০৫:০২ পি.এম
তুরস্কের পার্লামেন্ট সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে অনুমোদন প্রদান করেছে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, যদি কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হয়, তাহলে অন্যান্য দেশগুলোকে তার সহায়তায় এগিয়ে আসতে হবে। এই চুক্তির ফলে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়ানোর পথ আরও সুগম হলো তুরস্কের জন্য।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) তুরস্কের পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়। এর আগে গত আগস্টে মক্কায় সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তুরস্ক। গত মাসে অনুমোদনের জন্য এটি পার্লামেন্টে পাঠানো হয়।
বার্তা সংস্থা আনাদোলুর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পার্লামেন্টে চুক্তির প্রথম অনুচ্ছেদ অনুমোদিত হয়। এরপর ডেপুটি স্পিকার জেলাল আদান অধিবেশন মুলতবি করেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে আইনপ্রণেতারা চুক্তির বাকি অনুচ্ছেদগুলো নিয়ে আলোচনা করেন।
আরও পড়ুন: আরব উপসাগরে তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নাবিক নিহত
চূড়ান্তভাবে চুক্তির পক্ষে ২৭৯টি এবং বিপক্ষে ১১৯টি ভোট পড়ে। পার্লামেন্টের ৫৯২ সদস্যের মধ্যে ভোটে অংশ নেন ৩৯৮ জন।
রয়টার্সের হাতে আসা তুরস্কের পার্লামেন্টের নথি অনুযায়ী, চুক্তিটিতে মোট ১৬টি অনুচ্ছেদ রয়েছে। প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সদস্যদেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি হুমকি দূর করতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো ‘সব প্রয়োজনীয় উপায়’ ব্যবহার করবে। কোনো সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে এই অনুচ্ছেদ কার্যকর হবে।
চুক্তির দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কোনো সদস্যদেশ অন্য কোনো দেশ বা দেশের জোটের সশস্ত্র হামলা কিংবা সামরিক আগ্রাসনের শিকার হয়, তাহলে অন্য সদস্যরা অবিলম্বে তাকে সহায়তা দেবে। পারস্পরিক সহযোগিতার সব ধরনের ব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে আক্রান্ত দেশকে সহযোগিতা করতে হবে।
এই প্রতিরক্ষা চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ধারাটি ন্যাটো জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তির ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ন্যাটোর ওই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যদেশ আক্রান্ত হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
আরও পড়ুন: দোষী সাব্যস্ত রাসেল ব্র্যান্ড
তবে তুরস্ক একই সঙ্গে ন্যাটো ও মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও সম্পদ ব্যবহারে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হতে পারে বলে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। যদিও তুরস্কের কর্মকর্তারা এসব আশঙ্কাকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
চুক্তির অন্যান্য অনুচ্ছেদে প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা, সামরিক সমন্বয় এবং সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় সদস্যদেশগুলো যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং রসদ ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে।
অনুমোদিত খসড়া অনুযায়ী, চুক্তিটি ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে। এরপর সদস্যদেশগুলো চাইলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে। বিদ্যমান সদস্যদের সম্মতি সাপেক্ষে অন্য দেশগুলোরও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সিরিয়া।
তবে পার্লামেন্টে চুক্তি অনুমোদন পেলেই সৌদি আরবে তুরস্কের সেনা মোতায়েন নিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশটিতে তুর্কি সেনা পাঠাতে হলে আরও কিছু আইনগত ও সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
আরও পড়ুন: বিজেপি সরকারের সমালোচনা করায় তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটর গ্রেপ্তার
তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের গত অক্টোবরে বলেছিলেন, চুক্তি অনুমোদনের পর সৌদি আরবকে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘হুথিদের সঙ্গে কোনো সংঘাতে জড়ানোর পরিকল্পনা আমাদের একেবারেই নেই।’ বরং সৌদি আরবকে দেওয়া সহায়তার লক্ষ্য হবে প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা। সূত্র: আল জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন