বুধবার, ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৮ পি.এম
নাট্যকার ও নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীবের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে শোবিজ অঙ্গনে। মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। প্রিয় সহকর্মীকে হারিয়ে শোকাহত রয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধুরা।
সজীবের সঙ্গে কাজের স্মৃতি স্মরণ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা খায়রুল বাসার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া সেই বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, সজীবের সঙ্গে সিনেমা বানানোর পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।
খায়রুল বাসার লিখেছেন, ‘কথা ছিল আমরা একদিন সিনেমা বানাব। কথা ছিল আমাদের আরো কতশত গল্প বলতে হবে। সেসব গল্প দর্শকের মনের অলিগলি ঘুরবে, হারিয়ে যাবে না। অথচ আমার ভাইটাই হারিয়ে গেল, খুব অপ্রস্তুত করে চলে গেলো সে। শুরু থেকেই আমরা ভাই-বন্ধু ছিলাম। শত শত কিলোমিটার পথ হেঁটেছি আর কত পরিকল্পনা, কথা-কাটাকাটি, যুক্তি-তর্ক হলো! শুধু নীরবতার সময়টায় আমাদের মন চোখ বলেছে, আমরা ভালো কিছু করতে চাই। আমরা আমাদের ভালো চাই। আমরা আমাদের ভালোবাসি।’
বন্ধুকে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে তিনি আরো লিখেছেন, ‘এক ভালোবাসা ও আফসোসের নাম হয়ে রইলেন নির্মাতা মারুফ হোসেন সজীব। এই আমাদের শেষ ছবি, আমাদের শেষ কাজ - ‘বকপক্ষীর পিরিতি’। এখনও কাজটা রিলিজ হলো না। ভাই আমার চলে গেলেন। আল্লাহ তায়ালা আপনি আমার ভাইকে শান্তিতে রাখুন। আপনারা আমার ভাইয়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করবেন।’
সজীবের মৃত্যুতে শুধু সহকর্মী নয়, তার নির্মিত নাটকের দর্শকরাও শোকাহত। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কিছু জনপ্রিয় নাটক নির্মাণ করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘বিলোপ’, ‘বাবুই পাখির বাসা’, ‘রঙিন কাগজ’, ‘আধার’, ‘সিকিউরিটি গার্ল’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য’, ‘হাসি’, ‘বিকেল বেলার ছাদ’, ‘দুষ্ট মিষ্টি প্রেম’, ‘আদরের চাঁদ’, ‘জোড়া শালিকের ঘর’সহ আরো বেশ কিছু নাটক।
জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত কাজের সঙ্গেই ছিলেন মারুফ হোসেন সজীব। ‘বকপক্ষীর পিরিতি’ ছিল খায়রুল বাসারের সঙ্গে তার শেষ কাজ। ছবিটি এখনো মুক্তি পায়নি। তার আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন এই নির্মাতা।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে শোবিজ অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। সহকর্মীদের স্মৃতিতে এখন সজীবের সঙ্গে কাটানো দিন, আড্ডা, পরিকল্পনা আর অসম্পূর্ণ স্বপ্নগুলোই বারবার ফিরে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী মার্কেট থেকে শুরু করে মিরপুর-২ নম্বরের সনি স্কয়ার পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী।
অভিযান চলাকালীন রাস্তা ও ফুটপাতের উভয় পাশে গড়ে ওঠা সকল ধরনের অবৈধ স্থাপনা, দোকানপাট এবং হকার উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি, কোনো অনুমোদন ছাড়া ঝুলিয়ে রাখা বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ড এবং ইউনিপোল সাইনও অপসারণ করা হয়েছে। উচ্ছেদকৃত দোকানপাটের বিপুল পরিমাণ মালামাল জব্দ করেছে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মহানগর আনসার পশ্চিম জোন কমান্ডারের নির্দেশে ঢাকা মহানগর আনসার ব্যাটালিয়ন (৪১বিএন) এর বিভিন্ন পদবির ৩০ জন সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েন ছিলেন। থানা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তার (মিরপুর) উপস্থিতিতে আনসার ব্যাটালিয়ন সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও এই অভিযানে অংশগ্রহণ করে। দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অভিযানটি কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আদালত অধ্যাপক আবুল বারকাতের নামে থাকা দুটি ফ্ল্যাটসহ ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ২৯ লাখ টাকার গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে এই আদেশ প্রদান করেন।
জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত আড়াই লাখ টাকা এবং মোহাম্মদপুর ও ধানমণ্ডিতে অবস্থিত দুটি পৃথক ফ্ল্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, তার নামে থাকা ২৯ লাখ টাকার গাড়ি এবং ব্যাংক হিসাবের অর্থও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ এদিন আবেদনটি দাখিল করেন। তিনি তার আবেদনে উল্লেখ করেন যে, ড. আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানিকে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। অনুসন্ধানকালে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আবুল বারকাতের নিজ নামে ৪৯ লাখ ৬১ হাজার ৩৮৪ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং তিন কোটি ৫০ লাখ ৩১ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ২৫০ মার্কিন ডলারের অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, তিনি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদগুলো বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। অভিযোগ নিষ্পত্তির আগে অবৈধ সম্পত্তিগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা রূপান্তর/বিক্রি হলে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতির কারণ হবে। তাই সম্পত্তিগুলো জব্দ ও অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের ১০ জুলাই ঢাকার ধানমণ্ডির বাসা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দুদকের মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে ব্যবসায়ী ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে এই মামলায় জামিনে তিনি মুক্তি পান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুরে ডিলারের গুদাম থেকে কৃষকদের জোর করে সারের বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজিবপুর বাজারের মেসার্স শফিউর রহমানের ডিলার পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।
কৃষকদের অভিযোগ, ভোর থেকে গুদামের সামনে সার নিতে অপেক্ষা করলেও নির্ধারিত সময়ে বিতরণ শুরু হয়নি।
এদিকে, ডিলার বাড়িতে বসে কিছু কৃষককে সারের স্লিপ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা গুদামে ঢুকে কয়েক বস্তা সার নিয়ে যান বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ডিলার শফিউল রহমান দাবি করেন, গুদামে ৫০০ বস্তা ইউরিয়া ছিল। স্লিপধারী কৃষকদের সার নিতে বাধা দেওয়ার পর কিছু ব্যক্তি গুদামে হামলা করে সার নিয়ে যান। তবে কত বস্তা নিয়েছেন তার হিসাব নাই।
তবে উপজেলা প্রশাসন সার লুটের ঘটনা অস্বীকার করেছে। রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ইউএনও সায়েকুল হাসান খান বলেন, কিছু কৃষক বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে পুলিশ ও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজিবপুর থানার ওসি শাহীনুর আলম বলেন, সার লুটের চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা প্রতিহত করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি হতদরিদ্র নারীর চুরি হওয়া গরু উদ্ধার করা হয়েছে বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে। এই ঘটনায় বিএনপি নেতা সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে দল থেকে শোকজ করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
শোকজপ্রাপ্ত বিএনপি নেতার নাম দেলোয়ার হোসেন দেলু। তিনি উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
আরো পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ প্রণোদনা বাতিল হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটরা ইউনিয়নের নলছারা জোয়ার বাড়ির হতদরিদ্র হতি বেগমের দুটি গরু ১০ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে চুরি হয়। এরপর থেকে গরু দুটির সন্ধানে স্বজন ও স্থানীয়রা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে বিএনপি নেতা দেলোয়ারের গোয়ালঘরে চুরি যাওয়া একটি গরুর সন্ধান পাওয়া যায়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তার বাড়ির সামনে ও আশপাশে লোকজন জড়ো হতে থাকে। পরে রামগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে গরুটি উদ্ধার করে তাদের হেফাজতে নেয়।
নলছারা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, সকালে দেলোয়ার তাকে ফোন করে গরুটি নিয়ে যেতে বলেন। দেলোয়ার তার কাছে জানান, নলছারা গ্রামের তাজুল ইসলাম (তাজু) ও আলাউদ্দিন কালা নামে দুই ব্যক্তি গরুটি তার গোয়ালঘরে রেখে গেছেন।
তবে চুরি হওয়া গরু কিভাবে ওই নেতার গোয়ালঘরে গেল—এ প্রশ্নকে ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলু বলেন, "গরু চোররা গভীর রাতে আমার গোয়ালঘরে এনে গরু রেখে যায়। কালু মিয়া ও তাজু পরদিন ফোন দিয়ে গরুটি বিক্রির কথা বলেন। পরবর্তীতে আমি গরু ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করি।"
ভোলাকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম মজুমদার বলেন, "ঘটনাটি দুঃখজনক। দলের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে শোকজ করা হয়েছে। আগামী তিনদিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গরুটি কিভাবে ওই গোয়ালঘরে গেল এবং ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ