০৬:০২ পি.এম
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান জোরালো আলোচনা ও কথোপকথনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত তিনজনের নামই সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে।
এই পদে উচ্চারিত তিন নাম হলো- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় সূত্র মতে, শনিবার (১ আগস্ট) দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে একাধিক সূত্রের দাবী, এই বিষয়টি আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে অতীতের মতোই স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্তের ভার দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ছেড়ে দেবার পক্ষে মত প্রকাশ করতে পারেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে কেউ কেউ বিষয়টি উপস্থাপন করতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: দেশে সবচেয়ে বেশি হরিলুট হচ্ছে স্বাস্থ্যখাতে: এমপি নাসের রহমান
দলীয় আলোচনা সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের দাবী অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কেবল দলীয় রাজনীতি নয়, বরং দেশের সামগ্রিক কূটনৈতিক ভারসাম্য, সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। যদিও বিভিন্ন পর্যায় থেকে নানান মতামত পাওয়া যাচ্ছে, তবে শেষ পর্যন্ত এমন একজনকে বেছে নেওয়ার চিন্তা রয়েছে, যিনি দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য, অভিজ্ঞ এবং বিতর্কের ঊর্ধ্বে বলে বিবেচিত হন।
অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খান: এই প্রেক্ষাপটে অধ্যাপক ড. আবদুল মঈন খানের নাম বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তার উচ্চশিক্ষা পদার্থবিজ্ঞানে, নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে গবেষণা, আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ, পরিকল্পনা, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন এবং সরকারি ও রাজনৈতিক কলাকৌশলে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা মিলে তার প্রোফাইলকে শক্তিশালী হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। নিউক্লিয়ার পদার্থবিজ্ঞানে তার গবেষণা এবং প্রযুক্তি খাতে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ: এদিকে, হাফিজ উদ্দিন আহমেদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংবিধানিক ও সংসদীয় অভিজ্ঞতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, তৃণমূল থেকে জাতীয় নেতৃত্বে পৌঁছানো এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো বিবেচনায় রয়েছে বলে অনেকে মত প্রকাশ করছেন।
আরও পড়ুন: গণমাধ্যমই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ: প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল
স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান মন্তব্য করেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য। কে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন খান বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজনকে বেছে নেওয়া উচিত, যার কোনো অগ্রহণযোগ্য ব্যাড রেকর্ড নেই, দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং রাষ্ট্রের প্রতি যার দায়বদ্ধতা থাকবে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভাকে অনেক সময় অভিভাবকশূন্য মনে হয়। তিনি আরও জানান, তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমার মনে হয়, অবসরপ্রাপ্ত কোনো জ্যেষ্ঠ বিচারপতির মতো অভিজ্ঞ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে থাকলে সরকার ও রাষ্ট্র- উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
মহিউদ্দিন খান আরও বলেন, যদি দলীয়ভাবে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হয়, তাহলে এমন একজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে বেছে নেওয়া উচিত, যার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই এবং যার একটি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। তবে দুই যুগ আগে সরকারে থাকাকালীন বিএনপি যাদের (বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ইয়াজউদ্দিন আহমদ) রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছিল, নতুন করে এমন কোনো ব্যক্তিত্বকে এ পদে নির্বাচন করা উচিত হবে না।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধনীতে বিরোধীদল সহযোগিতা করছে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন