ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

যে ৫ ভুলে বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেল পর্তুগালের


যে ৫ ভুলে বিশ্বকাপ যাত্রা থেমে গেল পর্তুগালের

 

২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারার মাধ্যমে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের একমাত্র গোলে মিকেল মেরিনো স্পেনের জয় নিশ্চিত করেন। এই হারের ফলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ এবং বর্ণাঢ্য অধ্যায়েরও শেষ হলো বিশ্বকাপের মাঠে।

ম্যাচের পর্যালোচনার মাধ্যমে দেখা গেছে, স্পেনের অসাধারণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পর্তুগালের কিছু কৌশলগত ভুলও ছিল তাদের বিদায়ের অন্যতম কারণ।

আরও পড়ুন: সাভার-আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে ৮৮ কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠছে

ভারতীয় ফুটবলারদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি ৪১ বছর বয়সী একটি বটবৃক্ষের মতো আক্রমণ চালানোর মূল ভরসা হিসেবে ছিলেন, পুরো ম্যাচজুড়ে তার গতি ও তীক্ষ্ণতা আগের মতো না থাকায় বেশ কিছু আক্রমণ প্রতিরোধ হয়ে যায়। ম্যাচের শেষের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগেও তিনি সফল হতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে, বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী মিডফিল্ড থাকা সত্ত্বেও পর্তুগালের আক্রমণে একেবারে স্বাভাবিক ছন্দ ছিল না।

রক্ষণাত্মক কৌশলকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার কারণে ম্যাচটিকে দেননি।

এমনকি ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস ও ব্রুনো ফের্নান্ডেজের মতো সৃজনশীল মিডফিল্ডার থাকা সত্ত্বেও পুরো ম্যাচে পর্তুগাল রক্ষণাত্মক এবং পাল্টা আক্রমণের মধ্যে আটকে পড়েছিল। তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার পরিবর্তে বারবার রক্ষণে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিল, যা স্পেনের কাছে সুযোগ করে দেয়।

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের নিন্দা জানালেন এমপি নূরুন্নিসা

সহজ সুযোগগুলোকে নষ্ট করার বিষয়টি ছিল মারাত্মক।

ম্যাচে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেও পর্তুগাল গোলতে ব্যর্থ হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধের শেষের দিকে বের্নার্দো সিলভা ছয় গজ দূর থেকে হেডে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন। তার আগেও ব্রুনো ফের্নান্দেজ ভালো অবস্থানে থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট হন। এই মিস করাই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

শেষ মুহূর্তে রক্ষণভাগের অসতর্কতা ছিল চিন্তার বিষয়।

অতিরিক্ত সময়ে দ্রুত ফ্রি-কিক থেকে স্পেন দ্রুত আক্রমণ সাজায়। সেই মুহূর্তে পর্তুগালের রক্ষণভাগ সম্পূর্ণ অগোছালো অবস্থায় ছিল। ফেরান তোরেসের পাস থেকে মিকেল মেরিনোর করা গোলটির পিছনে ছিল পর্তুগিজ ডিফেন্সের এক মুহূর্তের মনোযোগের অভাব।

আরও পড়ুন: ৬৪ টেস্টে ২২৯ উইকেট, সাদা জার্সিকে বিদায় জানালেন শামি

মানসিক দৃঢ়তার অভাব এবং পরিকল্পনার ঘাটতি স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।

পুরো ম্যাচ জুড়ে পর্তুগাল আত্মবিশ্বাসী মনে হয়নি। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার মতো স্পষ্ট পরিকল্পনা বা আগ্রাসী মানসিকতা দেখা যায়নি। প্রতিভাবান খেলোয়াড়ে পরিপূর্ণ দলর হয়েও তারা গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়।

স্পেনের কাছে হারের পেছনে প্রতিপক্ষের দক্ষতার পাশাপাশি পর্তুগালের কৌশলগত ভুল, সুযোগ নষ্ট এবং রক্ষণভাগের অসতর্কতাগুলো বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর অধ্যায় শেষ হয়েছে। একই সঙ্গে, পর্তুগালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কোচের কৌশল এবং দল পুনর্গঠন নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ার লক্ষণও ঘটছে।

আরও পড়ুন: ইংলিশ ক্রিকেটার ব্রায়ান ডিভাইন পন্টিংকে মাঠে আঙুল ফুটিয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ এম


বিশ্বকাপ ভেন্যুর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ৬০০ ড্রোন জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে খেলার ভেন্যু এবং সমর্থকদের জমায়েতের এলাকাগুলোর আশপাশে ৬০০টির বেশি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।

সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

টিএসএ জানায়, ১১ জুন বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্টেডিয়াম ও ফ্যান জোনের নিষিদ্ধ আকাশসীমায় অনুমতি ছাড়া ড্রোন উড়ানোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

এসব ড্রোন নিরাপত্তার স্বার্থে জব্দ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, খেলার দিন স্টেডিয়ামের চারপাশে তিন নটিক্যাল মাইল এলাকাজুড়ে এবং মাটি থেকে ৩ হাজার ফুট বা প্রায় ৯১৪ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকে।

এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ড্রোনও রয়েছে।

তবে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমতি থাকলে এই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক ১১টি শহরের প্রতিটিতেই নিষিদ্ধ আকাশসীমা থেকে ড্রোন জব্দ করা হয়েছে।

অর্থাৎ কোনো আয়োজক শহরই এ ধরনের ঘটনার বাইরে ছিল না।

এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মায়ামিতেই এখন পর্যন্ত ১৩০টি ড্রোন জব্দ করা হয়েছে। এবং ডালাসে পাঁচটি ম্যাচ চলাকালে ৭০টির বেশি ড্রোন আটক করা হয়েছে।

ফেডারেল বিমান চলাচল প্রশাসন (এফএএ) জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচের স্টেডিয়াম এবং সংশ্লিষ্ট সমর্থকদের জমায়েতের এলাকায় ড্রোন উড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

ফ্যান জোনের এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে এবং মাটি থেকে এক হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।

এফবিআই সতর্ক করে বলেছে, অনুমতি ছাড়া কেউ নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে।

পাশাপাশি ফৌজদারি মামলাও হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ড্রোন জব্দ করা হবে।

ইউক্রেন ইস্যুতে রাশিয়াকে আলোচনায় আনতে চীনকে নরওয়ের আহ্বান

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বকাপের স্টেডিয়ামগুলোর আশপাশে এফবিআইয়ের বিশেষ দল মোতায়েন রয়েছে।

এসব দল বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া উড়ানো ড্রোন শনাক্ত এবং প্রয়োজনে নিষ্ক্রিয় করছে।

গত সপ্তাহে এ ধরনের একটি ঘটনার জেরে ৪০ বছর বয়সী মেক্সিকোর নাগরিক ক্রিস্তোবাল তোরেস আলভারেজের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ডালাসের একটি স্টেডিয়ামে ম্যাচ শুরুর আগে তিনি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় একটি ড্রোন উড়িয়েছিলেন।

ড্রোনজনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র আগেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকিস্বরূপ ড্রোন প্রতিরোধে দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার জন্য একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ টেক্সাসে যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে নতুন ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্থাপন করে।

গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় ক্রীড়া আসরে ড্রোন-সংক্রান্ত একাধিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

২০২৫ সালে বাল্টিমোরে ন্যাশনাল ফুটবল লিগের (এনএফএল) একটি প্লে-অফ ম্যাচের সময় নিষিদ্ধ আকাশসীমায় ড্রোন ওড়ানোর অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়।

পরে তিনি আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ এম


অধিভুক্ত কলেজগুলোর জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা প্রদান করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ই-মেইল ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অফিসিয়াল ই-মেইল আইডি (কলেজ কোড@nu.ac.bd) ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো ই-মেইল আইডি থেকে পাঠানো আবেদন, তথ্য বা বার্তা কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি কলেজ পরিদর্শন দপ্তর থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপনে এসব নির্দেশনা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অনেক অধিভুক্ত কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন বিষয়ে অনলাইনে আবেদন বা তথ্য পাঠানোর জন্য এখনো ব্যক্তিগত বা অন্য ই-মেইল ব্যবহার করছে। এর ফলে দাপ্তরিক কার্যকলাপে বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।

আবেদন যাচাই-এর ক্ষেত্রে জটিলতা এতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পরিণত হচ্ছে।

এ অবস্থায়, কলেজ পরিদর্শন দপ্তরের ই-মেইল ([email protected])-এ কোনো আবেদন বা তথ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রদান করা অফিসিয়াল ই-মেইল আইডি (কলেজ কোড@nu.ac.bd) ব্যবহার করতে হবে। ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো ই-মেইল থেকে পাঠানো আবেদন বা তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপর্যস্ত জনজীবন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫১ এম


জ্বালানি সংকটে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপর্যস্ত জনজীবন

জ্বালানি সংকটের কারণে কিউবায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) দেখা দিয়েছে সোমবার (৬ জুলাই)। বৈদ্যুতিক গ্রিড সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার ফলে দেশটির প্রায় ১ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সরবরাহ একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানা গেছে যে, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ কবে পর্যন্ত ঠিক হবে, তা নিশ্চিত করা যায়নি। কিউবার রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কম্পানি 'ইলেকট্রিক ইউনিয়ন' জানিয়েছে, গ্রিড ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করার জন্য বিশেষ প্রোটোকল চালু করা হয়েছে। মূলত, গত জানুয়ারি মাস থেকেই কিউবায় জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাতে তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর থেকে এই সংকট আরও বাড়ে। এর ফলে, দেশের বাইরে থেকে তেল আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। টানা বিদ্যুৎ না থাকার কারণে কিউবার সাধারণ জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। গণপরিবহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। হাসপাতালগুলোতে জরুরি অস্ত্রোপচার হাজার হাজার বাতিল করতে হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় পানি এবং গ্যাসের সরবরাহও বিঘ্নিত হয়েছে। হাভানার ৩৬ বছর বয়সী বাসিন্দা লিনা মে বলেন, ‘বাবাকে বলেছি এখন কাঠকয়লা কিনতে হবে, নাহলে আমরা না খেয়েই মারা যাব।’ আরেক বাসিন্দা মারিও পেদ্রোসো হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে দেশে তেল আসছে না। কষ্ট সহ্য করা ছাড়া এখন আমাদের আর কোনো উপায় নেই।’ কিউবা তাদের চাহিদার ৪০ শতাংশ জ্বালানি নিজে উৎপাদন করতে পারে। বাকিটা আমদানির ওপর নির্ভরশীল। গত মার্চ মাসের শেষে রাশিয়া থেকে ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল এলেও এপ্রিলের শেষে তা ফুরিয়ে যায়। জ্বালানি বাঁচাতে, সরকার প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছিল, যা অনেক সময় ২৪ ঘণ্টা পর্যন্তও চলে গিয়েছে। এর আগে, মার্চ ও মে মাসেও কিউবায় এমন বড় ধরনের ব্ল্যাকআউট বা বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পণ্যবোঝাই ২৫০ কনটেইনার ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের টানাপোড়েন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৫৩ এম


পণ্যবোঝাই ২৫০ কনটেইনার ঘিরে চট্টগ্রাম বন্দর-কাস্টমসের টানাপোড়েন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গত চার বছরে আমদানি করা ২৫০টি পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কাস্টমস হাউজের মধ্যে শুরু হয়েছে টানাপোড়েন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মধ্যে পাল্টাপাল্টি চিঠি চালাচালি চলছে। কাস্টমস হাউজের অভিযোগ, ছয় দফা চিঠি দিয়েও কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি হলো, নিয়ম মেনেই ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। বাকিগুলো বিভিন্ন অফডক ও নিলামের জন্য সংরক্ষণ করা আছে।

বিদেশ থেকে আমদানি করা কোনো পণ্য যদি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়, তাহলে কাস্টমসের শুল্কায়নসহ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হলেই তা ডেলিভারি দেয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজ বন্দরের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, পণ্যবোঝাই ২৫০টি কনটেইনারের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।

চিঠিতে বোঝানো হয়, ২০২১ সালে ৮৩টি, ২০২২ সালে ৬১টি, ২০২৩ সালে ৪০টি এবং ২০২৪ সালে ৬৬টি কনটেইনারের অবস্থান জানা যায়নি। চোরাচালান, রাজস্ব ফাঁকি বা সন্দেহজনক পণ্যের তথ্য পাওয়ায় এসব কনটেইনার খালাস স্থগিত অথবা লক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার শরীফ মো. আল আমিন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পণ্যচালানের ক্ষেত্রে আগের তথ্য, বিভিন্ন উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করেই পুরো চালানে লক দেয়া হয়।

অন্যদিকে, বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কাস্টমসের অভিযোগে উল্লেখ করা ২৫০টি কনটেইনারের মধ্যে ১৬৪টি পণ্যচালানে ২৯৩টি এফসিএল বক্স এবং ৮৩টি পণ্যচালানে এলসিএল কার্গো রয়েছে। এর মধ্যে কাস্টমসের আউটপাসের মাধ্যমে ৮৮টি কনটেইনার ডেলিভারি দেয়া হয়েছে। ৭০টি কনটেইনার বিভিন্ন প্রাইভেট ডিপোতে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং ১৩১টি কনটেইনার এখনো বন্দরের ইয়ার্ডে রয়েছে। এছাড়া কাস্টমসের চিঠিতে ৪০টি চালানের ভুল বিএল নম্বর উল্লেখ করা হয়েছিল।

বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, কোনো কনটেইনারও হারিয়ে যায়নি। এ নিয়ে সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাস্টমসকে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, কোনো কনটেইনার বা পণ্যচালান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কিছু নির্দিষ্ট পণ্যচালানের তথ্য চেয়েছিল এবং তার জবাবে বিস্তারিত তথ্য পাঠানো হয়েছে।

আমদানি করা পণ্যবোঝাই কনটেইনারের হদিস না পাওয়া নিয়ে দুই সংস্থার এই চিঠি চালাচালি দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে যেমন পণ্য গায়েব হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়, তেমনি আমদানিকারকরাও কাঙ্ক্ষিত পণ্য না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিস্তারিত তদন্ত করে এ জটিলতার সমাধান করতে হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম সাইফুল আলম বলেন, কনটেইনার উধাও হওয়ার পেছনে কোনো দুষ্টচক্র থাকতে পারে। এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেই খুঁজে বের করতে হবে।

বাফার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, চোরাচালানের সঙ্গে জড়িতদের অনেক সময় কনটেইনারে যে পণ্য আনে, তার সঠিক ঘোষণা দেওয়া হয় না। আমরা ব্যবসায়ীরাও চাই, ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা আর না ঘটুক।

প্রতি বছর চট্টগ্রাম বন্দরে ৩৪ থেকে ৩৫ লাখ আমদানি-রফতানি কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়। এসব কনটেইনার বন্দরে প্রবেশ ও ডেলিভারির সময় অন্তত চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করতে হয়। জনপ্রিয় চোরাচালান বা শুল্ক ফাঁকির সন্দেহ হলে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করে পণ্যের ডেলিভারি আটকে দিয়ে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কায়িক পরীক্ষা করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%