবাজারগামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদস্বরূপ হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।
তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন এবং আন্তঃজেলা সংযোগের সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পর্যায়ক্রমে এ গ্রেডে উন্নীত করা হবে। জরাজীর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কার করা হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমরা নগরবাসীকে উন্নত নাগরিক সেবা দিতে চাই। কিন্তু সওজের আওতাধীন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে মাননীয় মন্ত্রীর নেতৃত্বে আজকের বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মন্ত্রী সিটি করপোরেশন এলাকার সওজের আওতাধীন সব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন। সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও দ্রুত কাজ শুরু করার আশ্বাস দিয়েছেন। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এ কাজে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
সিসিক প্রশাসক বলেন, ইতোমধ্যে আমরা অনেক সড়ক নির্মাণ, প্রশস্তকরণ ও সংস্কার করেছি। আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আমলে সবকিছু ধ্বংস করে দেশকে অন্ধকার যুগে অবতীর্ণ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে ফ্যাসিবাদী সরকার। আমাদের একটি ফ্যাসিবাদী চরম দুঃশাসনের কাল অতিক্রম করে তাকে পরাজিত করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিপ্লবীরা অকাতরে জীবন দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছনে।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখার সময় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, 'সবুজে সবুজে ভরবো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' এ প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মাগুরায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে এ দেশের শিল্প-সংস্কৃতি, শিক্ষা, আইন ব্যবস্থা, বিচার ব্যবস্থা, আদালত, প্রশাসন এবং পুলিশ, সিভিল প্রশাসন, ব্যাংক-বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান সবকিছু ধ্বংস ও লুটপাট করেছে। এ দেশে চরম আধিপত্যবাদী পদলেহি সরকার অন্ধকার যুগে অবতীর্ণ করে। আমরা সেই অন্ধকার যুগের অবসান ঘটিয়ে একটি নতুন স্বপ্নের আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। একটি রেনেসাঁ সৃষ্টি করতে চাই তারেক রহমানের নেতৃত্বে এবং নবজাগরণ আনতে চাই।
এ সময়, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যান্য বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্হিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল এবং গ্রিনভিউ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের সভাপতি মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিজ হাতে পুলিশ লাইনে গাছের চারা রোপণ করেন। তিনি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন।
মাগুরা জেলা পুলিশ ও গ্রিনভিউ সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের আয়োজনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের রাজস্থানের ৬৫ বছর বয়সী ডাক্তারের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া নার্স, উল্টো প্রধান অভিযুক্ত ওই ডাক্তারের বিরুদ্ধে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন।
কমলা নামের ওই নার্স শুক্রবার বারমের আদালতে পেশ করার আগে একটি ভিডিও বার্তায় ডাক্তারকে অভিযুক্ত করে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ জানান। তিনি ডাক্তারকে একজন ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, ওই ডাক্তার তার হাসপাতালে যাওয়া একাধিক নারীর ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন।
ডাক্তারকে ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করা, তাকে ধর্ষণের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো এবং মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নার্সটিকে গ্রেপ্তার করার পর ঘটনাটি নতুন মোড় নেয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ করার পরে পুলিশ আদালতে পেশ করলে আদালত তাকে বিচার বিভাগের হেফাজতে পাঠায়। ভিডিও বার্তায় হাজির হওয়ার আগেই নার্সটি এই অভিযোগ তুলে ধরেন এবং ডাক্তারকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ডাক্তারের বিরুদ্ধে 'এক নম্বর ধর্ষক' হিসেবে ঠিকানা দিয়ে নার্স দাবি করেন, ডাক্তার বছরের পর বছর ধরে ১০০ জনেরও বেশি নারীকে যৌন নির্যাতনের শিকার করেছেন। তিনি বলেন, হাসপাতালের যেসব নারী রোগী সেখানে গিয়েছেন, তাদেরকেও ডাক্তার নির্যাতন করেছেন এবং কিছু নারী অতীতে পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন বলে জানান নার্সটি।
অভিযুক্ত নার্স বলেন, অতীতে করা সেই অভিযোগগুলো বেশি দূর এগোয়নি কারণ ডাক্তার টাকা দিয়ে এ সমস্ত বিষয় মিএ আটকাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি মত প্রকাশ করেন, তার বিরুদ্ধে আনীত চাঁদাবাজির এই মামলা মূলত তার করা অভিযোগগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।
নার্স হাসপাতালের অন্য কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের দুই কর্মী ওই ডাক্তারকে নারীরা সংগ্রহ করতে সাহায্য করতেন।
তবে পুলিশ এই অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে কোনো গ্যারান্টি দেয়নি এবং যে এগুলো প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো অফিসিয়াল ইঙ্গিতও এখনও পাওয়া যায়নি।
মামলাটি ওই ডাক্তারের করা অভিযোগের উপর ভিত্তি করে শুরু হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নার্স ২০১৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ডাক্তারের ব্যক্তিগত হাসপাতালের মূলত রাতের শিফটে কাজ করছিলেন।
অভিযোগ অনুসারে, নার্সটি চা বানানোর অজুহাতে হাসপাতালের চার তলায় ডাক্তারের ব্যক্তিগত ঘরে প্রবেশ করতেন। তেমন একটি সফরের সময়, তিনি ডাক্তারকে অজান্তে তার মোবাইল ফোনে ডাক্তার ও তার ব্যক্তিগত ছবি স্থানান্তর করেন।
ডাক্তার অভিযোগ করেন, নার্সটি পরে টাকা না দিলে সেই ছবিগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার, তাকে ধর্ষণের, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর এবং এমনকি তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ছিলেন।
নিজের ব্যক্তিগত সুনাম এবং হাসপাতালের সুনামের ক্ষতি হওয়ার ভয়ে ডাক্তার জানান, তিনি কয়েক বছর ধরে উক্ত নার্সকে টাকা দিচ্ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ