বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:২৪ পি.এম
সংস্কারের পর, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ঢালে তরতর করে বেড়ে উঠছে লাউডগা। মাচার নিচে দুলছে শত শত লাউ। মাচা যেন দিগন্ত ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ মাচার শেষ প্রান্ত দেখা যাচ্ছে না। চরের বালুমাটিতে সবুজের সমারোহ সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে।এমন একটি দৃশ্য এখন ধরলার চরে দেখা যাচ্ছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সারডোব থেকে ফুলবাড়ী উপজেলার খোঁচাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় দু কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের ঢালে এই অভিনব চাষ সাড়া ফেলেছে এলাকায়। বাঁধের মাটির ক্ষয়রোধ ও অব্যবহৃত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন চরবাসী ও কৃষিবিভাগ।স্থানীয়দের মতে, ২০১৭ সালের বন্যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে যায়। গত বছর ভাঙা অংশ মেরামত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি সংস্কার করেছে। এরপর থেকেই বাঁধের ঢালে চাষাবাদ শুরু করেছেন স্থানীয়রা।বৃহস্পতিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢালের কোথাও লাউ, কোথাও বাঁশ; কোথাও কলাগাছ কিংবা অন্যান্য সবজি রয়েছে। এতে বৃষ্টিতে ভাঙনের হাত থেকে বাঁধের ঢাল রক্ষা পাচ্ছে এবং চরবাসী লাভবান হচ্ছে। কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সবজি চাষ করছেন।বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করছেন এমন কয়েকজনের দেখা মেলে সরেজমিন গিয়ে। জিয়াউল হক জিয়া, আব্দুল হাকিম ও আলতাফ হোসেন তাদের মধ্যে রয়েছেন। হলোখানা ও রাঙামাটি গ্রামে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁধের দুই পাশের ঢালে তারা যৌথভাবে মাচায় লাউ চাষ করেছেন।জিয়াউল হক জানান, গতবছর সীমিত পরিসরে বাঁধের ঢালে লাউচাষ করেন। সাফল্য দেখে উৎসাহিত হয়ে এবছর বড় পরিসরে চাষ করছেন। এক মাস আগে গর্তে গোবর দিয়ে উচ্চ ফলনশীল জাতের লাউচারা রোপণ করেছেন। এরপর জিআই তার ও বাঁশ দিয়ে দীর্ঘ মাচা তৈরি করেছেন। নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যা করে স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় নিতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন।সরেজমিন দেখা যায়, পানি সেচের জন্য নলকূপ স্থাপনে ব্যস্ত তারা। স্থানীয়রা জানান, চরে তাপপ্রবাহ বেশি। তার ওপর এবছর অনাবৃষ্টির দাপট রয়েছে। খরার কারণে সেচ দিতে হচ্ছে বেশি। পাশের বিল থেকে নিয়মিত সেচ দেওয়ায় অনাবৃষ্টি ক্ষতি করতে পারেনি চারার। গর্তে দেওয়া হয়েছে নানা ধরনের রাসায়নিক সার। পরিচর্যা তো চলছেই।মাচায় দুলতে থাকা শত শত লাউ দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। ইতিমধ্যে কিছু লাউ বাজারে বিক্রি করেছেন। প্রতিটি লাউ ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এবছর তারা লাউ ও লাউ শাক বিক্রি করে তিন লাখ টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখছেন। আবাদে খরচ পড়বে এক লাখ টাকা।ঢালের মাচা থেকে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও বড়বাড়িতে পিকআপ বোঝাই করে আড়তে নেওয়া হচ্ছে লাউ। সেখানে বিক্রি হচ্ছে প্রায় হাজার খানেক লাউ, প্রতিটির দাম ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা।জিয়াউলদের পাশেই রাঙামাটি গ্রামের আশরাফুল, মফিজুল ও সোহাগের লাউয়ের মাচা রয়েছে। প্রায় আধা কিলোমিটার অংশজুড়ে তাদের মাচার বিস্তৃতি। তারা সবাই ক্ষুদ্র কৃষক। লাউ চাষের পর তারা স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।পশ্চিমে হলোখানা গ্রামের আকবর আলী সিরাজুল ইসলাম লাউয়ের পাশাপাশি কলা, বাঁশ ও করলাসহ নানা সবজি চাষ করেছেন।এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, বাঁধের ঢালে সবজির ব্যাপক চাষ কৃষকদের মধ্যে আশা জাগিয়েছে। এর মাধ্যমে ভূমিহীনরাও চাষের জন্য জমির ঠিকানা পেয়েছে।সারডোব গ্রামের বাসিন্দা এনামুল হক জানান, গত বছর থেকে বাঁধের ঢালে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এবছর বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়েকজন লাউসহ সবজি চাষ করেছেন। সাফল্য দেখে অনেকেই এই অপ্রচলিত চাষ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন। এর মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তারা লাভবান হননি, এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ ও কর্মসংস্থান হয়েছে।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মুন্না হক জানান, বাঁধের সুরক্ষার জন্য এধরনের চাষবাস বেশ উপকারী। তাই তারা চাষে বাঁধা দেননি। এর মাধ্যমে বাড়তি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে কৃষক।কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বাঁধ ও সড়কের ঢালে সবজি চাষের দিকে ইদানিং অনেক কৃষক ঝুঁকে পড়েছে। বিশেষ করে ভূমিহীন কৃষকরা বাঁধের ঢালে চাষ করে লাভবান হচ্ছে। কৃষি বিভাগ এ ব্যাপারে সব সময় কৃষকদের উৎসাহিত করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চর দৌলতদিয়া এলাকার আইনউদ্দিন মৃধার পাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রওশন (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার রাতে স্থানীয়রা আখক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত রওশন ওই এলাকার রহিম শেখের স্ত্রী এবং রাসেল শেখের মা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রওশন বাড়ি থেকে বের হয়ে তাদের ধানক্ষেতে যান। জমিতে পড়ে থাকা কিছু ধান গুছিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি ধানক্ষেতে প্রবেশ করেন। এরপর কোনো একসময় তিনি পাশের রফিকুল মুন্সার আখক্ষেতের দিকে যান।
স্থানীয়দের দাবি, আখক্ষেতের পাশ দিয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইনের একটি শট দেওয়া বা ত্রুটিপূর্ণ তারের সংস্পর্শে এসে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে বুধবার রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটের দিকে স্থানীয়রা আখক্ষেত থেকে তাকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর স্থানীয়ভাবে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে গোয়ালন্দ মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রওশনকে মৃত ঘোষণা করেন।
রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, দৌলতদিয়ার ধানক্ষেত থেকে নারীর উদ্ধার হওয়া মর/দেহ ময়নাদতন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও বিদ্যুৎ লাইনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের পরই বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে এসে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং লাইনে ত্রুটি বা অবৈধ সংযোগ ছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তি এবং জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের নির্বাচন কার্যক্রম পর্যালোচনায় একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে বিএনপি।
আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটিতে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্য হলেন—ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার এবং মো. আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে ২৫ জন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট প্রতিনিধি নির্বাচনের লক্ষ্যে গ্র্যাজুয়েটদের তালিকাভুক্তি এবং নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী ঐক্য পরিষদের কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য এ সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরো বেগবান ও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা করেন। উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারি এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন। তিনি ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠককালে চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ