০১:৪৯ এম
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী, যারা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সদস্য। এই বিজয়কে ‘স্টেম সুইং’ ও ‘মেধাবীদের প্রতিশোধ’ হিসেবে একটি রাজনৈতিক সংগঠন উল্লেখ করেছে।
স্টেম সুইং শব্দটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত প্রার্থীদের প্রতি ভোটারদের আগ্রহকে নির্দেশ করে। গত কয়েক বছরে দেশটিতে বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিষয়ক অবকাঠামোতে বরাদ্দ কমে গেছে। এই কারণে, এবারের নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবার জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ফলস্বরূপ, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন (মাহা)’ কর্মসূচিকে ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
‘থ্রি পয়েন্ট ওয়ান ফোর অ্যাকশন’ নামে একটি সংগঠন দেশব্যাপী ডেমোক্র্যাট স্বাস্থ্যকর্মী ও বিজ্ঞানীদের নির্বাচিত করতে কাজ করে। এর নির্বাহী পরিচালক এরিক পলিয়াক জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল ছিল মূলত স্বাস্থ্যসেবার নির্বাচন। ফলাফল থেকে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার খরচ বহন করার সক্ষমতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। এসব ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমাদের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা যথেষ্ট যোগ্য।
আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত
আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের আবদুল এল-সাইয়েদ ও সাউথ ক্যারোলাইনার অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, যারা দুজনই চিকিৎসক। ১৯৬৯ সালের পর এই প্রথম সিনেটে কোনো ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আসন পেলেন।
‘রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশন’ নামে একটি দাতব্য সংস্থা আমেরিকার স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কাজ করে। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রিচার্ড বেসার এক বিবৃতিতে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ে হতাশ। সংসার চালাতে গিয়ে তারা ক্লান্ত। একই সঙ্গে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বিরক্ত। তারা এমন নেতা চাইছিলেন যারা জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
কংগ্রেসে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এবারের নির্বাচনের আগে তাদের অধিকাংশই ছিলেন রিপাবলিকান। বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে, ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের চিকিৎসক সদস্যদের ৮৬ শতাংশই রিপাবলিকান পার্টির সদস্য ছিলেন।
এবারও ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত একাধিক প্রার্থী ছিলেন। আইওয়া অঙ্গরাজ্যে প্রতিনিধি পরিষদের জন্য মারিয়েনেট মিলার-মিকস ও সিনেটের জন্য লড়েন রজার মার্শাল, দুজনই নির্বাচনে হেরে গেছেন। আরও তিনজন রিপাবলিকান চিকিৎসকের নির্বাচনী লড়াইয়ের ফল এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির বর্তমান চিকিৎসক আইনপ্রণেতাদের সবাই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। এরিক পলিয়াক বলেন, বিজ্ঞানে বিশ্বাসী আমেরিকানরা জেগে উঠেছেন। আমরা অন্তত ১০টি রিপাবলিকান আসন নিজেদের দখলে নিয়েছি। চূড়ান্ত সংখ্যা ৩০-এর ঘরে পৌঁছাবে বলে মনে হচ্ছে।
সিনেটের দুটি ও প্রতিনিধি পরিষদের ২৫টি আসনের ফলাফল ঘোষণা এখনো বাকি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন