ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

পাকিস্তানে নতুন পোলিও শনাক্ত, আক্রান্তের সংখ্যা ৯ জনে পৌঁছেছে


পাকিস্তানে নতুন পোলিও শনাক্ত, আক্রান্তের সংখ্যা ৯ জনে পৌঁছেছে

পাকিস্তানে নতুন করে পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা সাত মাস বয়সী এক শিশুর শরীরে পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের খাইবার জেলায় শিশুটির সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়। এই ঘটনা ঘটার পর চলতি বছর দেশটিতে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছেছে।

পাকিস্তানের পোলিও নির্মূলবিষয়ক আঞ্চলিক রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এই সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আক্রান্ত শিশুটি খাইবার জেলার বারা তহসিলের বাসিন্দা।

পাকিস্তানের পোলিও নির্মূল কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, খাইবার জেলায় শনাক্ত হওয়া তিনটি সংক্রমণের ভাইরাসের সঙ্গে আফগানিস্তানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের জিনগত মিল রয়েছে। চলতি বছর আফগানিস্তানে পোলিও আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছেছে। ফলে দুই দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাইরাসটির বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত

নতুন সংক্রমণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পোলিও নির্মূল দলের সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, চারটি প্রদেশ সফর করে এক সপ্তাহের মধ্যে রোগটি নির্মূলে সমন্বিত কৌশল তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি তিনি পোলিওর বিরুদ্ধে চলমান কার্যক্রমকে আরো জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উল্লেখ করেছেন, "পোলিও টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাঁদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দেওয়াকে সরকার অগ্রাধিকার দেবে।" তিনি বিশেষ করে নিরাপত্তার অভাব ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে যেসব এলাকায় টিকাদান ব্যাহত হয়েছে, সেসব এলাকায় বাড়তি নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি সারা দেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে পোলিও আক্রান্ত ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রমকে জোরদার করতে বলেছেন।

বৈঠকে জানানো হয়, চলতি বছর পাকিস্তানে ৯ জনের শরীরে পোলিও শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সাতজন এবং সিন্ধু প্রদেশে দুইজন আক্রান্ত হয়েছেন। খাইবার পাখতুনখোয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন খাইবার, তিনজন বান্নু এবং একজন উত্তর ওয়াজিরিস্তানের বাসিন্দা। সিন্ধুতে আক্রান্ত দুজনের একজন করাচি পূর্ব এবং অন্যজন সুজাওয়াল জেলার।

আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড

কর্মকর্তারা জানান, খাইবার জেলায় শনাক্ত হওয়া তিনটি সংক্রমণই আফগানিস্তান থেকে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। সীমান্ত পেরিয়ে মানুষের চলাচলও পাকিস্তানে ভাইরাসটির বিস্তারের অন্যতম কারণ।

সিন্ধু প্রদেশে পরিবেশগত নমুনায় পোলিওভাইরাসের উপস্থিতি আগের তুলনায় কমেছে। পাঞ্জাবে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ২০২৫ ও ২০২৬ সালজুড়েও বেলুচিস্তানে কোনো সংক্রমণের খবর পাওয়া যায়নি। আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তানও পোলিওমুক্ত রয়েছে।

কর্মকর্তারা আরো জানান, টিকাদান কর্মীদের নিরাপত্তা বাড়ানো এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে তাদের কাজের সুযোগ বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বিজেপি সরকারের সমালোচনা করায় তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্ন তারকাকে ‘শুভেচ্ছাদূত’ করায় তোপের মুখে হামজার সাবেক ক্লাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


পর্ন তারকাকে ‘শুভেচ্ছাদূত’ করায় তোপের মুখে হামজার সাবেক ক্লাব

অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং লেস্টার সিটির প্রধান জার্সির স্পন্সর ‘বিসি ডট গেম’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন রাশিয়ান অ্যাডাল্ট কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ই-স্পোর্টস স্ট্রিমার ইভা এলফি। এই ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই লেস্টার সিটির সমর্থক গোষ্ঠী ‘ফক্সেস ট্রাস্ট’ ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

সমর্থকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্পন্সর প্রতিষ্ঠানটির একটি প্রচারণামূলক ভিডিওতে ইভা এলফিকে এক ডেলিভারিম্যানের সামনে আবেদনময় ভঙ্গিতে দেখা যায়। তারা বলছেন, এই ধরনের বিতর্কিত প্রচারণার সঙ্গে নিজেদের ব্র্যান্ডকে যুক্ত করে লেস্টার সিটি তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘পারিবারিক ও সুশৃঙ্খল ক্লাব’-এর ভাবমূর্তি থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে।

কারাসাও ভিত্তিক এই অনলাইন ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরু থেকেই লেস্টার সিটির প্রধান জার্সি স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে। তবে, এই প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাজ্যে কোনো বৈধ অপারেটিং লাইসেন্স নেই। সমর্থক গোষ্ঠী এই চুক্তির বিরোধিতা করে আসছে।

ফক্সেস ট্রাস্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্লাব কর্তৃপক্ষ কেবল একটি জুয়া কোম্পানির সঙ্গে হাত মেলায়নি, বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে বেছে নিয়েছে যার যুক্তরাজ্যে কোনো লাইসেন্স নেই। তাদের অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং তারা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়া খেলার সুযোগ দেয়। এখন তাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে এমন একজনকে যিনি অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট তৈরি করে পরিচিতি পেয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জুয়া এবং পর্নোগ্রাফি—দুটি বিষয়ই মানুষের জীবনে, বিশেষ করে তরুণদের জীবনে মারাত্মক ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের অংশীদারি সেই দুই জগতকে আরো বড় দর্শকদের সামনে নিয়ে আসছে এবং ক্লাবের নামের সঙ্গে তাদের যুক্ত করছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে, "আমরা কি সত্যিই এখন এমন ক্লাব হতে যাচ্ছি?"

‘আমাদের মৌসুম শেষের সমীক্ষায় দেখা গেছে ৭৩ শতাংশ সমর্থক এই স্পন্সরশিপ নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন, যেখানে মাত্র ৫ শতাংশ সমর্থক সন্তুষ্ট ছিলেন। ভক্তদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, জার্সিতে ওই প্রতিষ্ঠানের লোগো ছাড়া সংস্করণটিই যেন তারা ক্রয় করেন।’

এছাড়া, ২০২৫ সালের মে মাসে ‘কোলিশন টু এন্ড গ্যাম্বলিং অ্যাডস’ লেস্টার সিটিকে একটি চিঠি দিয়েছিল এবং যুক্তরাজ্যের জুয়া নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা ‘গ্যাম্বলিং কমিশন’-কে জুয়া পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানটির প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল।

তাদের দাবি ছিল, ‘বিসি ডট গেম’ যুক্তরাজ্যে লাইসেন্সপ্রাপ্ত না হলেও খুব সহজেই তাদের প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে।

বিতর্ক বৃদ্ধি পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার লেস্টার সিটি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "আমাদের প্রধান পার্টনারের সাম্প্রতিক বিষয়গুলো নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা ক্লাব অনুধাবন করছে। আমরা তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলেছি এবং উভয় পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য একটি সমাধানের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টেলর ও বেনেটের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের ৫০৪ রানের পাহাড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


টেলর ও বেনেটের সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের ৫০৪ রানের পাহাড়

জিম্বাবুয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে বড় সংগ্রহ অর্জন করেছে ব্রেন্ডন টেলর ও অধিনায়ক ব্রায়ান বেনেটের জোড়া সেঞ্চুরির মাধ্যমে। শারজায় অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে সফরকারীরা নিজেদের প্রথম ইনিংসে ১৩৪.৩ ওভারে ৫০৪ রানে অলআউট হয়। আফগানিস্তান দ্বিতীয় সেশনের শেষে ১.৫ ওভারে বিনা উইকেটে ৪ রান তুলেছে, ফলে তারা এখনো ৫০০ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় প্রথম দিন শেষে ৫ উইকেটে ৩২৬ রান নিয়ে। আগের দিন ৭১ রানে অপরাজিত থাকা বেনেট এদিন ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরি তুলে নেন। ২০৬ বল মোকাবেলা করে ১২৮ রানের ইনিংসে ১১টি চার মারেন তিনি। অন্যদিকে ওয়েসলি মাধেভেরে ৫৪ রান করেন। ষষ্ঠ উইকেটে তাঁদের জুটি থেকে আসে ১২১ রান।

এর আগে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অসাধারণ ইনিংস খেলেন ব্রেন্ডন টেলর। তিনি ১৬৮ বল খেলে ১৩১ রান করেন, যার মধ্যে ছিল ১৪টি চার ও চারটি ছক্কা। বেন কারেন ৪২ এবং ইনোসেন্ট কাইয়া ৩৪ রান করে জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহ গঠনে সহায়তা করেন।

শেষ দিকে উইকেটরক্ষক ব্যাটার তাফাদজওয়া সিগা ৪৪ রান করেন এবং গ্রায়েম ক্রেমার ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন। ফলে জিম্বাবুয়ে ৫০৪ রানের সংগ্রহ পায়। আফগানিস্তানের পক্ষে কাইস আহমদ ও মোহাম্মদ সেলিম তিনটি করে উইকেট নেন, জিয়াউর রহমান দুটি এবং জিয়া-উর-রেহমান একটি উইকেট পান।

জিম্বাবুয়ের বিশাল সংগ্রহের জবাবে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুতেই আতালকে হারিয়েছে। সেদিকুল্লাহ আতাল ১১ বলে ৬ রান করে মুজারাবানির বলে আউট হন। আবদুল মালিক শূন্য রানে অপরাজিত আছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান আকাশসীমায় ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


পাকিস্তান আকাশসীমায় ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করছে?

গত মাসে পাকিস্তান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে ‘চায়না এয়ারলাইন্স’ এবং ‘ইভা এয়ার’কে বাধা দেওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে, যা ইসলামাবাদের ‘এক চীন নীতি’তে বেইজিংয়ের প্রভাবের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ মন্তব্য করেছেন, ‘চীনের এক চীন নীতি অনুসরণ করে পাকিস্তানের আকাশসীমায় কেবল মূল ভূখণ্ডের চীনা বিমান সংস্থাগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।’ এই পদক্ষেপটি অস্বাভাবিক ছিল, কারণ চীনও তাইওয়ানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোর ওপর এমন বিধিনিষেধ আরোপ করে না।

যদিও এই নিষেধাজ্ঞাটি আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং উভয় বিমান সংস্থাকে ২০২৭ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। এই সময়সীমার পরে কী হবে, সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

পাকিস্তান ও তাইওয়ানের মধ্যে সম্পর্ক খুবই সীমিত। ইসলামাবাদ কঠোরভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে চলে এবং চীনের সঙ্গে ‘অটল বন্ধুত্ব’ বজায় রাখে। তাইওয়ানে ৯০০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নাগরিক বসবাস করেন, যাদের মধ্যে ছাত্র, রেস্তোরাঁর মালিক এবং অন্যান্য পেশাজীবী অন্তর্ভুক্ত। দুই পক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি ফ্লাইট নেই এবং আগেও ছিল না। দক্ষিণ এশিয়া এবং তাইওয়ানের মধ্যে একমাত্র বিমান সংযোগ হলো তাইপে-দিল্লি রুট, যা ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

পাকিস্তানের এই নিষেধাজ্ঞাটি ছিল ‘এক চীন নীতি’র প্রতি ইসলামাবাদের স্বাভাবিক আনুগত্যের চেয়েও কঠোর। ইসলামাবাদ এই নীতির অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক, যা নিয়মিতভাবে পুনর্ব্যক্ত করে। চীনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে নিঃশর্ত সমর্থন করে। পাকিস্তানের কঠোর আনুগত্যের অর্থ হলো- তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা, তাইওয়ান চীনের অংশ বলে বেইজিংয়ের দাবি মেনে নেওয়া এবং তাইপের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক বজায় না রাখা। তবে নীতিটিকে ভিন্নভাবে দেখা হয়। চীনের এই নীতি যেসব দেশ মেনে চলে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ এখনও তাইওয়ানে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং অনানুষ্ঠানিক কার্যালয় বজায় রাখে।

এর আগেও বিভিন্ন দেশ রাজনৈতিক কারণে তাইওয়ানের বিমান চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। চলতি বছরের এপ্রিলে সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে তাইওয়ানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে'র আফ্রিকার একমাত্র কূটনৈতিক মিত্র এসওয়াতিনিতে পরিকল্পিত সফরটি সাময়িকভাবে বাতিল হয়ে যায়। যদিও প্রেসিডেন্টের ফ্লাইটে বিধিনিষেধ আরোপ করা এবং বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলোকে আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার অস্বীকার করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

তাহলে, পাকিস্তানে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ কী হতে পারে? এটি কি চীনের 'ধূসর অঞ্চলের' কার্যকলাপের সম্প্রসারণ ছিল? অথবা চীন-পাকিস্তানের সর্বকালীন বন্ধুত্ব থেকে উদ্ভূত আনুগত্যের প্রকাশ?

পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা রয়েছে। প্রথমটি হলো, চীন ‘এক চীন নীতি’কে শক্তিশালী করতে, তাইওয়ানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততাকে নিরুৎসাহিত করতে এবং তার সহযোগীদের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব প্রদর্শন করতে পাকিস্তানকে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বলেছে। তাইওয়ান বিষয়ে চীনের অবস্থানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সমর্থক হিসেবেই পাকিস্তান রয়েছে।

দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো, পাকিস্তান চীনের প্রতি তার আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য নিজ উদ্যোগে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, বিশেষ করে এমন এক সময়ে- যখন দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী। মক্কা চুক্তি হয়তো বেইজিংকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদের প্রেরণা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে, বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের অন্যতম প্রধান অংশ চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরটি একটি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। বেইজিংয়ের জন্য এটি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে নয়। এই প্রেক্ষাপটে, এই নিষেধাজ্ঞাটি হয়তো একটি প্রতীকী পদক্ষেপ ছিল, যা দেখিয়ে দেয় যে, ওয়াশিংটনের কাছাকাছি আসার জন্য পাকিস্তানের প্রচেষ্টা চীনের সঙ্গে তার সম্পর্কের বিনিময়ে হয়নি। যদিও এরপর আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, অন্তত আপাতত- বেইজিংয়ের কাছে বার্তাটি ইতিমধ্যেই পৌঁছে গেছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে যাতায়াতকারী তাইওয়ানের ফ্লাইটগুলোর জন্য পাকিস্তানের আকাশসীমা সুবিধাজনক। ২০২৭ সালের মার্চের সময়সীমার পর যদি পুনরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়, তবে তাইওয়ানের জন্য এর দীর্ঘমেয়াদী বড় কোনো প্রভাব নাও পড়তে পারে। তবে ফ্লাইট পথ পরিবর্তন হলে এই রুটগুলোতে পরিচালনার সময়কাল ও খরচ বেড়ে যাবে। এই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয় যে, পাকিস্তান চীনের কাছে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে চায় এবং তাইওয়ানকে প্রভাবিত করে এমন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সুবিধা প্রদর্শন করতেও ইচ্ছুক।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, এটি কোনো নজির স্থাপন করে কি না। চীন একই ধরনের চাপ ব্যবহার করে বেইজিংয়ের ঘনিষ্ঠ এবং ‘এক চীন নীতি’ কঠোরভাবে মেনে চলা অন্যান্য দেশগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে, যা তাইওয়ানের বিমান সংস্থাগুলোর জন্য সমস্যা তৈরি করবে- বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থায় (আইসিএও) তাইপের কোনো প্রতিনিধিত্ব না থাকায়। বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করাও তাইওয়ানের ওপর চাপ প্রয়োগের আরেকটি সম্ভাব্য উপায় হয়ে উঠতে পারে।

এই সিদ্ধান্তটি পাকিস্তানের ওপর চীনের অপ্রতিরোধ্য প্রভাব এবং বেইজিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনে ইসলামাবাদের আরো এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার একটি প্রমাণ। কিন্তু এটি পাকিস্তানের জন্য তেমন কোনো উপকারে আসে না। বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর ‘এক চীন নীতি’ প্রয়োগ করা হলে তা এমন একটি বিধিনিষেধ- যার রাজনৈতিক সংকেত দেওয়া ছাড়া তেমন কোনো সুফল নেই। আরো সমস্যাজনক হলো, পাকিস্তান এই নীতির নিজস্ব ব্যাখ্যাকে এমন সব ক্ষেত্রে প্রসারিত করতে প্রস্তুত, যা ঐতিহ্যগতভাবে এর সঙ্গে যুক্ত নয়।

তথ্যসূত্র : লোয়ি ইনস্টিটিউট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিলেটে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলে ১২ জন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৬ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


সিলেটে নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিলে ১২ জন আটক

সিলেটে নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের মিছিলের ঘটনায় পুলিশ ১২ জনকে আটক করেছে, যারা ব্যানার ও ফ্যাস্টুনসহ ছিলেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নগরের জেলরোড এলাকা থেকে শুরু করে ধোপাদিঘিরপাড় পর্যন্ত ‘সিলেট মহানগর যুবলীগ’-এর ব্যানারে এই মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন জকিগঞ্জের শামসুল ইসলামের ছেলে মো. শাহেক আহমেদ (৩২), ইব্রাহিম আলীর ছেলে মোহাম্মদ সেলিম আহমেদ (৩৭), আবুল কালামের ছেলে মুন্না আহমেদ (২৯), কানাইঘাটের ফরিদ আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), মেজবাহ উদ্দিনের ছেলে তানিম ইকবাল (১৯), নুরুল হকের ছেলে সালেহ আহমেদ (১৮), নসির আহমেদের ছেলে কিবরিয়া আহমেদ (৩০), মৃত মকবুল আলীর ছেলে আলী আহমদ (৪৫), মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে এন এম নাদিম (২০), দক্ষিণ সুরমার লিমন আহমেদের ছেলে ফাহিম হাসান রবি (১৮), আব্দুল মালিক খানের ছেলে জাকের খান (২৯) এবং রেহান উল্লাহর ছেলে জুনায়েদ আহমেদ (৩৮)।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে সিলেট মহানগর যুবলীগের ব্যানারে মিছিলটি বের হয়। এতে সংগঠনটির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের সময় উপস্থিত ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও শেখ হাসিনার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে আটক করে। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি ব্যানার, পাঁচটি ফেস্টুন এবং ১৫টি লাল রঙের ক্যাপ উদ্ধার করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. আফজার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%