নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০২:০৫ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোয়াখালী সদর উপজেলার আলোচিত তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা ‘ট্রিপল মার্ডার’ মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো.শওকত আলী এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ওমর নাসির সাজু (৩২), ওমর শরীফ সুলতান (২৫) এবং নোয়াখালী পৌরসভা এলাকার মো. সৌরভ (২৭)। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পী (২৭), কুদরত উল্যাহ (৬৫) ও হারুনুর রশীদ বাবুল (৪৫)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২১ মে দুপুরে কলেজ নোয়াখালী সরকারি কলেজ সংলগ্ন হোস্টেলের পুকুরে কুকুরকে গোসল করানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইদিন সন্ধ্যার পর স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক বসে। শালিসে আনোয়ারের বন্ধু রাজিব ও ওয়াসিমও উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এজাহারভুক্ত আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে আসামি সাজু, সৌরভ ও সুলতান এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়লে ওয়াসিম, রাজিব ও ইয়াছিন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাজিবকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহত রাজিবের স্ত্রী কামরুন নাহার ছবি বাদী হয়ে সুধারাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ১ নম্বর অতিরিক্ত আদালতের পিপি ও বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. বরুত উল্যাহ রাসেদ বলেন, গ্রেপ্তার একমাত্র আসামি ফিরোজ আলম বাপ্পীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মামলার পর থেকে অপর পাঁচ আসামি পলাতক রয়েছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. শামসুদ্দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেতা আসাদুজ্জামান খোকনকে মারধরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং ও সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন আসাদুজ্জামান খোকন।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিপুর রাজবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আসাদুজ্জামান খোকন নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকালে একটি দলীয় ভ্রমণ ও বনভোজনের অংশ হিসেবে আসাদুজ্জামান খোকন হরিপুর রাজবাড়িতে যান। সেখানে তিনি নিজের ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে আসেন। পরে দুপুরের দিকে তিতাস নদীতে গোসল করার সময় একদল লোক তাকে মারধর করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর তাকে রাজবাড়ির একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। একপর্যায়ে তাকে নাসিরনগর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আসাদুজ্জামান খোকনের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের দাবি, হামলার সময় তাকে মারধর করা হলে একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খোকনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোডশেডিং ও সরকারি দলের সমালোচনা করায় তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তার দাবি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান বিএনপির নেতাকর্মীদের দিয়ে এ হামলা করিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়েছে।
আসাদুজ্জামান খোকন বলেন, “আমি যতদিন বেঁচে থাকব, ততদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে যাব।”
তবে হামলার সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কে এম বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিছু মানুষ আসাদুজ্জামান খোকনের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। এর জের ধরে তাকে মারধর করা হয়ে থাকতে পারে। একদল লোক তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ওসি আরও জানান, আসাদুজ্জামান খোকনের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই। মারধরের ঘটনায়ও তিনি কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। পরে তাকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌরজগতের সৃষ্টি ও পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তির রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হতে পারে এমন নমুনা সংগ্রহের জন্য জাপানি বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের উপগ্রহে অভিযান চালাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তবে, প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের একটি অভিযান তার আগেই নমুনা নিয়ে পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাপানের তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি জানিয়েছেন।
আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তানেগাশিমা স্পেস সেন্টার থেকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে মনুষ্যবিহীন ‘মার্শিয়ান মুনস এক্সপ্লোরেশন’ বা এমএমএক্সের। এই অভিযান ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল পাঠানোর পথে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গত বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমের সামনে মহাকাশযানটি উন্মোচন করা হয়েছে। এটি প্রায় তিন বছর ধরে মঙ্গলের কক্ষপথে অবস্থান করবে এবং এ সময় মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসে অবতরণের চেষ্টা করবে।
মহাকাশযানটি ফোবোসের পৃষ্ঠ থেকে অন্তত ১০ গ্রাম উপাদান সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেছে। একই সময়ে, ফরাসি নামের কমিক চরিত্র অ্যাস্টেরিক্সের কুকুরের নাম অনুসারে ‘আইডেফিক্স’ নামের রোভারটি উপগ্রহটির পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করবে।
মহাকাশযানটি মঙ্গলের অপর উপগ্রহ ডেইমোসকেও পর্যবেক্ষণ করবে। তবে, সেখানে অবতরণ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। এরপর একটি ফেরত ক্যাপসুল পৃথিবীর উদ্দেশে রওনা হবে এবং ২০৩১ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ায় অবতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মিতসুবিশি ইলেকট্রিকের প্রকৌশলী আকিনারি উয়েহারা জানান, জাপানের মনুষ্যবিহীন স্মার্ট ল্যান্ডার ফর ইনভেস্টিগেটিং মুন (এসএলআইএম) বা ‘মুন স্নাইপার’ ২০২৪ সালে পৃথিবীর চাঁদে অবতরণের পরে কাত হয়ে পড়ে। তবে, সেটি তথ্য পাঠানোর সামর্থ্য রাখে এবং চাঁদের দুই সপ্তাহব্যাপী কয়েকটি রাত বেঁচে থাকে।
মহাকাশ থেকে নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার অভিজ্ঞতা জাপানের রয়েছে। ২০২০ সালে জাক্সার মনুষ্যবিহীন হায়াবুসা-২, পৃথিবী থেকে কয়েকশ কোটি কিলোমিটার দূরের একটি গ্রহাণু থেকে ৫.৪ গ্রাম পাথর ও ধুলার নমুনা সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নিয়ে আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ