০১:১৬ পি.এম
বরিশালের বানাড়ীপাড়ায় শ্রমিক দলের নেতা যে বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গরদ্বার গ্রামে শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এটি পরিবারসহ বাদী রাসেলের হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এই আক্রমণের ফলে তার ঘর আগুনে পুড়ে যায়।
আরও পড়ুন: মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, মাদারীপুরে ৭ বাড়িতে আগুন, ৪০ ঘরে ভাঙচুর-লুটপাট
ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।
এছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন, সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার, বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী, বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী, আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
এই মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।
আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সম্মাননা পেলেন চার চালক
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তাদের সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ফের খবর আসে যে আগুন নিভে গেছে, তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে হয়নি।
মামলার আসামি আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।"
মামলার অন্যতম আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল জানিয়েছেন, তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না এবং তাকে আসামি করা হয়েছে এমন কিছু বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।
বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের হত্যা: গুরুদাসপুরের ওসি প্রত্যাহার, এমপি ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।
বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। উল্লেখ্য, আসামীদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন