ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বরগুনার ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের মৃত্যু: চার লাখ টাকার ঋণ ও সিসিটিভিতে ২২ মিনিটের রহস্য


বরগুনার ডাকবাংলোয় মা-মেয়ের মৃত্যু: চার লাখ টাকার ঋণ ও সিসিটিভিতে ২২ মিনিটের রহস্য

বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় মা ও তাঁর দুই শিশুকন্যার রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা চার লাখ টাকার বেশি ঋণ, সংসারের আর্থিক অনটন ও কিস্তি পরিশোধের দুশ্চিন্তাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ইতি রানী বিশ্বাস (৩৪) প্রথমে তাঁর দুই মেয়েকে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মহত্যা করেন। তবে মামলার বাদী স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাসের দাবি, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই কারণে তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের তদন্তের ফলাফল ও পরিবারের দাবির মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে সংবাদ সম্মেলনে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খান তদন্তের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। পুলিশ জানায়, মামলার আলামত, সাক্ষ্যপ্রমাণ, ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আদালতে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ মার্চ বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী ও তাঁর দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১২) এবং অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ইতি রানী বরগুনা পৌরসভার কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং ডাকবাংলোর পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে যান। পরে সেখানকার দুটি কক্ষ থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।

আরও পড়ুন: সাত দফা মেনে নিন, নইলে এক দফার ডাক দেওয়া হবে: শফিকুর রহমান

তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে ডাকবাংলোর সিসিটিভি ফুটেজ সামনে এসেছে। পুলিশ জানায়, ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে ডাকবাংলোয় প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা তৃতীয় তলায় যান। সকাল ১০টা ৫০ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে বড় মেয়ে আরাধ্যাকে তিন নম্বর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর ছোট মেয়ে অনুরাধাকে চার নম্বর কক্ষে রেখে ইতি রানী তিন নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন।

ফুটেজ অনুযায়ী, প্রায় ২২ মিনিট পর সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৩ সেকেন্ডে ইতি রানী তিন নম্বর কক্ষ থেকে বের হন। তিন সেকেন্ড পর, সকাল ১১টা ১৩ মিনিট ২৬ সেকেন্ডে তাঁকে চার নম্বর কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর ওই কক্ষগুলো থেকে তাঁদের কাউকে জীবিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীদের ধারণা, ইতি রানী কোমল পানীয় অথবা খাবার পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দুই মেয়েকে পান করিয়ে থাকতে পারেন। এরপর শ্বাসরোধে তাদের হত্যা করে নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতি রানীর মৃত্যু হয়েছে বেঞ্জোডায়াজেপিন-জাতীয় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় এবং চিকিৎসকদের মতে, তা আত্মহত্যাজনিত। অন্যদিকে, দুই শিশু আরাধ্যা ও অনুরাধার মৃত্যুর ক্ষেত্রে একই ধরনের রাসায়নিকের বিষক্রিয়ার পাশাপাশি আঘাতজনিত শ্বাসরোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতামতে তাদের মৃত্যু হত্যাজনিত বলে উল্লেখ রয়েছে। তিনজনের কারও ক্ষেত্রে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: এ বছর পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি, ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হবে না: কৃষিমন্ত্রী

তদন্তে উঠে আসা আর্থিক হিসাব বলছে, পরিবারটির মোট ঋণের পরিমাণ ছিল চার লাখ সাত হাজার ৭২৩ টাকা। পুলিশের তথ্যমতে, ইতি রানী পাঁচটি এনজিও থেকে মোট দুই লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তাঁর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস একটি এনজিও থেকে নিয়েছিলেন ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনিল রায় ও বাবুল রায়ের কাছ থেকে ধার নেওয়া হয়েছিল এক লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ঋণের অঙ্ক দাঁড়ায় চার লাখ সাত হাজার ৭২৩ টাকা।

পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সুপারি ব্যবসার পাশাপাশি দর্জির কাজ করতেন। তাঁর ছোট টেইলারিং দোকান ও সীমিত পরিসরের সুপারি ব্যবসা থেকে পরিবারের ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। প্রায় ৩০ বছর আগে নদীভাঙনে তাঁদের পুরোনো বসতভিটা বিলীন হয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁরা সরকারি জায়গায় বসবাস করছিলেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংসারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং স্বামীকে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যে মৃত্যুর প্রায় দুই মাস আগে মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যোগ দেন ইতি রানী। কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ ও সংসারের অনটন নিয়ে তিনি মানসিক দুশ্চিন্তায় ভুগছিলেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা গেছে। পুলিশের ধারণা, এই আর্থিক সংকট তাঁর হতাশার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে।

তবে পুলিশের এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে নারাজ মামলার বাদী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ঋণের কারণে ইতি রানী দুই সন্তানকে হত্যা করে আত্মহত্যা করবেন, এমন ঘটনা তিনি বিশ্বাস করেন না। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমরা এখনো হাতে পাইনি। তাতে কী লেখা এসেছে, তাও জানি না। ঋণের কারণে আমার স্ত্রী দুই সন্তানকে মেরে ফেলবে, তা হতে পারে না। আমার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই।'

আরও পড়ুন: গণরায় না মানলে জনগণ লালকার্ড দেখিয়ে দেবে: গোলাম পরওয়ার

ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিবার ও স্থানীয়দের একাংশ শুরু থেকেই ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার পরিবর্তে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। এ দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনাও ঘটে। ফলে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের পরও পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা নিয়ে জনমনে আগ্রহ রয়ে গেছে।

একটি পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যু, চার লাখ টাকার বেশি ঋণের হিসাব, সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া কয়েক মিনিটের ঘটনাপ্রবাহ এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন- সব মিলিয়ে মামলাটি পেয়েছে নতুন মাত্রা। পুলিশের তদন্তে যে চিত্র উঠে এসেছে, তাতে ঋণের চাপকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বাদীর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা। এখন আদালতে দাখিল হতে যাওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ায় মামলার অভিযোগ, আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ কীভাবে মূল্যায়িত হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় আইনি সিদ্ধান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাকিবকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত: ইয়ান বিশপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৪ পি.এম


সাকিবকে মেন্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া উচিত: ইয়ান বিশপ

সাকিব আল হাসান দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এবং সফল ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার অভিষেকের পর থেকে একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।

রাজনীতিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রতীকে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে সাকিব ক্রিকেট থেকে অবসর নেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর তিনি নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত হন, যা বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের জন্য একটি নতুন অধ্যায়।

দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের স্বার্থে সাকিব আল হাসানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক তারকা ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ।

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের পর এইচপি দলে মেন্টর হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তামিম ইকবাল। সাকিবকেও কোচ বা মেন্টর হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব কি না, এ বিষয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিখ্যাত ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপের কাছে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

মিরপুর শেরেবাংলায় সিরিজের ধারাভাষ্য দিতে এসে সাকিব সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বিশপ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘সাকিব কেন এখানে নেই, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানার মতো অবস্থানে আমি নেই। সংবাদমাধ্যমে যা পড়েছি, তার বাইরে বিষয়টির জটিলতা সম্পর্কে আমার জানা নেই। তাই এ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

তবে তিনি নিজ দেশের সাবেক ক্রিকেটারদের উদাহরণ টেনে তাদের কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিশপ বলেন, ‘ক্যারিবীয় অঞ্চলে ব্রায়ান লারা, কার্টলি অ্যামব্রোস, মাইকেল হোল্ডিং, জোয়েল গার্নার ও গর্ডন গ্রিনিজের মতো কিংবদন্তি ক্রিকেটার রয়েছেন। ক্যারিবীয় ক্রিকেট যদি কাইরন পোলার্ড, ডোয়াইন ব্রাভো কিংবা ড্যারেন স্যামির মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে, তাহলে আমাদের ক্রিকেট আরও সমৃদ্ধ হবে। তারা জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন, আবার স্কুলপর্যায়ের শিশুদেরও শেখাতে পারেন। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।’

বিশপ আরও উল্লেখ করেন, ‘বছরের পর বছর ধরে যারা অভিজ্ঞতা ও সাফল্য অর্জন করেছেন, তাদের জ্ঞান যেন হারিয়ে না যায়। বাংলাদেশেও এই ধারাটা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি। ক্যারিবীয় অঞ্চলেও আমরা সেটাই করার চেষ্টা করছি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাধবপুর সমাজসেবা অফিসে জুতা খুলে প্রবেশের নিয়ম, সমালোচনার ঝড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৫ পি.এম


মাধবপুর সমাজসেবা অফিসে জুতা খুলে প্রবেশের নিয়ম, সমালোচনার ঝড়

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে নতুনভাবে জুতা খুলে প্রবেশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। এই নিয়মটি প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কার্যকর রয়েছে এবং এটি নিয়ে সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কার্যালয়ের ইউনিয়ন সমাজকর্মী রঞ্জিত বিশ্বাস জানান, "শৃঙ্খলা বজায় রাখার অংশ হিসেবে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানেন। সবার ভালোর জন্যই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডল বলেন, "জুতা রাখার জন্য বক্সের ব্যবস্থা করা হবে। অফিসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই নতুন এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। তবে জুতা খুলে প্রবেশ বাধ্যতামূলক, বিষয়টি এমন নয়।"

নতুন নিয়মটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবা নিতে আসা কয়েকজন। সেবাগ্রহীতা নাজমা বেগম জানান, "এ ধরনের নিয়ম তিনি কোথাও দেখেননি। পায়ে সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাকে জুতা খুলে অফিসে প্রবেশ করতে হয়েছে।"

উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা ইকরাম মন্তব্য করেন, "সরকারি অফিসে জুতা খুলে প্রবেশের বিষয়টি আজগুবি। এ ক্ষেত্রে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"

হবিগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, "বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গোবিন্দগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার, পলাতক আরেকজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

খায়রুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৬ পি.এম


গোবিন্দগঞ্জে ডিবির অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ একজন গ্রেপ্তার, পলাতক আরেকজন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫০০ গ্রাম শুকনো গাঁজাসহ মোঃ বাদল মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় শামীম (৩৮) নামে অপর এক ব্যক্তি কৌশলে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটের দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর হরিনাথপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ক্রোড়গাছা এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি টিনশেড বসতবাড়ির ঘরের ভেতরে মাদকদ্রব্য গাঁজা কেনাবেচার অভিযোগে বাদল মন্ডলকে ৫০০ গ্রাম শুকনো গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় শামীম নামে অপর ব্যক্তি পালিয়ে যান। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে গাঁজা জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার বাদল মন্ডল ক্রোড়গাছা এলাকার মৃত তৈয়ব আলী মন্ডলের ছেলে। অপরদিকে পলাতক শামীম একই এলাকার দুদু হাজীর ছেলে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ও পলাতক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মামলা করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৪৭। পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ১৯(ক) ও ৪১ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ

পাকিস্তান কি সৌদি আরবের যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৩৭ পি.এম


পাকিস্তান কি সৌদি আরবের যুদ্ধে সরাসরি জড়াবে?

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন সমীকরণে পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইসলামাবাদ কতদূর পর্যন্ত রিয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগোবে, বিশেষ করে হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করবে কি না—এ নিয়ে আলোচনা চলছে।

‘দ্য ডিপ্লোম্যাট’-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে, সৌদি আরবের প্রতি নিরাপত্তার অঙ্গীকার থাকলেও পাকিস্তান এখনো সরাসরি স্থলযুদ্ধে জড়ানোর পরিবর্তে সহায়ক ভূমিকায় থাকার চেষ্টা করছে।

ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। ১৯৬০-এর দশক থেকেই পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সৌদি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

১৯৮২ সালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান সৌদি আরবের নিরাপত্তায় সেনা মোতায়েন করেছিল।

তবে সামরিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও ইসলামাবাদ সব সংঘাতে সৌদি আরবের পাশে সরাসরি যুদ্ধ করার নীতি অনুসরণ করেনি। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযানে যোগ দেওয়ার প্রশ্নে পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নিরপেক্ষ থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়। পরে সৌদি আরবে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হলেও সেগুলোর ভূমিকা মূলত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ ছিল।

নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি, বাড়ছে প্রত্যাশা

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি (এসএমডিএ) স্বাক্ষরের পর দুই দেশের নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন গুরুত্ব পায়। এরপর ২০২৬ সালের আগস্টে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তি আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করে।

দ্য ডিপ্লোম্যাটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় গত ৫ অক্টোবর পাকিস্তান ও তুরস্ক সৌদি আরবের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়। তবে পাকিস্তান সরাসরি শত্রুপক্ষের ভূখণ্ডে অভিযান চালানোর পরিবর্তে সৌদি বাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার অবস্থানে রয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। গোয়েন্দা নজরদারিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে পাকিস্তানের সম্পৃক্ততা থাকলেও সরাসরি লড়াই মূলত সৌদি বাহিনীই পরিচালনা করছে।

সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে বাধা কোথায়?

সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের অঙ্গীকার থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে দেশটির সামনে কয়েকটি জটিলতা রয়েছে। প্রথমত, পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে ইরানের সঙ্গে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে।

হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠতার কারণে সৌদি নেতৃত্বাধীন কোনো সামরিক অভিযানে পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও জটিল করতে পারে।

দ্বিতীয়ত, পাকিস্তানের জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ শিয়া মুসলিম। ফলে ইরানবিরোধী কোনো সামরিক অবস্থান দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও ভারতের সঙ্গে সীমান্তসংক্রান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়া ইসলামাবাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা ও বিনিয়োগ পাকিস্তানের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে রিয়াদের নিরাপত্তা চাহিদা উপেক্ষা করাও ইসলামাবাদের জন্য সহজ নয়।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে কোনো সংঘাতে রিয়াদ একই মাত্রায় সামরিক বা কূটনৈতিক সমর্থন দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের নিরাপত্তা রক্ষায় পাকিস্তানের ভূমিকা বাড়লেও সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণের প্রশ্নটি এখনো জটিল। একদিকে প্রতিরক্ষা চুক্তির বাধ্যবাধকতা, অন্যদিকে নিজস্ব নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ ও আঞ্চলিক ভারসাম্য—এই তিনের মধ্যে সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইসলামাবাদকে।

ফলে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের যুদ্ধে কতটা সরাসরি জড়াবে, তা নির্ভর করবে সংঘাতের গতিপ্রকৃতি এবং দুই দেশের নিরাপত্তা অঙ্গীকার কীভাবে বাস্তবায়িত হয় তার ওপর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%